📌 সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ৬৩ জন প্রার্থী ময়মনসিংহ ও জামালপুরে অনশন শুরু করেছেন। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিয়োগ স্থগিত থাকায় তারা দাবি করছে চূড়ান্ত নিয়োগপত্র প্রদান। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ১ অক্টোবর পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া চলবে
ময়মনসিংহ ও জামালপুর জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ৬৩ জন প্রার্থী গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) থেকে অনশন শুরু করেছেন। তারা দাবি করছেন, গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাদের নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান এবং ১ অক্টোবর পর্যন্ত চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ময়মনসিংহে ১১ জন ও জামালপুরে ৫১ জন প্রার্থী অনশনে বসেছেন নিয়োগপত্রের দাবিতে
- 📌 ময়মনসিংহে ২৫৯ জনের মধ্যে ২২ জনের নিয়োগ স্থগিত — তাদের মধ্যে ১১ জন অনশনে বসেছেন
- 📌 জামালপুরে ১৩৬ জনের মধ্যে ৫১ জনের নিয়োগপত্র না পাওয়ায় অনশন চলছে
- 📌 গোয়েন্দা প্রতিবেদনের কথা বলে ২২ জনের নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়েছে — প্রার্থীরা দাবি করছেন ভেরিফিকেশনে ভুল তথ্য থাকতে পারে
- 📌 শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ১ অক্টোবর পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া চলবে
📰 বিস্তারিত
ময়মনসিংহ জেলায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফলে ২৫৯ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। তাদের মধ্যে ১৮ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। বাকি ২৪১ জনের মধ্যে ২১৯ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। তবে ২২ জনের নিয়োগ স্থগিত রয়েছে। এই ২২ জনের মধ্যে ১১ জন বেলা ১১টা থেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অনশনে বসেছেন। তারা দাবি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের তথ্য নেই। তবে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাদের নিয়োগপত্র বাদ দেওয়া হয়েছে। ফুলপুর উপজেলার কাজী অনিক বলেছেন, ‘আমাকে কী কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা জানি না। শুধু বলা হয়েছে ভেরিফিকেশনে রিপোর্ট নেগেটিভ। আমি কখনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না।’
জামালপুরে ১৩৬ জনের মধ্যে ৮৪ জনকে প্রথম ধাপে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। পরে সোমবার আরও একজনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হলেও ৫১ জনের নিয়োগপত্র এখনও পাননি। তারা আজ সকাল থেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের বারান্দায় অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেছেন। অনশনকারীদের মধ্যে কারও হাতে নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র, কারও হাতে প্ল্যাকার্ড এবং কারও গায়ে কাফনের কাপড় দেখা গেছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেছেন, গোয়েন্দা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের নিয়োগ স্থগিত আছে। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ চলছে।
শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেছেন, ১ অক্টোবর পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলবে। তারপর জানা যাবে কতজন বাদ গেল। এরপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
"আমাকে কী কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা আমি জানি না। শুধু বলা হয়েছে ভেরিফিকেশনে রিপোর্ট নেগেটিভ। আমি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়, জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কাজী অনিক (ফুলপুর), মো. শফিকুল ইসলাম (জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা), আ ন ম এহছানুল হক মিলন (শিক্ষা মন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৩ জন অনশনকারী, ২৫৯ জন সুপারিশপ্রাপ্ত (ময়মনসিংহ), ১৩৬ জন সুপারিশপ্রাপ্ত (জামালপুর), ৫১ জন নিয়োগপত্র পাননি (জামালপুর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!