📌 শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় নির্মিত ৯০ মিটার দীর্ঘ ১২ কোটি টাকার সেতুটি সংযোগ সড়কের অভাবে অচল। ফলে স্থানীয়রা ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে যাতায়াত করছেন। এলজিইডির কর্মকর্তারা জানান, জমি অধিগ্রহণের সমস্যার কারণে পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না।
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঘড়িসার ইউনিয়নের হুগলী নদীর ওপর নির্মিত ৯০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু দুই বছর আগেই নির্মাণ শেষ হয়েছে। তবে সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় সেতুটি এখনো পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং স্থানীয়রা ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে সেতু পার হচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নির্মাণ ব্যয় ছিল ১২ কোটি টাকা, সেতুর দৈর্ঘ্য ৯০ মিটার
- 📌 পূর্ব পাশের ১৮০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ হলেও পশ্চিম পাশের ১০৫ মিটার নির্মাণ সম্ভব হয়নি
- 📌 জমির মালিকেরা ক্ষতিপূরণ ছাড়া জমি ছাড়তে রাজি না হওয়ায় সংযোগ সড়ক নির্মাণ বন্ধ রয়েছে
- 📌 প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে সেতু পার হচ্ছেন
📰 বিস্তারিত
২০২১ সালের নভেম্বরে নিয়াজ-আরকে নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের পর ২০২৪ সালের জুনে সেতুর নির্মাণ শেষ হলেও সংযোগ সড়কের অভাবে তা পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি। এলজিইডির কর্মকর্তারা জানান, সেতু নির্মাণের আগে দুই প্রান্তে ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রায় দুই একর জমি থাকার বিষয়টি জানা গেলেও জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই দরপত্র আহ্বান করা হয়।
পূর্ব পাশের সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমি স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহায়তায় পাওয়া গেলেও পশ্চিম পাশের জমির মালিকেরা ক্ষতিপূরণ ছাড়া জমি ছাড়তে রাজি হননি। তাদের দাবি, জমির পাশাপাশি স্থাপনারও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের ব্যয় না থাকায় ঠিকাদার ওই অংশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে পারেননি।
এলজিইডির নড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, গত বছরের নভেম্বরে ৮১ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব পাঠানো হলেও প্রকল্পে এ খাতে বরাদ্দ না থাকায় বিষয়টি ঝুলে আছে। ফলে সেতুটি পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
"সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও এক প্রান্তের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যাচ্ছে না। জমির মালিকেরা ক্ষতিপূরণ ছাড়া জমি ছাড়তে রাজি নন। এ কারণে সেতুটি পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।"
থিরপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী শাহ আলম মাল বলেন, সংযোগ সড়ক নির্মাণ হলে তার দোকান ভেঙে ফেলতে হবে। ক্ষতিপূরণ ছাড়া দোকান ছাড়লে জীবিকা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করলে এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে জমি ছেড়ে দেয়া হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা, ঘড়িসার ইউনিয়ন
- 👥 প্রকল্পের মুখ্য ব্যক্তি: এলজিইডির কর্মকর্তারা, জমির মালিকেরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: নির্মাণ ব্যয় ১২ কোটি টাকা, সেতুর দৈর্ঘ্য ৯০ মিটার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!