📌 বুয়েটের ছাত্র মারজুক রাসেলের জীবনকথায় জানা যায়, কৈশোরে প্রেমের অনুভূতি থেকে নিজেকে বাঁচাতে হয়েছিল পরিবারের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে। তিনি বলেন, প্রেমের বিলাসিতা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে হয়েছিল পড়াশোনা ও পরিবারের অভাব দূর করার জন্য
বুয়েটের ছাত্র মারজুক রাসেলের জীবনকথা একটা গভীর প্রশ্ন তুলে ধরেছে: কেন কৈশোরের সেই স্বপ্নের রং থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে হয়? তিনি বলেছেন, ‘আমি তো প্রেমে পড়িনি, প্রেম আমার উপরে পড়েছে’। কিন্তু জীবনের বাস্তবতা তাকে এই অনুভূতিগুলোকে চেপে রাখতে বাধ্য করেছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মারজুক রাসেল বলেছেন, কৈশোরে প্রেমের অনুভূতি থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে হয়েছিল কারণ ‘পেটে ভাতের সংস্থান নেই’।
- 📌 পড়াশোনা ও পরিবারের অভাব দূর করার জন্য তিনি প্রেমের বিলাসিতা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে চেষ্টা করেছিলেন।
- 📌 বন্ধুরা প্রেমের প্রস্তাব দিলেও তিনি নিজের আত্মসম্মান রক্ষার জন্য সেগুলো প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
- 📌 বুয়েটে পড়ার সময় তিনি প্রেমকে ‘পোষা কুকুরের মতো’ তুলনা করেছিলেন, যেখানে প্রেমিক মালিকের ইচ্ছামতো কাজ করে।
- 📌 প্রেমের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি নিজেকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন, কারণ বন্ধুরা প্রেমের বিলাসিতা থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারছিল না।
- 📌 মুঠোফোনের দাম ও কল ব্যাকের বাধ্যতামূলকতা তাকে আরো বেশি প্রেম থেকে দূরে রাখত।
- 📌 প্রাক্তন ছাত্রী তাকে মনে মনে পছন্দ করতেন, কিন্তু পরিবারের বাধা তাকে প্রেমের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছিল।
📰 বিস্তারিত
মারজুক রাসেলের জীবনকথায় দেখা যায়, কৈশোরের সেই স্বপ্নের রং থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে হয়েছিল অর্থনৈতিক সংকটের কারণে। তিনি বলেন, ‘আমার দাদির একটা প্রবাদ ছিল— ‘ভাতের কুড়কুড়ি কি যৌবনের কুড়কুড়ি’। সহজ কথায়, পেটে ভাত থাকলে সবই ভালো লাগে, কিন্তু পেটে ক্ষুধা থাকলে আর কিছুই ভালো লাগে না।’ তিনি পদ্মার পাড়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, যেখানে জীবনের সংকট ছিল সর্বত্র।
পড়াশোনা ছিল তার জীবনের একমাত্র রক্ষাকবচ। তিনি বলেন, ‘পড়াশোনা উঠল চাঙে’ যখন বন্ধুরা প্রেমের প্রস্তাব দিতে শুরু করল। কিন্তু তিনি নিজের পড়াশোনা ও পরিবারের অভাব দূর করার জন্য এই বিলাসিতা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে বাধ্য হন। তিনি বলেন, ‘আমি তাই পাড়ার মোড়ের দোকানে বসে নচিকেতার গান শুনি আর নিজেকে নিজেই প্রেরণা জোগাই— ‘এই তুমি কি আমায় ভালোবাসো? যদি না বাসো, তবে পরোয়া করি না’।’
বুয়েটে ভর্তি হওয়ার পর বন্ধুরা সবাই প্রেম করতে শুরু করলেন। কিন্তু তিনি নিজের আত্মসম্মান রক্ষার জন্য সেদিকে পা বাড়াননি। তিনি বলেন, ‘আমাদের সহপাঠী এক মেয়ে তার কাছ থেকে সর্বোচ্চ সুযোগ–সুবিধা নিয়েছিল। এরপর যখন সে সেই মেয়েকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল, মেয়েটা তৎক্ষণাৎ জানিয়ে দিয়েছিল— ‘আমি তোমাকে ভালো বন্ধু বলেই জানতাম, সেই তুমিও আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে!’’
মারজুক রাসেল প্রেমকে ‘পোষা কুকুরের মতো’ তুলনা করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘পোষা কুকুর যেমন মনিবভক্ত হয়, প্রেমিকও ঠিক তেমন। মালিকের দরকারের সময় তুতু করে ডাকলেই লেজ নাড়তে নাড়তে বেচারা কুকুর হাজির। আবার কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে গেলেই মালিক কষে পেছনে একটা লাথি দেন।’ তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে প্রেমের বিলাসিতা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করেছিলেন।
"আমি তো প্রেমে পড়িনি, প্রেম আমার উপরে পড়েছে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মারজুক রাসেল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ জন (লাক্স চ্যানেল আই ফটোসুন্দরীর প্রথম ২০ জনের মধ্যে একজন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!