📌 মালয়েশিয়া শ্রমবাজার পুনরায় খোলার ঘোষণা দিলে বাংলাদেশি শ্রমিকদের নতুন আশা জেগেছে। তবে ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা নিয়ে সিন্ডিকেটের জটিলতা ও অভিজ্ঞতা-অভাবের অভিযোগ উঠেছে। অতীতের প্রতারণা ও অতিরিক্ত খরচের অভিযোগের কারণে শ্রমিকদের মধ্যে আশঙ্কা বাড়ছে
মালয়েশিয়া শ্রমবাজার পুনরায় খোলার ঘোষণা দিলে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে নতুন আশা জেগেছে। তবে পুরাতন সিন্ডিকেটের ছায়া ও রিক্রুটিং এজেন্সির অভিজ্ঞতা-অভাবের কারণে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের পর এই ঘোষণা দিলে বাংলাদেশের শ্রমিকদের মনে নতুন আশা জেগেছে, কিন্তু সিন্ডিকেটের জটিলতা ও অতীতের প্রতারণার অভিযোগের কারণে আশঙ্কাও বাড়ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **মালয়েশিয়া** শ্রমবাজার পুনরায় খোলার ঘোষণা দিলে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে নতুন আশা জেগেছে, কিন্তু পুরাতন সিন্ডিকেটের জটিলতা ও অভিযোগের কারণে আশঙ্কা বাড়ছে।
- 📌 **৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা** প্রকাশের পর ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, তালিকায় থাকা অনেক এজেন্সির বিদেশে কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা নেই।
- 📌 **২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত** ১০টি এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সরকার নির্ধারিত খরচের বাইরে শ্রমিকদের কাছ থেকে **২ থেকে ৩ লাখ টাকা** পর্যন্ত অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
- 📌 **২০২২ সালে** আবার শ্রমবাজার খোলার পরও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে, যেখানে শুধু **১০১টি এজেন্সি**ই কাজ পেয়েছে।
- 📌 **মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার** বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার, কিন্তু গত এক দশকে সিন্ডিকেট ও প্রতারণার কারণে বাজারটি একাধিকবার বন্ধ হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের পর বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক পাঠানোর ঘোষণা দিলে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে নতুন আশা জেগেছে। তবে এই ঘোষণার পিছনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশের পর ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, তালিকায় থাকা অনেক এজেন্সির বিদেশে কর্মী পাঠানোর বাস্তব অভিজ্ঞতা নেই। এমনকি লাইসেন্স পাওয়ার পর একজন কর্মীও পাঠায়নি এমন প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, পুরাতন সিন্ডিকেটই নতুন মোড়কে বৈধতা পেতে যাচ্ছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচনে বাংলাদেশ সরকারের হাত নেই। কারণ এ চুক্তির শর্ত আওয়ামী লীগ সরকার তৈরি করেছিল। তবে অন্য পক্ষ দাবি করেছে, মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকেই এজেন্সির তালিকা তৈরি করা হয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, পাকিস্তান ও নেপালের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। এ বিষয়ে দেশগুলো মালয়েশিয়া সরকারের কাছে প্রতিবাদও জানিয়েছে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার। তবে গত এক দশকে সিন্ডিকেট ও অতিরিক্ত খরচের অভিযোগের কারণে বাজারটি একাধিকবার বন্ধ হয়েছে। ২০০৮ সালে নানা অভিযোগে বন্ধ হওয়ার পর ২০১৬ সালে আবার চালু হয়। ২০১৮ সালে দুর্নীতির অভিযোগে বন্ধ করা হয়। ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর নতুন সমঝোতা চুক্তির পর বাজারটি আবার খোলা হয়। ২০২২ সালের আগস্টে বাংলাদেশি কর্মীরা মালয়েশিয়া যেতে শুরু করেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ১ জুন আবার বন্ধ হয়ে যায়।
২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সব কর্মী নিয়োগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সরকার নির্ধারিত খরচ ছিল **৩৩ হাজার ৩৭৫ টাকা**, কিন্তু কর্মীদের কাছ থেকে **২ থেকে ৩ লাখ টাকা** পর্যন্ত অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠে। ওই সময়ে প্রায় **৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা** হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সরকারের পক্ষ থেকেও বার বার অতিরিক্ত টাকা না প্রদানের আহবান জানানো হলেও শ্রমিক তা কর্ণপাত করেননি।
২০২২ সালে আবার শ্রমবাজার খোলার পরও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে। শুরুতে তৎকালীন সরকার **২৫টি** এবং পরবর্তীতে আরও **১০০টি** এজেন্সিকে কাজ দেয়। ওই সময়ে বাংলাদেশে **২ হাজারের বেশি** বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি থাকলেও বাকিরা সরাসরি কাজের সুযোগ পেত না। তাদের চাহিদাপত্র ওই ১০১টি এজেন্সির মাধ্যমে এফডব্লিউসিএমএস সিস্টেমে প্রসেস করতে হতো। এই সিস্টেমের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ করা হয়।
"শুধু সিন্ডিকেট ফি হিসেবে প্রতি কর্মীর কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, মালয়েশিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তারেক রহমান, আনোয়ার ইব্রাহিম, শ্রমিকদের, ব্যবসায়ীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৩৮টি এজেন্সি, ১০টি এজেন্সি, ৩৩ হাজার ৩৭৫ টাকা, ২ থেকে ৩ লাখ টাকা, ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!