📌 বাণিজ্য ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সিলেটে সুরমা-কুশিয়ারা নদী অববাহিকা উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনে বলেছেন, নদীতীর প্রতিরক্ষা, পুনঃখনন ও সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার ১৭ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রী স্থানীয় জনগণের তদারকি কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন
বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সিলেটে নদীভাঙন ও বন্যা সমস্যা মোকাবেলায় সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপের কথা জানিয়ে বলেছেন, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোকে সুরক্ষিত করার জন্য জরুরি প্রতিরক্ষা কাজের পাশাপাশি নদীতীর সংরক্ষণ, পুনঃখনন এবং সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সিলেট সদর উপজেলায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন ‘সুরমা-কুশিয়ারা নদী অববাহিকার উন্নয়ন এবং বন্যা ও সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’-এর আওতায় কানিশাইলে সুরমা নদীর ডানতীরের নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির ভূমিকায় এসব কথা বলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **সুরমা নদীর ৫টি এলাকায় নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজ**: মীরের চক (৩০০ মিটার), মেহন্দিবাগ (৪০০ মিটার), কানিশাইল (৫৫০ মিটার), টোকের বাজার (৫০০ মিটার) ও মীরেরগাঁও (৫০০ মিটার)
- 📌 **কুশিয়ারা ও বাসিয়া নদী পুনঃখনন ও তীর প্রতিরক্ষা**: পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে
- 📌 **১৭ কিলোমিটার বাঁধ ও সড়ক নির্মাণ পরিকল্পনা**: সুরমা নদীর উভয় তীরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নগরবাসীদের হাঁটার সুবিধা সৃষ্টির লক্ষ্যে
- 📌 **তদারকি কমিটি গঠনের আহ্বান**: মসজিদের ইমাম, স্কুলের প্রধান শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে
- 📌 **সমন্বিত উদ্যোগের জোরদার আহ্বান**: সরকার, সিটি করপোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব
📰 বিস্তারিত
মন্ত্রী বলেন, সুরমা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে তীর প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মীরের চক এলাকায় ৩০০ মিটার, মেহন্দিবাগে ৪০০ মিটার, কানিশাইলে ৫৫০ মিটার, টোকের বাজারে ৫০০ মিটার এবং মীরেরগাঁওয়ে ৫০০ মিটার নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজ। তিনি আরও বলেন, কুশিয়ারা ও বাসিয়া নদী পুনঃখনন, রিজিং এবং আরশারিক নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
মন্ত্রী উন্নয়নকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততার গুরুত্ব জোরালোভাবে তুলে ধরেন। তিনি স্থানীয় মসজিদের ইমাম, স্কুলের প্রধান শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে তদারকি কমিটি গঠনের আহ্বান জানান। এছাড়াও, উন্নয়নকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সিলেটের বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় সুরমা নদীর উভয় তীরে প্রায় ১৭ কিলোমিটার করে বাঁধ ও সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নগরবাসীদের হাঁটার সুবিধা সৃষ্টি হবে এবং নদীকেন্দ্রিক পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।”
মন্ত্রী সিলেটের উন্নয়নকে একটি সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “সরকার, সিটি করপোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সিলেটের নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করে উন্নয়ন কার্যক্রম আরো এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
"সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকা সুরক্ষিত করতে জরুরি প্রতিরক্ষা কাজের পাশাপাশি নদীতীর সংরক্ষণ, পুনঃখনন এবং সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনায় একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিলেট সদর উপজেলা, সুরমা-কুশিয়ারা নদী অববাহিকা
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: বাণিজ্য ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ কিলোমিটার বাঁধ ও সড়ক, ৩০০-৫৫০ মিটার নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!