📌 'স্যরি' বলতে বড়রা ছোট হয়ে যায় না — বরং মনের গভীরে শান্তি এনে দেয়। প্রথম আলোর লেখক বিশ্বজিৎ চৌধুরী বর্ণনা করেছেন কীভাবে একটি আন্তরিক ক্ষমাপ্রার্থনা জীবনের সম্পর্ক মেরামত করতে পারে
মনের ভুল আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করতে আমরা কখনোই বিব্রত বোধ করি না। 'স্যরি' বললে আমি ছোট হয়ে যাব, এই ভয় আমাদেরকে মনের কথা মুখে উচ্চারণ করতে বাধা দেয়। কিন্তু একবার আন্তরিকভাবে 'দুঃখিত' বললে, প্রিয়জন, সহকর্মী বা আত্মীয় আপনাকে বুকে টেনে নেবেন। এই ক্ষমাপ্রার্থনার শক্তি নিয়ে প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক বিশ্বজিৎ চৌধুরী একটি গল্পের মাধ্যমে আলোকপাত করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 'স্যরি' বললে ক্ষমতা বা অবস্থান হারায় না — বরং মনের গভীরে শান্তি এনে দেয় এবং সম্পর্ক মেরামত করতে পারে
- 📌 একজন অধস্তন কর্মীকে 'স্যরি' বলার মাধ্যমে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (মোস্তাফিজুর রহমান) আকরামের মনকে নিরাময় করেন
- 📌 ক্ষমাপ্রার্থনার তিনটি প্রধান বাধা: ১) আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে অবজ্ঞা করা, ২) ভাবমূর্তির ক্ষতি ভয়, ৩) ক্ষমা প্রার্থনা করলেও কোনো ফল না আসবে বলে মনে করা
- 📌 মার্কিন বিজ্ঞানী বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনের মতে, ক্ষমাপ্রার্থনার ব্যাপারটিকে অজুহাত দিয়ে বরবাদ করা উচিত নয়
- 📌 'ভালোবাসা মানে তুমি কখনোই স্যরি বলবে না' — এই কথাটি সত্য নয়, বরং দুঃখিত বলার মাধ্যমে সম্পর্ক মেরামত করা যায়
📰 বিস্তারিত
আকরামের স্বভাব জানতেন নাসরিন। নিজে নিজেই বিড়বিড় করতেন তিনি, 'লোকটা কী মনে করে আমাদের, আমরা সবাই গরু-ছাগল?' স্বামীর এই স্বভাব জানতেন নাসরিন। কিন্তু কাল রাতে মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে ফোনে কথা বলার পর আকরামের মন পরিবর্তিত হয়। তিনি অফিসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। নাসরিনের প্রশ্নে আকরাম বলেন, 'ওটা তো রাগের কথা। আফটার অল মোস্তাফিজ সাহেব আমার বাবার মতো মানুষ। নিজের হাত ধরে কাজ শিখিয়েছেন।'
মোস্তাফিজুর রহমানের 'স্যরি' বলার মাধ্যমে আকরামের মন নিরাময় হয়। এই ক্ষমাপ্রার্থনা জীবনের অনেক সম্পর্ক মেরামত করতে পারে। শিক্ষক-ছাত্র, পিতা-মাতা-সন্তান, বন্ধু-প্রিয়জন, স্বামী-স্ত্রী — সব ক্ষেত্রেই 'দুঃখিত' বলার মতো মন্ত্রের মতো কাজ করতে পারে। কানাডীয় কার্টুনিস্ট লিন জনস্টোনের মতে, ক্ষমাপ্রার্থনা হচ্ছে সুপার গ্লুর মতো বিষয় যা জীবনের যেকোনো বিষয়কে মেরামত করতে পারে।
বিশ্বজিৎ চৌধুরী উল্লেখ করেছেন, 'স্যরি' বলার তিনটি প্রধান বাধা রয়েছে। প্রথমত, আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে অবজ্ঞা করা বা তাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে না করা। দ্বিতীয়ত, ক্ষমা প্রার্থনা করলে নিজের ভাবমূর্তির ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে ভয়। তৃতীয়ত, ক্ষমা প্রার্থনা করলেও কোনো কাজ হবে না বলে ধারণা করা। কিন্তু এই দ্বিধা ঝেড়ে ফেলতে হবে। যদি আমরা মনে করি আমাদের আচরণ কারও মনঃকষ্টের কারণ হয়েছে এবং আমরা সম্পর্কটা মেরামত করতে চাই, তাহলে আন্তরিকভাবে 'দুঃখিত' বলা সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
"লাভ মিনস নেভার হ্যাভিং সে ইউ আর স্যরি" — এই কথাটি সত্য নয়। দুঃখিত বলার মাধ্যমে সম্পর্ক মেরামত করা যায়। স্যরি বলার মতো মনের জোর সবার থাকে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: (গল্পের কাহিনি, কোনো নির্দিষ্ট স্থান উল্লেখ নেই)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিশ্বজিৎ চৌধুরী (প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক), আকরাম, নাসরিন, মোস্তাফিজুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ (অক্টোবর মাসের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ নেই)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!