📌 সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার একমাত্র সরকারি গণপাঠাগারটি এক যুগ ধরে বন্ধ রয়েছে। ২০১৪ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় স্থানীয় শিক্ষার্থী ও পাঠকরা জ্ঞানচর্চা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উপজেলা প্রশাসন অবশেষে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার একমাত্র সরকারি গণপাঠাগারটি এক যুগ ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া এই পাঠাগারটি ২০১৪ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, দরজায় তালা ঝুলছে, নামফলক নেই, আর চারপাশে আগাছায় ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ধর্মপাশা উপজেলার একমাত্র সরকারি গণপাঠাগারটি এক যুগ ধরে বন্ধ রয়েছে
- 📌 ২০১৪ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ভবনের টিনের ছাউনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে কার্যক্রম বন্ধ
- 📌 স্থানীয় শিক্ষার্থী ইয়াদুল ইসলাম জানান, পাঠাগারটি চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন
- 📌 ধর্মপাশা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি আনিসুল হক অভিযোগ করেন, পাঠাগার চালু করার বিষয়ে কারও তেমন আগ্রহ নেই
- 📌 উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় জানান, সরকারি অর্থায়নে সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে এবং শিগগিরই পাঠাগার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে
📰 বিস্তারিত
ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদসংলগ্ন একমাত্র সরকারি গণপাঠাগারটি এক যুগ ধরে বন্ধ রয়েছে। ১৯৯৩ সালে তৎকালীন থানা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান ভূঞার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই পাঠাগারটি একসময় শত শত মূল্যবান বই ও পাঠকের সমাগমে মুখরিত থাকত। তবে দুর্যোগ ও অব্যবস্থাপনার কারণে বারবার বন্ধ হয়ে যায় এর কার্যক্রম।
২০০৪ সালের বন্যায় পানি ঢুকে বই ও আসবাবের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এরপর ২০০৭ সালে উপজেলা প্রশাসন নতুন করে বই সংগ্রহ ও আসবাব সংস্কার করে পাঠাগারটি চালু করলেও ২০০৮ সালে আবারও চুরির ঘটনা ঘটে। এছাড়া ২০১৩ সালে পাঠাগার চালুর দাবিতে ধর্মপাশা সাহিত্য পরিষদের সদস্যরা আমরণ অনশন শুরু করেন। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ভবনের টিনের ছাউনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে পাঠাগারটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
ধর্মপাশা সরকারি ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইয়াদুল ইসলাম বলেন, ‘পড়াশোনা ও জ্ঞানচর্চার জন্য উপজেলার একটি গণপাঠাগার অত্যন্ত প্রয়োজন। পাঠাগারটি দ্রুত চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’ স্কুলশিক্ষক বদিউল ইসলাম বলেন, ‘একসময় পাঠাগারটিতে পাঠকদের জমজমাট আসর বসত। সেই দিনগুলো এখন শুধু স্মৃতি।’
"পাঠাগারটি থেকে চুরি হওয়া বই ও আসবাব আজ পর্যন্ত উদ্ধার হয়নি। তবে পাঠাগারটি আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।"
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় জানান, সরকারি অর্থায়নে দুই সপ্তাহ আগে সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পাঠাগারটি চালুর জন্য শিগগির শিক্ষক, রাজনৈতিক দলের নেতা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সভা করা হবে। এছাড়া পাঠাগারটির আনুষঙ্গিক যেসব সমস্যা রয়েছে, সেসব চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ধর্মপাশা উপজেলা, সুনামগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জনি রায় (ইউএনও), আনিসুল হক (সভাপতি, ধর্মপাশা সাহিত্য পরিষদ), ইয়াদুল ইসলাম (পরীক্ষার্থী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: পাঁচ শতাধিক বই ক্ষতিগ্রস্ত (২০১৪), আট শতাধিক বই চুরি (২০০৮)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!