📌 ঘর থেকে সংসদ পর্যন্ত নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় পাঁচ দফা দাবি তুলেছে নারী সংহতি। সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে নারীদের অবদান থাকলেও রাজনীতিতে তাঁদের অংশগ্রহণ এখনো নিশ্চিত হয়নি
ঢাকায় আয়োজিত এক সমাবেশে ঘর থেকে সংসদ পর্যন্ত নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় পাঁচ দফা দাবি তুলেছে নারী সংহতি। সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকলেও রাজনীতি ও রাষ্ট্র সংস্কারে তাঁদের অংশগ্রহণ এখনো নিশ্চিত হয়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাতীয় সংসদে ৩৩ শতাংশ নারী আইনপ্রণেতা নিশ্চিত করার দাবি
- 📌 ২০৩০ সালের মধ্যে সারা দেশে ডে-কেয়ার সেন্টারের চাহিদা পূরণের প্রতিশ্রুতি
- 📌 সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে ৬০ শতাংশ নারী শিক্ষক রাখার ব্যবস্থা পুনর্বহাল
- 📌 ‘বাল্ক প্রকিউরমেন্ট মডেলের’ মাধ্যমে সব বিদ্যালয়ে অর্ধেক দামে স্যানিটারি প্যাড সরবরাহ
- 📌 সংসদে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন দ্রুত পাসের দাবি
📰 বিস্তারিত
নারী সংহতি জানিয়েছে, দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের পতনে দেশের ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে নারীদের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। তবে জুলাই-পরবর্তী রাজনীতি ও রাষ্ট্র সংস্কারে নারীদের এই অবদানের প্রতিফলন এখনো ঘটেনি বলে অভিযোগ করেছেন সংগঠনটির সভাপতি শ্যামলী শীল। তিনি বলেন, ‘আমরা সংসদে নারীদের জন্য সরাসরি নির্বাচন এবং রাজনৈতিক দলগুলোতে ৩৩ শতাংশ মনোনয়ন নিশ্চিত করার দাবি তুলেছিলাম, যা এখনো উপেক্ষিত রয়ে গেছে।’
নারী সংহতির সহসাধারণ সম্পাদক রেবেকা নীলা জানান, সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সুবিধা চাহিদার তুলনায় মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ। তাঁর মতে, প্রতিটি ওয়ার্ডে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা সরকারের পক্ষে অসম্ভব নয়; প্রয়োজন শুধু সদিচ্ছার। গবেষণায় দেখা গেছে, সন্তান লালন-পালনের জায়গার অভাবে প্রায় ৭৩ শতাংশ কর্মজীবী নারীকে চাকরি ছাড়তে হয়। অনেক মধ্যবিত্ত নারী শিশুকে ঘরে একা তালাবদ্ধ রেখে অফিসে যান বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নারী সংহতির পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে জাতীয় সংসদে ৩৩ শতাংশ নারী আইনপ্রণেতা নিশ্চিত করা; ২০৩০ সালের মধ্যে সারা দেশে ডে-কেয়ার সেন্টারের চাহিদা পূরণ করা; সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে ৬০ শতাংশ নারী শিক্ষক নেওয়ার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা; ‘বাল্ক প্রকিউরমেন্ট মডেলের’ মাধ্যমে সব বিদ্যালয়ে অর্ধেক দামে স্যানিটারি প্যাড সরবরাহ করা এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংসদে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন পাস করা।
‘দেশের ৫১ শতাংশ ভোটার নারী হলেও সংসদে তাঁদের প্রতিনিধিত্ব অত্যন্ত কম। নারীরা কোনো রাজনৈতিক দলের ‘অনুগ্রহ’ বা ‘করুণা’ চান না; নাগরিক হিসেবে তাঁরা ন্যায্য মনোনয়ন ও আসন দাবি করেন।’ — তাসলিমা আখতার, বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপতি
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফারহানা মুনা অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনে যেসব নারী অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন, তাঁদের সুপরিকল্পিতভাবে নীতিনির্ধারণী জায়গা থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া বা নতুন ক্ষমতায়ন কাঠামোতে নারীদের অংশীদারত্ব নিশ্চিত করা হয়নি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শ্যামলী শীল (নারী সংহতি সভাপতি), তাসলিমা আখতার (বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপতি), রেবেকা নীলা (নারী সংহতির সহসাধারণ সম্পাদক), ফারহানা মুনা (বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৩ শতাংশ, ৬০ শতাংশ, ১৫ বছর, ৫১ শতাংশ, ১ থেকে ২ শতাংশ, ৭৩ শতাংশ, ৬০ বছর, ৫০ শতাংশ, ৫ আগস্ট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!