📌 লিফটের ধাতব কাঠামো ফ্যারাডে কেজ হিসেবে কাজ করে বলে ভেতরে মোবাইল নেটওয়ার্ক হারিয়ে যায়। পদার্থবিজ্ঞানী মাইকেল ফ্যারাডের আবিষ্কার এই ঘটনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেয়
বহুতল ভবনের লিফটে প্রবেশ করলেই মোবাইলের সিগন্যাল হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রায় সবারই পরিচিত। কিন্তু কেন এমন হয়? বিজ্ঞানীরা এর পেছনে কারণ হিসেবে ফ্যারাডে কেজ নামক পদার্থবিজ্ঞানের একটি তত্ত্বকে চিহ্নিত করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 লিফটের ধাতব কাঠামো ফ্যারাডে কেজ হিসেবে কাজ করে, যা তড়িৎ–চুম্বকীয় তরঙ্গ প্রবেশে বাধা দেয়
- 📌 লিফটের দরজা খোলা থাকলে সামান্য ফাঁক দিয়ে সিগন্যাল প্রবেশ করতে পারে
- 📌 ধাতব বক্স বা অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল দিয়ে সিল করা ফোনে কল করা সম্ভব হয় না
- 📌 ব্রিটিশ বিজ্ঞানী মাইকেল ফ্যারাডে ১৮৩৬ সালে এই ঘটনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন
📰 বিস্তারিত
লিফটের ভেতরে মোবাইলের নেটওয়ার্ক হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে মূলত ফ্যারাডে কেজ নামক পদার্থবিজ্ঞানের একটি মৌলিক ধারণার কারণে। ফ্যারাডে কেজ হলো এমন একটি ধাতব খাঁচা বা ঘের, যার ভেতর দিয়ে বৈদ্যুতিক চার্জ প্রবাহিত হতে পারে না। লিফটগুলো সাধারণত চারপাশ থেকে ধাতব প্যানেল দিয়ে ঘেরা থাকে, যা একটি নিখুঁত ফ্যারাডে কেজ হিসেবে কাজ করে। ফলে লিফটের ভেতরে প্রবেশ করলেই মোবাইলের সিগন্যাল সম্পূর্ণ হারিয়ে যায়।
এই ঘটনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন ব্রিটিশ পদার্থবিদ মাইকেল ফ্যারাডে। তিনি ১৮৩৬ সালে প্রমাণ করেন যে কোনো পরিবাহীর অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক চার্জ কেবল তার বাইরের পৃষ্ঠে অবস্থান করে এবং এর ভেতরের অংশে কোনো প্রভাব ফেলে না। তাঁর এই আবিষ্কার পরবর্তীকালে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
ঘরে বসেই এই ঘটনার পরীক্ষা করা সম্ভব। একটি ধাতব বক্সের মধ্যে স্মার্টফোন রেখে কল করার চেষ্টা করলে দেখা যাবে ফোনে রিং বাজছে। কিন্তু ফোনটিকে সম্পূর্ণ টিন ফয়েল বা অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল দিয়ে সিল করে দিলে কল করার পরও কোনো রিং বাজবে না। কারণ ফয়েলটি একটি পূর্ণাঙ্গ ফ্যারাডে কেজ তৈরি করে, যা তড়িৎ–চুম্বকীয় তরঙ্গ প্রবেশে সম্পূর্ণ বাধা দেয়।
"ফ্যারাডে কেজ এমন একটি পরিবাহী ধাতব বেষ্টনী বা খাঁচা, যা বাইরের বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র বা তড়িৎ–চুম্বকীয় তরঙ্গকে ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। এর ভেতরের অংশ সব সময় সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বহুতল ভবনের লিফট
- 👥 বৈজ্ঞানিক ব্যক্তিত্ব: মাইকেল ফ্যারাডে
- 🔢 আবিষ্কারের বছর: ১৮৩৬
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!