📌 চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ও সিসিটি বিদেশি অপারেটরকে হস্তান্তর করার বিরুদ্ধে বন্দর শ্রমিকরা জীবন-জ্বালা দিতে প্রস্তুত। তারা সরকারকে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে ৭ অক্টোবর মশাল মিছিলের মতো কর্মসূচি ঘোষণা করেছে
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি অপারেটরের হাতে হস্তান্তর করার বিরুদ্ধে বন্দর শ্রমিকরা জীবন-জ্বালা দিতে প্রস্তুত। বন্দর শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে আজ শনিবার সন্ধ্যায় বন্দর কলোনি এলাকায় প্রতিবাদ সভায় বক্তারা জানান, প্রয়োজনে জীবন দেবেন, কিন্তু এনসিটি ও সিসিটি বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হবে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বন্দর শ্রমিকরা জীবন-জ্বালা দিতে প্রস্তুত, এনসিটি-সিসিটি বিদেশি অপারেটরকে নাকচ দেবেন
- 📌 ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি পরিচালনার জন্য নিয়োগের বিরোধিতা জানানো হয়েছে
- 📌 সরকারকে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে ৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে
- 📌 ৭ অক্টোবর মশাল মিছিল, ৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম কাস্টমসের বিপরীতে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে
- 📌 ১৫ বছরের কনসেশনে এনসিটি বিদেশি অপারেটরকে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বন্দর শ্রমিকদের প্রতিবাদ সভায় বন্দর শ্রমিক দলের নেতা নুরুল আজিম বলেন, ‘জীবন গেলেও এনসিটি কারও হাতে তুলে দেওয়া হবে না।’ তিনি সরকারকে বন্দর নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, শ্রমিকেরা সরকারের বিরুদ্ধে নন, তারা সিদ্ধান্তটিকে ভুল মনে করেই এর বিরোধিতা করছেন।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন জানান, এনসিটি ও অন্যান্য টার্মিনাল ইজারা বা কনসেশন দেওয়ার প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করে শ্রমিক ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। তিনি সরকারকে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি পরিচালনার জন্য নিয়োগের কারণ ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দর। এর কোনো অংশ বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার পক্ষে তাঁরা নন। সরকার সাড়া না দিলে আন্দোলন আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সভায় বক্তারা জানান, বিষয়টি শুধু বন্দর শ্রমিকদের স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, এর প্রভাব দেশের বৃহত্তর অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আরেক সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, বন্দরের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
"জীবন গেলেও এনসিটি কারও হাতে তুলে দেওয়া হবে না"
বন্দর শ্রমিক ও কর্মচারীদের একাংশ এনসিটি ও অন্যান্য টার্মিনাল দেশীয় ব্যবস্থাপনায় রাখার দাবি জানিয়ে আসছেন। বন্দর কর্তৃপক্ষ এনসিটি পরিচালনার জন্য ১৫ বছরের কনসেশনে আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। বন্দর শ্রমিকরা সরকারকে আলোচনার পথ খোলার জন্য পাঁচ দিন সময় দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৭ অক্টোবর মশাল মিছিল, ৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম কাস্টমসের বিপরীতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি এবং ৪ অক্টোবর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সর্বদলীয় শ্রমিক-কর্মচারী প্ল্যাটফর্মের মানববন্ধনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম বন্দর কলোনি, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নুরুল আজিম, ইব্রাহিম খোকন, হুমায়ুন কবির, বন্দর শ্রমিকরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ বছর (কনসেশনের মেয়াদ), ৭ অক্টোবর (মশাল মিছিল), ৫ অক্টোবর (অবস্থান কর্মসূচি), ৪ অক্টোবর (মানববন্ধন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!