📌 চট্টগ্রামের সামরিক অনুশীলনে দুর্ঘটনায় নিহত সেনাসদস্য তাসনিম রিফায়াতকে রাজশাহীতে মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে। পরিবার ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাকে শেষ বিদায় দিয়েছেন। রিফায়াতের স্ত্রী ও মেয়ে এখনও তার মৃত্যু সম্পর্কে জানেন না
চট্টগ্রামের সামরিক অনুশীলনে দুর্ঘটনায় নিহত সেনাসদস্য তাসনিম রিফায়াতের শেষ সফর রাজশাহীতে শুরু হয়েছে। রাজশাহীর পাবার বিন্দারামপুর গ্রামে মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়েছে। পরিবার ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সামরিক অনুশীলনে দুর্ঘটনায় সেনাসদস্য তাসনিম রিফায়াত নিহত হন
- 📌 রিফায়াতের মরদেহ রাজশাহী সেনানিবাস থেকে হেলিকপ্টারে করে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়
- 📌 মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয় রিফায়াতকে, পরিবার শোকে ডুবে গেছে
- 📌 রিফায়াতের স্ত্রী ও আড়াই বছরের মেয়ে রাফসা এখনও তার মৃত্যু সম্পর্কে জানেন না
- 📌 দুর্ঘটনায় আরো একজন কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন
📰 বিস্তারিত
কোরবানির ঈদে বাড়িতে ফিরে আসার আশায় ছিলেন রিফায়াতের পরিবার। কিন্তু সেই আশা আজ অবসান হয়েছে। রাজশাহীর পাবার বিন্দারামপুর গ্রামের রিফায়াতের বাড়িতে বেলা একটার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তার মরদেহ পৌঁছায়। পরিবার ও প্রতিবেশীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। বাড়ির পাশেই বেলা দুইটার দিকে অনুষ্ঠিত হয় জানাজা। বাবা মো. আসাদুল হক কান্নাজড়িত কণ্ঠে দোয়া চান। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা রিফায়াতের দেশপ্রেম ও ত্যাগের কথা স্মরণ করে দোয়া চান। জানাজা শেষে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাকে সম্মান জানান। পরে মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
গতকাল বুধবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনা ঘটে। ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। গোলাটি ব্যারেল দিয়ে বের না হয়ে ট্যাংকের ভেতরে বিস্ফোরিত হয়। এতে রিফায়াত নিহত হন। ওই দুর্ঘটনায় আরো একজন কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। রিফায়াত ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া কোরে যোগ দেন।
রিফায়াতের বড় ভাই এ বি মাহমুদ ও ছোট ভাই শামসাদ আহমেদ। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, আকস্মিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তাঁরা। রিফায়াতের স্ত্রী ও আড়াই বছরের মেয়ে রাফসা এখনও জানে না, তার বাবা আর ফিরবেন না। মায়ের শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই এবার ছেলেকে হারিয়ে পরিবারটি আবারও শোকে ডুবে গেছে।
"আজ আমার ছেলেটা গেছে। যাঁদের সন্তান হারান, তাঁদের শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত এই দাগ, জ্বালা ও কষ্ট থেকে যায়।"
রিফায়াতের বাবা মো. আসাদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, পাঁচ থেকে সাত দিন আগে বাবার সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। তখন রিফায়াত বাবাকে জানিয়েছিলেন, বদলি হয়ে বগুড়ায় যাওয়ার কথা। সেখানে যোগ দেওয়ার পর বর্তমান কর্মস্থল থেকে চলে যেতে হবে। তাই বাড়িতে ফিরতে আরও দু-চার দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছিলেন বাবাকে। সেটিই যে রিফায়াতের সঙ্গে শেষ কথা হবে, তা ভাবেননি বাবা আসাদুল হক।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী (পাবার বিন্দারামপুর গ্রাম), চট্টগ্রাম (হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তাসনিম রিফায়াত, মো. আসাদুল হক, রাফসা তাসনিম ইকরাকে
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ (সেনাবাহিনীতে যোগদান), ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (মৃত্যু), ১১টা ২৮ মিনিট (দুর্ঘটনা সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!