📌 ৮ নভেম্বর রোববার শ্যামাপূজা ও দীপাবলি উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে এই পূজা শাক্ত ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিশেষ ভাবগাম্ভীর্য ও আলোকসজ্জায় উদযাপিত হয়। ঢাকায় বিভিন্ন মন্দির ও শ্মশানে বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে
৮ নভেম্বর রোববার (৮ নভেম্বর) সারা দেশে শ্যামাপূজা ও দীপাবলি উৎসবের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে শাক্ত ধর্মের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় অনুষ্ঠান। কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে এই পূজা অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও ধর্মীয় আনন্দের মধ্য দিয়ে পালিত হয়। শুভ ও কল্যাণের বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটানোই এই উৎসবের মূল তাৎপর্য।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৮ নভেম্বর রোববার থেকে শুরু হয়ে ৯ নভেম্বর সোমবার সকাল ১১টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথি বলবৎ থাকবে।
- 📌 দেবী কালীকে শাক্ত ধর্মে শক্তির আরাধনা হিসেবে পূজিত করা হয়। তিনি শ্যামা, আদ্য মা, তারা মা, চামুণ্ডি, ভদ্রকালী ও মহামায়া নামে পরিচিত।
- 📌 মধ্যরাতে মন্ত্রোচ্চারণ, পুষ্পাঞ্জলি ও বিশেষ আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মায়ের পূজা সম্পন্ন করা হয়।
- 📌 দীপাবলি উৎসবের সাথে শ্যামাপূজার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সন্ধ্যায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শত শত প্রদীপ জ্বালিয়ে অশুভ আঁধার দূর করে আলোর দিশা ছড়িয়ে দেন।
- 📌 শ্মশানে প্রদীপ জ্বালিয়ে বাবা-মা ও পূর্বপুরুষদের স্মরণ করা হয়। বাঙালি হিন্দুদের কাছে এটি দীপাবলি নামে পরিচিত, তবে অবাঙালি হিন্দুদের কাছে দিওয়ালি নামে সমাদৃত।
- 📌 ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রমনা কালীমন্দির, সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির, পোস্তগোলা মহাশ্মশানসহ ঢাকার বিভিন্ন মন্দির ও শ্মশানে বিশেষ পূজা ও প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
- 📌 শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার ও বাংলাবাজারের আঁকাবাঁকা গলিগুলোতে প্রতিমার সৌন্দর্য ও দীপাবলির আলোকচ্ছটায় উৎসব মুখরিত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
- 📌 সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে মন্দির ও মণ্ডপগুলোর জন্য।
📰 বিস্তারিত
শ্যামাপূজা ও দীপাবলি উৎসবের মূল তাৎপর্য হলো অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ কল্যাণের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া। এই উৎসবের সাথে জড়িত রয়েছে শাক্ত ধর্মের একটি গভীর ঐতিহ্য। দেবী কালীকে শক্তির প্রতীক হিসেবে পূজিত করা হয়। তিনি বিভিন্ন নামে পরিচিত — শ্যামা, আদ্য মা, তারা মা, চামুণ্ডি, ভদ্রকালী ও মহামায়া। সাধারণত মধ্যরাতে মন্ত্রোচ্চারণ, পুষ্পাঞ্জলি ও বিশেষ আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মায়ের পূজা সম্পন্ন করা হয়।
দীপাবলি উৎসবের সাথে শ্যামাপূজার একটি স্বর্গীয় সম্পর্ক রয়েছে। সন্ধ্যায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিজ নিজ গৃহ, আঙিনা ও মন্দির প্রাঙ্গণে শত শত প্রদীপ প্রজ্বালন করেন। একই সাথে শ্মশানে প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রয়াত বাবা-মা, স্বজন ও পূর্বপুরুষদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়। বাঙালি হিন্দুদের কাছে এটি দীপাবলি নামে পরিচিত হলেও অবাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে উৎসবটি মূলত ‘দিওয়ালি’ নামে সমাদৃত।
উৎসব উপলক্ষ্যে ঢাকার প্রধান মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলোতে ভক্তদের সমাগম ও শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। অন্যান্য বড় পূজার মতোই এখানে মৃন্ময়ী (মাটির) প্রতিমা ছাড়াও ধাতব বা পাথরের প্রতিমায় আরাধনা করা হয়। সনাতন ঐতিহ্য অনুযায়ী দেবী কালীকে শ্মশানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী হিসেবে গণ্য করায় পোস্তগোলাসহ দেশের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী মহাশ্মশানে বিশেষ আয়োজনে ‘শ্মশান কালীপূজা’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রাজধানী ঢাকায় এই উৎসবকে কেন্দ্র করে বর্ণিল আলোকসজ্জা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রমনা কালীমন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ, সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির, রায়েরবাজার মন্দির, সবুজবাগের বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির এবং পুরান ঢাকার পোস্তগোলা মহাশ্মশানে বিশেষ পূজা ও প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার ও বাংলাবাজারের আঁকাবাঁকা গলিগুলোতে প্রতিমার সৌন্দর্য আর দীপাবলির আলোকচ্ছটায় উৎসব মুখরিত পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখতে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্দির ও মণ্ডপগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। উৎসবকে কেন্দ্র করে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও আনন্দের বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে।
"কালীপূজা মূলত শক্তির আরাধনা। দেবী দুর্গারই এক বিশেষ রূপ দেবী কালী, যিনি ভক্তদের কাছে শ্যামা, আদ্য মা, তারা মা, চামুণ্ডি, ভদ্রকালী ও মহামায়া সহ নানা নামে পূজিত হন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (ঢাকেশ্বরী মন্দির, রমনা কালীমন্দির, পোস্তগোলা মহাশ্মশান, শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, বাংলাবাজার)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: দেবী কালী, শাক্ত ধর্মাবলম্বীরা, বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ নভেম্বর (রোববার), ১টা ২ মিনিট (অমাবস্যা শুরু), ৯ নভেম্বর (সোমবার), ১১টা ৫৮ মিনিট (অমাবস্যা শেষ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!