📌 ২০২৩ সালের ২১ জুলাই রাতের ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা আবারো উঠে এলো আদালতে। ইতালির ফুটবল তারকা গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা ও তার সঙ্গী আলেসিয়া এলেফান্তে সাক্ষ্য দিলেন। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন স্বীকার করেছেন ডাকাতিতে অংশ নেওয়া, অন্যরা অস্বীকার করলেও আদালতের শুনানি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠল
প্যারিসের এক ভয়াবহ রাতে গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা ও তার সঙ্গী আলেসিয়া এলেফান্তের জীবন বিপন্ন হয়েছিল। সেই রাতের স্মৃতি তিন বছর পর আদালতে ফিরে এলো। ইতালির ফুটবল তারকা দোন্নারুম্মা ও তার সঙ্গী আলেসিয়া এলেফান্তে প্যারিসের নিজ বাড়িতে ডাকাতির শিকার হন ২০২৩ সালের ২১ জুলাই রাত ২টা ৫২ মিনিটে। সেই ঘটনার সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তারা আবারও সেই ভয়াবহ রাতের স্মৃতি ফিরিয়ে আনলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৩ সালের ২১ জুলাই রাত ২টা ৫২ মিনিটে প্যারিসের একটি বাড়িতে চার মুখোশধারী ডাকাতির হামলা চালায়।
- 📌 ২৪ ফুট চওড়া ও ৮ ফুট উঁচু গোলপোস্টের গোলরক্ষক দোন্নারুম্মা ও তার সঙ্গী আলেসিয়া এলেফান্তে মারধর ও হুমকির শিকার হন।
- 📌 ১২ হাজার রিয়ালের নগদ টাকা, একটি মূল্যবান ঘড়ি ও গয়না দাবি করে ডাকাতরা। এলেফান্তে বাধ্য হয়ে সবকিছু তুলে দেন।
- 📌 আলমারির গোপন কোড জানতে চাইলে এলেফান্তে জানান তিনি কোড জানেন না। ক্ষিপ্ত হয়ে ডাকাতরা তাকে আঘাত করেন।
- 📌 ২৪ বছর বয়সী মোকতার দিয়োপ স্বীকার করেন ডাকাতিতে অংশ নেওয়া, কিন্তু দোন্নারুম্মা ও এলেফান্তের ওপর হামলায় জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেন।
- 📌 ২০২৪ সালে কারাগারে মারা যান আরেকজন অভিযুক্ত। দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ককে শিশু আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
- 📌 আদালতের শুনানি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। অভিযুক্তরা পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের আদালত থেকে বের করে দেওয়া হয়।
📰 বিস্তারিত
ফুটবলের বিশ্বের শীর্ষ গোলরক্ষকদের একজন জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা প্যারিসের এক রাতে ডাকাতির শিকার হন। ২০২৩ সালের ২১ জুলাই রাতের ঘটনাটি তিন বছর পর আদালতে উঠে আসে। সেই রাতে চার মুখোশধারী ডাকাতরা দোন্নারুম্মার বাড়িতে আক্রমণ করে। তারা ভবনের ছাদ দিয়ে নেমে আসেন এবং জানালা ভেঙে ঘরে ঢুকে পড়েন। ঘুম ভেঙে চোখ মেলে দেখেন দোন্নারুম্মা, সামনে দাঁড়িয়ে একজন মুখোশধারী। কী ঘটছে তা বুঝে ওঠার আগেই শুরু হয় মারধর। তাঁর দিকে ছুরি নিয়ে আসেন ডাকাতরা। পেছন থেকে আরও দুজন চিৎকার করে জিজ্ঞাসা করেন দামি ঘড়ি ও মূল্যবান জিনিসপত্রের অবস্থান। ভয়ে দোন্নারুম্মা ড্রেসারের ওপর রাখা একটি ঘড়ির দিকে ইঙ্গিত করেন।
তবে ডাকাতরা থামেননি। তারা এলেফান্তেকে বেঁধে ফেলেন এবং টাকা, ঘড়ি ও গয়না দাবি করতে থাকেন। এলেফান্তে বাধ্য হয়ে প্রায় ১২ হাজার রিয়ালের নগদ টাকা, একটি মূল্যবান ঘড়ি এবং বেশ কিছু গয়না তুলে দেন। এরপর ডাকাতদের নজর পড়ে একটি আলমারির দিকে। আলমারির গোপন কোড জানতে চান তারা। এলেফান্তে জানান, তিনি কোড জানেন না। আলমারিতে মূল্যবান কিছু নেইও। এই জবাবে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ডাকাত দল। একপর্যায়ে এলেফান্তের চুল টেনে ধরা হয় এবং পায়েও আঘাত করা হয়। এলেফান্তে জানান, তিনি অন্তঃসত্ত্বা। কিন্তু সেই কথাতেও থামেনি হামলা।
ঘটনার তিন বছর পর সেই রাতের স্মৃতি আবারো ফিরে এলো আদালতে। বর্তমানে প্যারিসের একটি আদালতে ওই ডাকাতির মামলার শুনানি চলছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুই দফায় শুনানি হয়েছে। অভিযুক্ত আসামি তিনজন। তাদের মধ্যে ইলিয়াস খেরবুশ ওরফে ‘গানিতো’ এবং খিয়ান মামুনি ওরফে ‘কিকি’ নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে অন্য আসামি ২৪ বছর বয়সী মোকতার দিয়োপ ডাকাতিতে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। যদিও দোন্নারুম্মা ও এলেফান্তের ওপর হামলায় তিনি জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন। ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করা আরেক ব্যক্তি ২০২৪ সালে কারাগারেই মারা যান। ঘটনার সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকা আরও দুজনকে শিশু আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে তাদের একজনকে তিন বছর এবং অন্যজনকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আদালতে মামলার শুনানিও ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। খেরবুশ ও মামুনি পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের আদালতকক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা এতটাই বেড়ে যায় যে শুনানি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। বর্তমানে দোন্নারুম্মা ম্যানচেস্টার সিটি ফুটবল ক্লাবের হয়ে খেলছেন।
"আমরা সেই রাতের আতঙ্কের স্মৃতি আবারও ফিরে পেয়েছি। আমরা ভয় পেয়েছিলাম, কিন্তু সেই ভয় আর যন্ত্রণা আমাদের জীবনে আরো গভীর ছাপ ফেলেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: প্যারিস, ফ্রান্স
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা, আলেসিয়া এলেফান্তে, ইলিয়াস খেরবুশ (গানিতো), খিয়ান মামুনি (কিকি), মোকতার দিয়োপ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ ফুট (গোলপোস্টের চওড়া), ৮ ফুট (গোলপোস্টের উচ্চতা), ২১ জুলাই ২০২৩, ২টা ৫২ মিনিট, ১২ হাজার রিয়াল, ২৪ বছর (মোকতার দিয়োপের বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!