📌 গুম হওয়া ব্যক্তি নূরে আলম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁর জবানবন্দিতে র্যাবের ছোট সেলে থাকার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, সেখানে শোয়ার পর তাঁর পা শৌচাগারে ঠেকত। ২০১৬ সালে তাঁকে গুম করে রাখা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সপ্তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন গুম হওয়া ব্যক্তি নূরে আলম। তিনি জানান, র্যাবের ছোট সেলে থাকার সময় তাঁর পা শৌচাগার পর্যন্ত ঠেকত। আজ মঙ্গলবার তাঁর এই জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নীলফামারী সরকারি কলেজের ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নূরে আলম
- 📌 ২০১৬ সালের ১২ এপ্রিল রাতে তাঁকে গুম করা হয়
- 📌 র্যাব–৪ থেকে র্যাব–১০–এ স্থানান্তরিত করা হয় তাঁকে
- 📌 র্যাব–১০–এর সেলের প্রস্থ ছিল আড়াই থেকে তিন ফুট এবং দৈর্ঘ্য ছিল সাড়ে ছয় থেকে সাত ফুট
- 📌 সেলের ভেতরে ছিল একটি শৌচাগার ও পানির ট্যাপ
- 📌 সেখানে এক রাত থাকার পর তাঁকে আবার ছোট সেলে রাখা হয়, যেখানে শোয়ার পর তাঁর পা শৌচাগারে ঠেকত
- 📌 ৩০ নভেম্বর ২০১৬ সালে তাঁকে গাড়িতে তুলে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘোরানো হয়
- 📌 পরে তাঁকে একটি বাড়ির দোতলায় নিয়ে মিথ্যা জঙ্গি উদ্ধারের নাটক সাজায় র্যাব
- 📌 চট্টগ্রাম র্যাব-৭–এর তৎকালীন প্রধান কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ তাঁদের চোখ খুলে দেন
- 📌 তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযান পরিচালনার পর আকবর শাহ থানায় হস্তান্তর করা হয়
📰 বিস্তারিত
গুম হওয়া ব্যক্তি নূরে আলম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ তাঁর জবানবন্দিতে জানান, ২০১৬ সালে নীলফামারী সরকারি কলেজের ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন তিনি। ওই বছরের ১২ এপ্রিল রাতে তাঁকে গুম করা হয়। পরে তাঁকে র্যাব–৪ থেকে র্যাব–১০–এ নিয়ে যাওয়া হয়। র্যাব–১০–এর সেলটি ছিল অত্যন্ত ছোট। সেলটির প্রস্থ ছিল আড়াই ফুট থেকে তিন ফুট এবং দৈর্ঘ্য ছিল সাড়ে ছয় ফুট থেকে সাত ফুট। সেই সেলের ভেতরে ছিল একটি শৌচাগার ও একটি পানির ট্যাপ। সেখানে এক রাত থাকার পর তাঁকে আবার ছোট সেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শোয়ার পর তাঁর পা শৌচাগারে ঠেকত। বাঁ দিকে নড়াচড়া করলে তাঁর পা পানির ট্যাপে লাগত।
তিনি আরও জানান, কয়েক দিন পর তাঁকে ও অন্যদের একটি গাড়িতে তোলা হয়। গাড়িটি দেড় ঘণ্টা চলার পর থামে। এরপর তাঁদের একটি বাড়ির দোতলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গুমকারীরা ভারী মালামাল নিয়ে আসে এবং মেঝেতে রাখে। পরে র্যাবের লোকজন দরজা বন্ধ করে দেয়। গাড়িতে সাইরেন বাজানো হয় এবং হ্যান্ডমাইকে চিৎকার করা হয়। তিন থেকে চার ঘণ্টাব্যাপী মিথ্যা জঙ্গি উদ্ধারের নাটক সাজায় র্যাব। পরে চট্টগ্রাম র্যাব-৭–এর তৎকালীন প্রধান কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ তাঁদের চোখ খুলে দেন। তাঁরা সেখানে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র, গোলাবারুদ, বলবেয়ারিং, তার, গুনা, পেরেক ও বই দেখতে পান।
জবানবন্দিতে নূরে আলম বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযান পরিচালনার পর রাতে তাঁদের আকবর শাহ থানায় হস্তান্তর করা হয়। থানার পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে জেলখানায় পাঠায়। পরে তাঁকে র্যাব রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তৎকালীন এএসপি রুহুল আমিন তাঁকে জানান, তাঁকে ডিজিএফআইয়ের লোকজন বাসা থেকে তুলে নিয়েছিল। প্রথমে তাঁকে ডিজিএফআই ও পরে টিএফআই–এর সেলে রাখা হয়েছিল।
"তাঁর গুমের জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ ডিজিএফআই ও র্যাবের লোকজন দায়ী।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নূরে আলম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ জন আসামি ঢাকা সেনানিবাসের সাবজেলে রয়েছেন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!