📌 সন্দ্বীপ চ্যানেলের তীরে ভাঙনে জাতীয় গ্রিডের দুটি সাবমেরিন বিদ্যুৎ কেব্ল উন্মুক্ত হয়ে পড়ায় দ্বীপের সাড়ে তিন লাখ মানুষ দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎহীনতার ঝুঁকিতে পড়েছেন
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ চ্যানেলে তীব্র নদীভাঙনের কবলে পড়ে মাটির নিচ থেকে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের দুটি সাবমেরিন কেব্ল উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। প্রায় তিন মাস আগে কেব্ল দুটি উন্মুক্ত হলেও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এখন পর্যন্ত কোনো প্রকৌশলগত সমীক্ষা পরিচালনা করেনি। এর ফলে কেব্ল বিকল হয়ে দ্বীপে বসবাসকারী প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ভাটার সময় সন্দ্বীপ চ্যানেলের তীরে উন্মুক্ত কেব্লের প্রায় ৪০ ফুট অংশ স্পষ্ট দেখা যায়।
- 📌 ২০১৮ সাল থেকে চালু হওয়া দুটি কেব্লের সম্মিলিত বিদ্যুৎ সরবরাহ সক্ষমতা ৫০ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে একটি দিয়ে ১০ মেগাওয়াট সরবরাহ করা হচ্ছে।
- 📌 ৫০ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পে চীনভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেডটিটি সমীক্ষার জন্য আর্থিক ও যাতায়াত সংক্রান্ত শর্ত জুড়ে দিয়েছে।
- 📌 পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেলা জিও ব্যাগ প্রবল জোয়ারে ভেসে যাওয়ার পর জুলাই মাসের মাঝামাঝি কেব্লের আরও অংশ উন্মুক্ত হয়।
📰 বিস্তারিত
সন্দ্বীপের বাউরিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে দেড় কিলোমিটার দূরত্বে ভাঙনকবলিত স্থানে কেব্ল দুটি বেরিয়ে এসেছে। এর আগে ১ জুন গণমাধ্যমে ভাঙনের খবর প্রকাশিত হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেললেও তা টেকেনি। পিডিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেব্লের ঝুঁকি নিরূপণে তাঁরা প্রকল্পের চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চিয়াংসু ঝোংথিয়েন টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের (জেডটিটি) বিশেষজ্ঞ দলের জন্য অপেক্ষা করছেন এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চেয়েছেন।
সমুদ্র বা নদীর তলদেশে মাটির সমর্থন হারিয়ে কেব্ল পানিতে ঝুলে পড়লে তাকে প্রকৌশলগতভাবে 'ফ্রি স্প্যান' বলা হয়, যা দীর্ঘ মেয়াদে ভারী ক্ষতির কারণ হতে পারে। চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি 'ফ্রন্টিয়ার্স ইন বিল্ট এনভায়রনমেন্ট' জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় উল্লেখ করা হয় যে, স্রোত ও ঢেউয়ের ঘূর্ণিজনিত কম্পনে কেব্লের উপাদানে ক্লান্তিজনিত ক্ষতি বাড়ে। এছাড়া ৩০ জুলাই 'ওশান ইঞ্জিনিয়ারিং' জার্নালের গবেষণাতেও উন্মুক্ত কেব্লের বিকৃতি ও পীড়ন বৃদ্ধির ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে।
২০১৭ সালে সন্দ্বীপ চ্যানেলের তলদেশ দিয়ে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে ১৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি কেব্ল স্থাপন করা হয়েছিল। এই ভূতাত্ত্বিক তদারকির দায়িত্বে ছিল সরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইডব্লিউএম। বর্তমানে কেব্ল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সমগ্র দ্বীপে বড় ধরনের মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
"ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনটি পক্ষের সমন্বয়ে কাজ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে, পাউবোকে ভাঙন ঠেকানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকেও অবহিত করা হয়েছে। তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করবে বলে জানালেও এখনো আসেনি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সন্দ্বীপ চ্যানেল, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধান প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন আহমেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪৪ কোটি টাকা প্রকল্প ব্যয় ও ৫০ মেগাওয়াট সক্ষমতা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!