📌 শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে কলেজের ক্লাসের ফাঁকে শরবত বিক্রি করছেন কিশোরগঞ্জ সরকারি গুরুদয়াল কলেজের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী রানা মিয়া। দৈনিক ৮০০ থেকে এক হাজার টাকার শরবত বিক্রি করে সংসার চালানোর পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে নিজের স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলছেন কিশোরগঞ্জ সরকারি গুরুদয়াল কলেজের গণিত বিভাগের সম্মান প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রানা মিয়া। এক পা খুঁড়িয়ে হাঁটেন, একটি হাত স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করতে পারেন না তিনি। তবুও জীবনের প্রতিকূলতাকে জয় করে ক্লাসের ফাঁকে শরবত বিক্রি করে নিজের পড়াশোনার খরচ চালাচ্ছেন তিনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রানা মিয়া কিশোরগঞ্জ সরকারি গুরুদয়াল কলেজের গণিত বিভাগের সম্মান প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী
- 📌 শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও ক্লাসের ফাঁকে শরবত বিক্রি করে পড়াশোনার খরচ চালাচ্ছেন
- 📌 প্রতিদিন প্রায় ৮০০ থেকে এক হাজার টাকার শরবত বিক্রি করেন তিনি
- 📌 শরবত বিক্রির মাধ্যমে দিন শেষে তাঁর হাতে থাকে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা
- 📌 এসএসসিতে জিপিএ-৪.৭৮ এবং এইচএসসিতে জিপিএ-৪.০৮ অর্জন করেছেন রানা মিয়া
📰 বিস্তারিত
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার সিংরইল ইউনিয়নের উত্তর কচুরী গ্রামে রানা মিয়ার বাড়ি। তাঁর বাবা হারিছ মিয়া একজন কৃষক। বয়সের ভারে কর্মক্ষমতা হারিয়ে শ্বাসকষ্টসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন তিনি। ফলে নিয়মিত কাজ করতে পারেন না হারিছ মিয়া। চার সদস্যের পরিবারটির সংসার চলে টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে। এমন পরিস্থিতিতে ছেলের পড়াশোনার খরচ বহন করাও পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
রানা মিয়া জানান, জন্ম থেকেই তাঁর পা ও হাতে সমস্যা। ভারি কোনো কাজ করতে পারেন না তিনি। অনার্সে ভর্তি হওয়ার পর খরচ বেড়ে যাওয়ায় নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে কিশোরগঞ্জ জজকোর্টের সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভবনের সামনে প্রতিদিন শরবত বিক্রি করেন তিনি। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে তাঁর এই সংগ্রাম।
তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে শরবত বিক্রি করায় পায়ে ব্যথা হয়, রগে টান ধরে। ক্লাসের সময় হলে দ্রুত দোকান গুটিয়ে কলেজে যাই, ক্লাস শেষে আবার বিক্রি শুরু করি। ফলে নিয়মিত পড়াশোনার জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করতে পারি না।’
‘শরবত বিক্রি করে কোনোভাবে খেয়ে না-খেয়ে দিন পার করছি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শরবত বিক্রি করি। এর মাঝে ক্লাসের সময় হলে দোকান গুটিয়ে কলেজে যাই।’
রানার বাবা হারিছ মিয়া বলেন, ‘কৃষিকাজ করে এবং অন্যের সহযোগিতা নিয়ে অনেক কষ্টে দুই ছেলের পড়াশোনার খরচ চালিয়েছি। এখন বয়স হয়েছে, শরীরে নানা রোগ বাসা বেঁধেছে। আগের মতো কাজ করতে পারি না। বড় ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েও শরবত বিক্রি করে নিজের পড়াশোনার খরচ চালাচ্ছে।’
গুরুদয়াল সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘রানা মিয়া শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে জীবনযাপন করছে। নিজের সীমাবদ্ধতা জয় করে নিয়মিত ক্লাস করছে এবং পড়াশোনায়ও ভালো করছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কিশোরগঞ্জ সরকারি গুরুদয়াল কলেজ, কিশোরগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রানা মিয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: জিপিএ-৪.৭৮ (এসএসসি), জিপিএ-৪.০৮ (এইচএসসি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!