📌 রংপুরে ইয়াবা সেবনের বিরোধিতা করায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার অভিযোগে দুই তরুণের গ্রেপ্তার। পুলিশ জানায়, পরিচয় ফাঁসের ভয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনায় লুটের নাটক সাজানো হয়েছিল।
রংপুর মহানগরীতে ইয়াবা সেবনের বিরোধিতা করায় একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার অভিযোগে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যার পর লুটের ঘটনা সাজিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঘটনাটি ঘটে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইয়াবা সেবনের বিরোধিতা করায় গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা, মেয়ে পার্থী এবং ১২ বছরের পুত্র প্রিয়মকে হত্যা করা হয়
- 📌 গ্রেপ্তার দুই তরুণ হলেন মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯), যারা সম্পর্কে মামাতো ভাই
- 📌 হত্যার পর লুটের ঘটনা সাজিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় তারা বাড়ির জিনিসপত্র এলোমেলো করে এবং স্বর্ণালংকার আগুনে পুড়িয়ে আলামত নষ্টের চেষ্টা করে
- 📌 পুলিশের ধারণা, পরিচয় ফাঁসের ভয়ে হত্যা করা হয়েছে, কারণ প্রিয়ম আসামিদের চিনত
📰 বিস্তারিত
রংপুর মহানগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবস্থিত গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস নামে দুই তরুণ ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ করে। শব্দ শুনে ছাদে যান গণপতি চক্রবর্তী। তাঁদের বাধা দেওয়ায় তাঁকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়।
গণপতির চিৎকার শুনে স্ত্রী প্রীতিলতা ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করলে সিঁড়িতেই তাঁকে হত্যা করা হয়। এরপর তাঁদের মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী আগামী (২৫) এবং ১২ বছরের পুত্র প্রিয়ম চক্রবর্তী আয়ুশকে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানায়, প্রিয়ম আসামিদের চিনত, কারণ সিদ্ধার্থের ছোট ভাই অপূর্বের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল। পরিচয় ফাঁসের আশঙ্কায় তাঁকেও হত্যা করা হয়।
হত্যার পর দুই আসামি বাড়িতেই অবস্থান করে। তারা গোসল করে, খেজুর খায় এবং ইয়াবা সেবন করে। পরে জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট ফাঁকা হলে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পালানোর আগে তারা ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে ডাকাতির ঘটনা বলে তদন্তকে ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা করে।
"হত্যার পরও তারা বাড়িতেই ছিল। গোসল করেছে, খেজুর খেয়েছে এবং ইয়াবা সেবন করেছে। পরে পালিয়ে যায়। ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে ডাকাতির ঘটনা বলে তদন্তকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে তারা।"
পুলিশ জানায়, ঘরে পাওয়া স্বর্ণের চুড়ি আগুনে পরীক্ষা করার আলামত থেকেই তদন্তে নতুন সূত্র মেলে। সিদ্ধার্থের স্বর্ণের কাজে অভিজ্ঞতার বিষয়টি সামনে আসে। লুট করা স্বর্ণালংকার তাদের দেখানো মতে একটি পরিত্যক্ত জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া বাড়ির দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়েছিল আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে। ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা সেবনের আলামত, খেজুরের বিচি ও কামড় দেওয়া শসাও উদ্ধার করা হয়েছে। খেজুরের বিচি ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুর মহানগরী, মাছুয়াপাড়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ (রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার), মুগ্ধ দাস (২৩), সিদ্ধার্থ দাস (১৯)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ জন নিহত, ২ জন গ্রেপ্তার, ১২ বছর বয়সী শিশু নিহত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!