📌 সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে ৬৪ জেলায় ৬৪ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগের প্রস্তাব তুলেছেন। তিনি জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থান হ্রাসের চিত্র তুলে ধরেন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে সংসদে বলেছেন, দেশের ৬৪ জেলায় ৬৪ জন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হলে মন্দ হতো না। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট ২০২৬) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দেশের ৬৪ জেলায় ৬৪ জন আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন রুমিন ফারহানা
- 📌 বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়ে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করেন তিনি: “টুকু আসে টুকু যায়”
- 📌 বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে সরাসরি সমালোচনা করেন
- 📌 কর্মসংস্থান হারানোর তথ্য তুলে ধরে বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পর ৬২ হাজারের বেশি মানুষ চাকরি হারিয়েছেন
- 📌 দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বলে উল্লেখ করেন
📰 বিস্তারিত
সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় রুমিন ফারহানা দেশের জ্বালানি খাতের বেহাল দশা তুলে ধরে বলেন, “মাননীয় স্পিকার, জ্বালানি নিয়ে আর কী বলবো! গ্যাস আর বিদ্যুতের ব্যাপারে দুষ্ট লোকেরা বলে—অবশ্য ভালো লোকেরা বলে না—তারা বলে ‘টুকু আসে টুকু যায়’।” বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের অনিশ্চয়তার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের সময়সূচি বুঝতে পারে না।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের সময়সূচি নিয়ে বিভ্রান্তিতে রয়েছে। একদিকে তেলের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রাথমিক প্রতিশ্রুতি ছিল আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা বিধান করা। তবে তিনি উল্লেখ করেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যঙ্গ বা বাকচাতুর্যের মাধ্যমে প্রকৃত বিষয় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
কর্মসংস্থান ও শিল্প খাতের চরম মন্দা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার সময় এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। অথচ সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ইতোমধ্যেই ৬২ হাজারের বেশি মানুষ চাকরি হারিয়েছেন এবং ৯০০টিরও বেশি কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিবর্তে বিদ্যমান চাকরিগুলোও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
“মাননীয় স্পিকার, জ্বালানি নিয়ে আর কী বলবো! গ্যাস আর বিদ্যুতের ব্যাপারে দুষ্ট লোকেরা বলে—অবশ্য ভালো লোকেরা বলে না—তারা বলে ‘টুকু আসে টুকু যায়’।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় সংসদ, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রুমিন ফারহানা (স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য), ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু (বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী), স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৪ (জেলা), ৬৪ (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী), ৬২ হাজার (চাকরি হারানো মানুষ), ৯০০ (কলকারখানা বন্ধ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!