📌 বাংলাদেশের নদীমাতৃক সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ নৌকাবাইচ। বর্ষাকালে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় মাঝিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা আর সারিগানের মাধ্যমে ফুটে ওঠে বাঙালির ঐক্য ও শ্রমের গৌরব। কোক স্টুডিও বাংলার মাধ্যমে পুনর্জীবিত হয়েছে এই ঐতিহ্যবাহী গান
বাংলাদেশের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে নৌকাবাইচ। দেশের অসংখ্য নদ-নদীর সঙ্গে মিশে থাকা এই প্রতিযোগিতা শুধু খেলা নয়, এটি বাঙালির জীবনযাপন আর আনন্দের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ‘বাইচ’ শব্দটি ফারসি থেকে এসেছে, যার অর্থ খেলা বা বাজি। বর্ষাকালে যখন নদীগুলো পানিতে টইটম্বুর থাকে, তখনই আয়োজন করা হয় এই মহাযজ্ঞ। সাধারণত ভাদ্র-আশ্বিন মাসে অনুষ্ঠিত হওয়া এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় বিভিন্ন অঞ্চলের মাঝিরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ‘বাইচ’ শব্দটি ফারসি থেকে এসেছে, যার অর্থ খেলা বা বাজি
- 📌 বাংলাদেশে নৌকাবাইচ আয়োজন করা হয় মূলত ভাদ্র-আশ্বিন মাসে
- 📌 সারিগান হলো নৌকাবাইচের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ, যেখানে মাঝিরা সম্মিলিতভাবে গান গেয়ে নৌকার গতি নিয়ন্ত্রণ করেন
- 📌 ২০২৩ সালের ৭ মে কোক স্টুডিও বাংলার দ্বিতীয় মৌসুমে প্রকাশিত হয় ‘দেওরা’ গানটি, যা সারিগানকে নতুনভাবে পরিচিত করে তোলে
- 📌 সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের উড়ন্ত বলাকা নৌকার মাঝি ফজলু মিয়া রচনা করেন ‘দেওরা’ গানটি
📰 বিস্তারিত
নদীমাতৃক বাংলাদেশের সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে নৌকাবাইচ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নদীগুলো শুধু পানি প্রবাহিত করে না, বরং বহন করে বাঙালির জীবনযাপন আর আনন্দের ঐতিহ্য। বর্ষাকালে যখন নদীগুলো পানিতে টইটম্বুর থাকে, তখনই আয়োজন করা হয় এই মহাযজ্ঞ। ভাদ্র-আশ্বিন মাসে অনুষ্ঠিত হওয়া এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় বিভিন্ন অঞ্চলের মাঝিরা। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা আর দক্ষতার মাধ্যমে ফুটে ওঠে বাঙালির ঐক্য আর শ্রমের গৌরব।
নৌকাবাইচের সবচেয়ে সুন্দরতম নিদর্শন হলো সারিগান। মাঝিরা যখন বইঠা টানেন, তখন তাল ঠিক রাখতে সম্মিলিত গানের তালে তাঁরা বইঠা ধরেন। এই গানকে বলা হয় সারিগান, যা শ্রমসংগীত বা কর্মসংগীত হিসেবেও পরিচিত। মাঝিরা সারিবদ্ধভাবে বসে বইঠা টানার সময় গান গেয়ে থাকেন বলেই এর নামকরণ। একজন বয়াতির নেতৃত্বে সব মাঝি-মাল্লা একসঙ্গে গেয়ে ওঠেন ‘হেইয়ো হেইয়ো’ সুমিষ্ট ধ্বনি, যা শক্তি বৃদ্ধির সঙ্গে মাঝিদের মনোবল বাড়ায় এবং নৌকার গতি ও তাল ধরে রাখতে সাহায্য করে।
২০২৩ সালের ৭ মে মুক্তি পায় কোক স্টুডিও বাংলার দ্বিতীয় মৌসুমের আলোচিত গান ‘দেওরা’। সংগীতশিল্পী প্রীতম হাসান ও ইসলাম উদ্দিন পালাকারের কণ্ঠে মুক্তির পর গানটি ব্যাপক সাড়া ফেলে। কোক স্টুডিও বাংলার হাত ধরে নতুন করে আলোচনায় আসে বাংলার ঐতিহ্যবাহী সারিগান। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের উড়ন্ত বলাকা নৌকার মাঝি ফজলু মিয়া তাঁর দলের নৌকাবাইচের জন্য ‘দেওরা’ গানটি রচনা করেন। ‘হাতে লাগে ব্যথা রে, হাত ছাইড়া দেও সোনার দেওরা রে’ গানটি কোক স্টুডিও বাংলার কম্পজিশনে দেখা যায়, লাল শাড়ি, রেশমি চুড়ি আর ঝুমকা পরা ভাবিরা এসেছেন দেওরদের অর্থাৎ বাইচালদের উৎসাহ দিতে।
"হাতে লাগে ব্যথা রে, হাত ছাইড়া দেও সোনার দেওরা রে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নদীগুলো
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফজলু মিয়া, প্রীতম হাসান, ইসলাম উদ্দিন পালাকার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ মে (২০২৩)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!