📌 কক্সবাজারের টেকনাফে সন্ত্রাসী অভিযানে নিহত হন সেনাসদস্য তিতাস শেখ (২৭)। তার স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার (২২) আহাজারিতে বলেন, 'আমাকেও নিয়ে যাও, আমি কীভাবে থাকব?' মরদেহ ফরিদপুরের নগরকান্দায় নিয়ে আসা হয় এবং স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়
কক্সবাজারের টেকনাফে সন্ত্রাসী অভিযানে নিহত হন সেনাসদস্য তিতাস শেখ (২৭)। তার স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার (২২) আহাজারিতে বলেন, 'আমাকেও নিয়ে যাও, আমি কীভাবে থাকব? আমার কোনো অস্তিত্ব রইল না!' শুক্রবার সন্ধ্যায় ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় তার মরদেহ পৌঁছালে পরিবার ও আত্মীয়স্বজন আহাজারিতে ভেঙে পড়েন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কক্সবাজারের টেকনাফে সন্ত্রাসী অভিযানে নিহত হন সেনাসদস্য তিতাস শেখ (২৭), বাঁ কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান
- 📌 সুমাইয়া আক্তার (২২) বলেন, 'আমাকেও নিয়ে যাও, আমি কেমনে থাকব! আমার কোনো অস্তিত্ব রইল না!'
- 📌 মরদেহ ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে নিয়ে আসা হয় এবং স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়
- 📌 সেনাবাহিনীর ১৫ আরই রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মেজর সোহেল আহমেদের নেতৃত্বে মরদেহ গ্রহণ করা হয়
- 📌 দাফনের পর সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান এবং ২১টি গুলি ছুড়ে শেষবিদায় জানানো হয়
📰 বিস্তারিত
চার বছর আগে পার্শ্ববর্তী গ্রামের সুমাইয়া আক্তারকে (২২) বিয়ে করেন সেনাসদস্য তিতাস শেখ। কথা ছিল আগামী ডিসেম্বর মাসে স্ত্রীকে কর্মস্থলে নিয়ে যাবেন। কিন্তু সন্ত্রাসীদের বুলেট থামিয়ে দিয়েছে তাঁর জীবন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারের টেকনাফের রঙ্গীখালী এলাকার গহিন পাহাড়ে যৌথ বাহিনীর অভিযানের সময় সশস্ত্র মানব পাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলি হয়। একপর্যায়ে তিতাস শেখ (২৭) বাঁ কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে নিকটস্থ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামুর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
সেনাসদস্য তিতাস শেখের মরদেহ বহনকারী সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারটি শুক্রবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ফরিদপুরের নগরকান্দা মাহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি মাঠে অবতরণ করে। সেখানে পদ্মা সেনানিবাস ক্যাম্পের ১৫ আরই রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মেজর সোহেল আহমেদের নেতৃত্বে একটি দল মরদেহটি গ্রহণ করে। বিকেল ৫টার দিকে গাড়িতে করে মরদেহটি নিয়ে যাওয়া হয় লস্করদিয়া ইউনিয়নের লস্করদিয়া আতিকুর রহমান উচ্চবিদ্যালয় মাঠে। সেখানে বাদ মাগরিব নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজা শেষে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে তিতাসের মরদেহটি নিয়ে যাওয়া হয় লস্করদিয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে। এ সময় স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় লোকজন শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে ভিড় করেন। মা রেখা বেগম, বাবা আফজাল শেখ ও স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারসহ স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে গ্রামের স্থানীয় কবরস্থানে নানির কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়। শোকে পাগলপ্রায় তিতাসের মা রেখা বেগম জানান, গত বুধবার রাতে ছেলের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল তাঁর। তিতাস তখন বলেছিলেন, ‘আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাব, দোয়া কইরো মা।’
"আমাকেও নিয়ে যাও, আমি কেমনে থাকব! আমার কোনো অস্তিত্ব রইল না! আল্লাহ, আমি এখন কী করব!"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কক্সবাজার (টেকনাফ), ফরিদপুর (নগরকান্দা উপজেলা, লস্করদিয়া গ্রাম)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সেনাসদস্য তিতাস শেখ (২৭), স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার (২২), মা রেখা বেগম, মেজর সোহেল আহমেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭ বছর (তিতাস), ২২ বছর (সুমাইয়া), ১৫ আরই রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ২১টি গুলি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!