📌 রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁর ১৫৩ ইউনিয়ন পানিসংকটাপন্ন ঘোষণা করা হলেও বিধিনিষেধের বাস্তবায়ন ব্যর্থ। ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন বন্ধ, পানিসাশ্রয়ী ফসল বাড়ানোর প্রচেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে। স্থানীয় কৃষক ও প্রকৌশলীরা এলাকা চিহ্নিতকরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন
বরেন্দ্র অঞ্চলের তীব্র পানিসংকট মোকাবেলায় অন্তর্বর্তী সরকার ১৫৩ ইউনিয়নকে সংকটাপন্ন ঘোষণা করে ১১টি বিধিনিষেধ জারি করলেও মাঠ পর্যায়ে এসবের কার্যকর বাস্তবায়ন ঘটছে না। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার ২১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪৭টি অতি উচ্চ, ৪০টি উচ্চ এবং ৬৬টি মধ্যম পানিসংকটাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন বন্ধ, পানিসাশ্রয়ী ফসলের আবাদ বাড়ানোর প্রচেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে। স্থানীয় কৃষক ও প্রকৌশলীরা এলাকা চিহ্নিতকরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বলেছেন, কিছু এলাকায় পানি সংকট নেই বলে মনে হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৫৩ ইউনিয়ন পানিসংকটাপন্ন ঘোষণা করা হলেও ১১টি বিধিনিষেধ মাঠে বাস্তবায়ন ব্যর্থ — খাওয়ার পানি ছাড়া নতুন নলকূপ স্থাপন নিষিদ্ধ, ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ লঙ্ঘিত হচ্ছে।
- 📌 ৩ জেলার ২৫ উপজেলার ২১৫ ইউনিয়ন পানিসংকট পর্যায়ক্রমে চিহ্নিত করা হলেও ৪ হাজার ৯১১টি মৌজা মধ্যে ১ হাজার ৪৬৯টি মৌজা অতি উচ্চ সংকটাপন্ন, ৮৮৪টি উচ্চ এবং ১ হাজার ২৪০টি মধ্যম সংকটাপন্ন।
- 📌 পানিসাশ্রয়ী ফসলের আবাদ বাড়ানোর প্রচেষ্টা ব্যর্থ — নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় ৫ ইউনিয়ন পানিসংকটাপন্ন ঘোষণা করা হলেও কৃষকদের উৎসাহিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
- 📌 বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আল মামুনুর রশীদ বলেছেন, উচ্চ সংকটাপন্ন এলাকায় জলাশয় ইজারামুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
- 📌 চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১ হাজার ১০০টি পুকুর সংস্কার করা হলেও সেচের বিকল্প উৎস হিসেবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
📰 বিস্তারিত
পানিসংকট মোকাবেলায় অন্তর্বর্তী সরকার ২২ জানুয়ারি ‘পানিসংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা আদেশ (সংশোধিত)’ গেজেট প্রকাশ করে। এই আদেশে ১৫৩ ইউনিয়নকে ১০ বছরের জন্য পানিসংকটাপন্ন ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই বিধিনিষেধের বাস্তবায়ন মাঠ পর্যায়ে আশানুরূপ নয়। প্রজ্ঞাপনে খাওয়ার পানি ছাড়া অন্য কাজে নতুন নলকূপ স্থাপন ও ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও কৃষক ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এই নির্দেশ মেনে চলা হচ্ছে না।
বরেন্দ্র অঞ্চলের পানিসংকটের মূল কারণ ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের অতিরিক্ত ব্যবহার। পাশাপাশি অধিক পানিনির্ভর ফসলের চাষও সংকটকে তীব্র করেছে। তবে পানিসাশ্রয়ী ফসলের আবাদ বাড়ানোর প্রচেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে। নওগাঁর সাপাহার উপজেলার পাঁচ ইউনিয়ন (আইহাই, গোয়ালা, সাপাহার, শিরণ্ডী ও তিলনা) অতি উচ্চ সংকটাপন্ন ঘোষণা করা হলেও, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেছেন, তিলনা ও সাপাহারে ভূগর্ভস্থ পানির সংকট তীব্র হলেও বাকিগুলোতে সংকট তীব্র নয়।
এছাড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ১ লাখ ২৮ হাজার হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে ৭২ হাজার হেক্টর বিএমডিএর সেচের আওতায় রয়েছে। বাকি ৫৬ হাজার হেক্টর ব্যক্তিগত সেচের অধীনে। বিএমডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আল মামুনুর রশীদ বলেছেন, বেসরকারি সেচে নিয়ম মানা হচ্ছে না। তবে বিএমডিএর অধীন সেচ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ চলছে।
এছাড়া, এলাকা চিহ্নিতকরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের পাঁচটি মৌজা মধ্যম পানিসংকটাপন্ন ঘোষণা করা হলেও, ওই এলাকায় পদ্মা ও মহানন্দা নদী বয়ে গেছে। স্থানীয়রা বলেছেন, ১০ ফুট খুঁড়লেই পানি পাওয়া যায়। তাহলে ওই এলাকা কেন সংকটাপন্ন?
"উচ্চ সংকটাপন্ন এলাকায় জলাশয় ইজারামুক্ত করা সম্ভব হয়নি। এসব এলাকার মধ্যে কিছু এলাকা মোটেও সংকটে নেই বলে স্থানীয় প্রকৌশলী ও কৃষিবিদদের মত।"
বিধিনিষেধ লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হলেও, পানিসাশ্রয়ী ফসলের আবাদ বাড়ানোর প্রচেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের উৎসাহিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া, পুকুর বা খাল ইজারামুক্ত করে বিকল্প সেচে ব্যবহারের সুযোগও হয়নি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ জেলা (বরেন্দ্র অঞ্চল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. আল মামুনুর রশীদ (বিএমডিএ নির্বাহী প্রকৌশলী), মো. মনিরুজ্জামান (উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫৩ ইউনিয়ন, ২১৫ ইউনিয়ন, ৪ হাজার ৯১১ মৌজা, ১ হাজার ১০০ পুকুর, ১১টি বিধিনিষেধ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!