📌 সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করার দাবি জানিয়েছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে বৈঠকে তাঁরা আগামীকাল সোমবার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়েরের ঘোষণা দেন
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে অভিযোগ দাখিলের ঘোষণা দিয়েছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। রোববার বিকেলে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে বৈঠকে অংশ নিয়ে তাঁরা এই দাবি জানান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাগর–রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করার দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা
- 📌 বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাগর–রুনির ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ ও রুনির ভাই নওশের আলম
- 📌 আগামীকাল সোমবার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়েরের ঘোষণা দিয়েছেন নওশের আলম
- 📌 ট্রাইব্যুনালের তদন্তে যুক্ত আসামিদের বিদেশ যাওয়া রোধের দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা
- 📌 চিফ প্রসিকিউটর জানান, পরিবার অভিযোগ দাখিল করতে পারবে, তবে ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় না পড়লে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে
- 📌 প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানান, সন্দেহভাজন ব্যক্তির জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে সাবেক মহাপরিচালকের নাম
- 📌 সন্দেহভাজন ব্যক্তি বলেছেন, হত্যাকাণ্ডের রাতে সাবেক মহাপরিচালক তাঁকে আগামীকালের ঘটনার কথা জানিয়েছিলেন
📰 বিস্তারিত
রোববার বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির পরিবারের সদস্যরা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাগর–রুনির ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ ও রুনির ভাই নওশের আলম। তাঁরা চিফ প্রসিকিউটরকে জানান, তাঁরা সাগর–রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করার দাবি জানাচ্ছেন।
বৈঠক শেষে নওশের আলম বলেন, "আগামীকাল সোমবার ট্রাইব্যুনালে এ মামলার বিচার করার জন্য আবেদন করবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।" তিনি আরও বলেন, "১৬ বছরের পুরোনো এই হত্যাকাণ্ডের বিচার ট্রাইব্যুনালে হওয়া উচিত। সাগর–রুনি হত্যাকাণ্ড একটি আলোচিত ও অমীমাংসিত ঘটনা। দুজন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। তাঁদের মামলাটি ট্রাইব্যুনালের আওতায় বিচার করা হবে বলে আশা করছি।"
তিনি ট্রাইব্যুনালের তদন্তে যুক্ত বড় বড় আসামিদের বিদেশ যাওয়া রোধের দাবিও জানান। নওশের আলম বলেন, "আমরা চাই, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তির জেলে থাকার দরকার নেই। র্যাব অনেক দিন ধরে অনেকজনকে আটকে রেখেছে, যাঁদের ১৪ বছরে কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তাঁরা মুক্তি পাক।"
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বৈঠকে উপস্থিত পরিবারের সদস্যদের বলেন, "তাঁরা ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দিতে চাইলে দিতে পারেন। এর বিচার ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় পড়লে তাঁরা তা বিবেচনা করবেন। অন্যথায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" এর আগে সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর বলেছিলেন, সাগর–রুনি হত্যাকাণ্ড তাঁদের আওতাভুক্ত নয় বলে জানান। তিনি বলেন, "এটি একটি স্বতন্ত্র হত্যাকাণ্ডের মামলা। তাই সংশ্লিষ্ট দায়রা আদালতেই এর বিচার হবে।"
বিকেলে পরিবারের সদস্যরা প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহার সঙ্গেও বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে তানভীর হাসান জানান, তিনি একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ফোনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসা তথ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, "সাবেক একজন মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে দুদকে একটি মামলা আছে। দুদকের কাছ থেকে ইলেকট্রনিক জিনিসপত্র জব্দ করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল সেই জিনিসপত্র বিশ্লেষণ করে তিন–চারজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছে। তাঁদের মধ্যে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।"
তানভীর হাসান আরও জানান, "সন্দেহভাজন ব্যক্তি প্রাথমিক অবস্থায় কিছু বক্তব্য দিয়েছেন। সেই বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সাবেক মহাপরিচালক তাঁকে হত্যাকাণ্ডের রাতে আগামীকালের ঘটনার কথা জানিয়েছিলেন। হত্যাকাণ্ডের রাত ছিল রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে। সেদিনই সাগর–রুনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।" তিনি বলেন, "সন্দেহভাজন ব্যক্তি জানান, বিডিআর অথবা তৎকালীন সরকারের কোনো স্পর্শকাতর ডকুমেন্টেশন ছিল, যা ডিস্ক, টেপ বা মেমোরির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল।"
"তাঁরা ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দিতে চাইলে দিতে পারেন। এর বিচার ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় পড়লে নিশ্চয় তাঁরা রাখবেন। অন্যথায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা যা, তা–ই নেবেন।" — চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কার্যালয়, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাগর সরওয়ার, মেহেরুন রুনি, চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা, নওশের আলম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬ (বছর), ১৪ (বছর), ১০ (টা–১১ টা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!