📌 গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কৃষক তোফাজ্জল হোসেনের দুই লাখ টাকা উইপোকায় নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সৌদিপ্রবাসী ব্যবসায়ী আলহাজ মিজানুর রহমান সুমন তাকে দুই লাখ টাকা সহায়তা দিয়েছেন।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার উত্তর ধুমাইটারি গ্রামের কৃষক তোফাজ্জল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় রিকশা চালিয়ে ও স্ত্রীর রান্নার কাজের আয় থেকে দুই লাখ টাকা সঞ্চয় করেছিলেন। সেই টাকা দিয়ে জমি বন্ধক নিয়ে কৃষিকাজ শুরু করার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু গত ৯ আগস্ট বাক্স থেকে টাকা বের করতে গিয়ে দেখেন, ইঁদুর ও উইপোকায় কেটে টাকাগুলো নষ্ট করে ফেলেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার উত্তর ধুমাইটারি গ্রামের কৃষক তোফাজ্জল হোসেন দুই লাখ টাকা উইপোকায় নষ্ট হওয়ার ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়
- 📌 ঢাকায় রিকশা চালিয়ে ও স্ত্রীর রান্নার কাজের আয় থেকে দুই লাখ টাকা সঞ্চয় করেছিলেন তোফাজ্জল হোসেন
- 📌 ৯ আগস্ট টাকা বের করতে গিয়ে ইঁদুর ও উইপোকায় কেটে টাকাগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঘটনা জানান তোফাজ্জল
- 📌 সৌদিপ্রবাসী ব্যবসায়ী আলহাজ মিজানুর রহমান সুমন তোফাজ্জলকে দুই লাখ টাকা সহায়তা দেন
- 📌 ২৬ আগস্ট বিকেলে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের উত্তর ধুমাইটারি গ্রামে তোফাজ্জলের হাতে টাকা তুলে দেন মিজানুর রহমানের ছোট ভাই হাবিবুর রহমান জনি
📰 বিস্তারিত
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার উত্তর ধুমাইটারি গ্রামের কৃষক তোফাজ্জল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম মানুষের বাড়িতে রান্নার কাজ করে পরিবারের আয় বৃদ্ধি করতেন। দুজনের কষ্টার্জিত উপার্জন থেকে অল্প অল্প করে জমিয়েছিলেন দুই লাখ টাকা। সেই টাকা দিয়ে জমি বন্ধক নিয়ে কৃষিকাজ শুরু করে পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন করার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
কিন্তু গত ৯ আগস্ট সকালে জমি বন্ধক নেওয়ার জন্য বাক্স থেকে টাকা বের করতে গিয়ে তাদের সেই স্বপ্নে নেমে আসে অন্ধকার। বাক্স খুলে দেখা যায়, ইঁদুর ও উইপোকা কেটে টাকাগুলো ছিন্নভিন্ন করে ফেলেছে। কষ্টের সঞ্চয় এভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েন তোফাজ্জল হোসেন ও তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম।
তোফাজ্জল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে দুই লাখ টাকা জমিয়েছিলাম। ঢাকায় রিকশা চালিয়েছি, আমার স্ত্রী মানুষের বাড়িতে রান্নার কাজ করেছে। সেই কষ্টের টাকা ইঁদুর ও উইপোকা কেটে নষ্ট করে ফেলেছে। টাকা নষ্ট হওয়ার পর কীভাবে চলব, তা নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম।’
কৃষক তোফাজ্জলের এই করুণ কাহিনি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি নজরে আসে সৌদি আরবপ্রবাসী ব্যবসায়ী আলহাজ মিজানুর রহমান সুমনের। অসহায় কৃষকের কষ্টের কথা জানতে পেরে তার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার বিকেলে নিজের ছোট ভাই হাবিবুর রহমান জনিকে তোফাজ্জল হোসেনের বাড়িতে পাঠান মিজানুর রহমান সুমন।
"আমার বড় ভাই সৌদিতে ব্যবসা-বাণিজ্য করেন। তিনি সবসময় অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। তোফাজ্জল হোসেনের কষ্টের কথা গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি তার নজরে আসে। তার নির্দেশেই আমি এখানে এসে তোফাজ্জল ভাইয়ের হাতে দুই লাখ টাকা তুলে দিয়েছি।"
সহায়তার টাকা হাতে পেয়ে দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা অনেকটাই কেটে গেছে তোফাজ্জল হোসেন ও তার পরিবারের। নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন তারা। তোফাজ্জল হোসেন ও তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, ‘এই টাকা পেয়ে আমাদের অনেক চিন্তা দূর হয়েছে। আমরা খুব খুশি। আল্লাহ তায়ালা মিজানুর রহমান ভাইকে নেক হায়াত দান করুন। এই টাকা দিয়ে শেষ বয়সে কিছু করে জীবন চালাতে পারব। আমাদের কষ্টের কথা তুলে ধরায় গণমাধ্যমের প্রতিও আমরা কৃতজ্ঞ।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: উত্তর ধুমাইটারি গ্রাম, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা, গাইবান্ধা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তোফাজ্জল হোসেন, আলহাজ মিজানুর রহমান সুমন, হাবিবুর রহমান জনি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: দুই লাখ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!