📌 যশোরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সেলিম শাহ্ কোমল দুই দশক ধরে বৃক্ষরোপণ করে চলেছেন। তিনি ইতোমধ্যে ৯০টি আমগাছসহ ৩০০টির বেশি ফলদ বৃক্ষ রোপণ করেছেন। এবার জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন আরও ৩০০ গাছ রোপণের জন্য
যশোর সদরের তেঘরিয়া গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সেলিম শাহ্ কোমল দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বৃক্ষরোপণ করে চলেছেন। তাঁর এই উদ্যোগ শুধু নিজ এলাকাতেই সীমাবদ্ধ নয়, ছড়িয়ে পড়েছে যশোর সদর ও ঝিকরগাছা উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০০২ সাল থেকে বৃক্ষরোপণ শুরু করেন সেলিম শাহ্ কোমল
- 📌 যশোর সদরের নতুনহাট বাজার এলাকায় প্রথম রোপণ করেন ৯০টি আমগাছের চারা
- 📌 ঝিকরগাছা উপজেলার কয়েকটি এলাকায় গাছ লাগিয়েছেন তিনি
- 📌 জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন আরও ৩০০ ফলদ বৃক্ষ রোপণের জন্য
- 📌 প্রতি বছর ২০ হাজার টাকার বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় ব্যয় করেন
- 📌 তাঁর দুই সন্তান যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত
- 📌 ছেলে শিহাব শাহ্ সুমনও দুই বছর ধরে নিজ উদ্যোগে গাছ লাগাচ্ছেন
📰 বিস্তারিত
সেলিম শাহ্ কোমল জানান, তাঁদের বাড়িতে আগে অনেক আমগাছ ছিল। নিজেরা যেমন আম খেতেন, তেমনি প্রতিবেশীরাও উপকৃত হতেন। ধীরে ধীরে সেই গাছ কমে যাওয়ায় তিনি অনুধাবন করেন যে, যাদের জমি নেই, তাদের জন্য এই সমস্যা আরও প্রকট। এ থেকেই তাঁর বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ শুরু। তিনি বলেন, ‘আমরা তো তবুও আম খেতে পারি, কিন্তু যাদের জায়গাজমি নেই, গাছ নেই, তারা তো খেতে পারছে না।’
২০০২ সালে জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে তিনি সদরের নতুনহাট বাজার এলাকায় প্রথম ৯০টি আমগাছের চারা রোপণ করেন। পরবর্তীতে অন্তত ১৩টি এলাকায় গাছ লাগান তিনি। এছাড়া ঝিকরগাছা উপজেলার কয়েকটি এলাকায়ও বৃক্ষরোপণ করেছেন তিনি। তাঁর লক্ষ্য হলো, ঝিকরগাছা হাসপাতাল রোড হতে কপোতাক্ষ নদ পর্যন্ত রাস্তার দুই ধারে ৩০০ ফলদ বৃক্ষ রোপণ ও পরিচর্যা করা।
কোমল জানান, তাঁর বয়স হয়েছে ৬০ বছর। তিনি এ বছর বৃক্ষরোপণ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করতে চান। তবে রোপণ করা বৃক্ষ আগামী পাঁচ-ছয় বছর পর্যন্ত দেখাশোনা করবেন। তিনি প্রতি বছর ২০ হাজার টাকার বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় ব্যয় করেন। তাঁর রোপণ করা গাছের মধ্যে আম, কাঁঠাল, বেল ও বিদেশি গাব রয়েছে। এমনকি একাধিক স্থানে তিনি ছয় থেকে সাতবার পর্যন্ত গাছ লাগিয়েছেন।
তিনি শুধু গাছ লাগিয়ে ক্ষান্ত হননি, খাঁচা, বেড়া, গোবর লেপনসহ গাছের নিরাপত্তায় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এসব কাজ করতে গিয়ে তিনি পরিবার-পরিজন ও এলাকাবাসীর তিরস্কার ও ভর্ৎসনার শিকার হয়েছেন। তবে তিনি বলেন, ‘চৈত্র মাসে প্রতিকূল আবহাওয়ায় একমাত্র ফলদ গাছেই পাতা থাকে। তখন অতিরিক্ত তাপমাত্রা থেকে জীবকুলকে রক্ষা করে একমাত্র ফলদ গাছ।’
‘আমার বয়স ৬০ হয়েছে, এ বছর আমি বৃক্ষরোপণ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করতে চাই। তবে রোপণ করা বৃক্ষ আগামী পাঁচ-ছয় বছর পর্যন্ত দেখাশোনা করব।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যশোর সদর ও ঝিকরগাছা উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সেলিম শাহ্ কোমল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯০টি (প্রথম রোপণ), ৩০০টি (আবেদনকৃত), ৬০ বছর (বয়স), ২০ হাজার টাকা (বার্ষিক ব্যয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!