📌 রংপুরের বিসিক শিল্পনগরীর ৭৫% জমি এক প্রতিষ্ঠানের দখলে থাকায় নতুন উদ্যোক্তারা প্লট পাচ্ছেন না। ২০০২ সাল থেকে প্রস্তাবিত দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী বাস্তবায়িত হয়নি। অবকাঠামো সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে শিল্পায়ন স্থবির হচ্ছে, যা বেকারত্ব ও কৃষিজমি হ্রাসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে
রংপুরের শিল্পায়নের পথে জমি সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যমান বিসিক শিল্পনগরীর ৮৩টি প্লটের মধ্যে ৭৫ শতাংশ একটি প্রতিষ্ঠানের দখলে থাকায় নতুন উদ্যোক্তারা প্লট পাচ্ছেন না। ফলে কৃষিজমিতে অপরিকল্পিতভাবে শিল্প-কারখানা গড়ে উঠছে, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ২০০২ সাল থেকে প্রস্তাবিত দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরীও বাস্তবায়িত হয়নি, যা বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রংপুর বিসিক শিল্পনগরীর ৮৩টি প্লটের মধ্যে ৭৫ শতাংশ একটি প্রতিষ্ঠানের (রংপুর ফাউন্ড্রি লিমিটেড) দখলে থাকায় নতুন উদ্যোক্তারা প্লট পাচ্ছেন না
- 📌 ২০০২ সাল থেকে প্রস্তাবিত দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী বাস্তবায়িত হয়নি; ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিলের জমি অধিগ্রহণ আবেদনও ফাইলবন্দি হয়ে আছে
- 📌 বিদ্যমান শিল্পনগরীর অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো খানাখন্দে ভর্তি, বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়; বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্টের অভাব
- 📌 উদ্যোক্তারা দাবি করছেন, দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা দরকার; বর্তমান বিসিক "কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের জিম্মা" হয়ে পড়েছে
- 📌 রংপুরে কৃষিজমিতে অপরিকল্পিতভাবে শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে, যা খাদ্য উৎপাদনকে হুমকিতে ফেলছে
📰 বিস্তারিত
রংপুর বিসিকের উপ-মহাব্যবস্থাপক এহেছানুল হক জানান, দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরীর জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে মন্ত্রণালয় থেকে আশ্বাস পাওয়া সত্ত্বেও প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। ১৯৬৭ সালে ২০ দশমিক ৬৮ একর জমি অধিগ্রহণ করে ৮৩টি প্লটে বিভক্ত করা হয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে এখানে ২৫টি শিল্প ইউনিট রয়েছে, যার মধ্যে ২২টি সচল।
উদ্যোক্তারা অভিযোগ করেন, বিদ্যমান শিল্পনগরীর অবকাঠামো খারাপ। অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো খানাখন্দে ভর্তি, বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্টের অভাবের কারণে শিল্প ইউনিটগুলোকে অতিরিক্ত ব্যয়ে নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতে হয়। নিরাপত্তার অভাব ও অনুন্নত অবকাঠামো ব্যবসার অন্যতম বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছে উদ্যোক্তারা।
জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পোদ্যোক্তা আবদুল মতিন বলেন, নতুন শিল্প-কারখানা স্থাপিত হলে বেকার সমস্যার সমাধান সম্ভব। নারী উদ্যোক্তা সামসী আরা জামান দ্রুত দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এতে পিছিয়ে পড়া এ অঞ্চলে নারীদের কর্মসংস্থানের পথ সহজ হবে। উদ্যোক্তা আব্দুর রহিম বলেন, নতুন বিসিক হলে সরকারি লাইসেন্স ও অনুমতিপত্র সহজে পাওয়া যাবে এবং গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
"বর্তমান বিসিক শিল্পনগরী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। সেখানে নতুন উদ্যোক্তারা সুযোগ পাচ্ছেন না। এ কারণেই দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী তৈরি করা প্রয়োজন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুর, রংপুর বিসিক শিল্পনগরী, হরিদেবপুর ও রামনাথপুর মৌজা
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: এহেছানুল হক (উপ-মহাব্যবস্থাপক), আবদুল মতিন, সামসী আরা জামান, আব্দুর রহিম, গোলাম জাকারিয়া পিন্টু, এমদাদ হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৩টি প্লট, ৭৫ শতাংশ জমি, ২৫টি শিল্প ইউনিট, ২২টি সচল ইউনিট, ২০ দশমিক ৬৮ একর জমি, ১০০ একর জমি (দ্বিতীয় বিসিক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!