📌 কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় নিজের চল্লিশার আয়োজন করেন। প্রায় ছয় হাজার মানুষকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেন তিনি। ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাওয়া অর্থ দিয়ে এই আয়োজন করেন বলে জানান তিনি
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার বীর হাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম (৬২) জীবিত অবস্থায় নিজের চল্লিশার আয়োজন করেছেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে প্রায় ছয় হাজার মানুষকে তিনি খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেন। এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রফিকুল ইসলাম জীবিত অবস্থায় নিজের চল্লিশার আয়োজন করেন
- 📌 প্রায় ছয় হাজার মানুষকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়
- 📌 আয়োজন করা হয় বীর হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে
- 📌 ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাওয়া অর্থ দিয়ে আয়োজন করা হয়
- 📌 ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী জীবিত অবস্থায় চল্লিশার আয়োজন করার নিয়ম নেই বলে জানান মুফতি মাওলানা খলিলুর রহমান
📰 বিস্তারিত
রফিকুল ইসলাম তাঁর চাচাতো ভাই আবদুস সালামের সঙ্গে পরামর্শ করে এই আয়োজন করেন। তিনি জানান, তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিজেদের অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত এবং সম্প্রতি সরকারি রাস্তা নির্মাণের জন্য তাঁর দোকান ও জমির একটি বড় অংশ অধিগ্রহণ করা হয়। এ বাবদ তিনি কিছু টাকা পান। সেই টাকায় মৃত্যুর আগে নিজের চল্লিশার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা নূরুল ইসলাম বলেন, সাধারণত কেউ মারা যাওয়ার ৪০ দিন পর চল্লিশার আয়োজন করা হয়। এতে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও দরিদ্র মানুষকে খাওয়ানো হয়। তবে রফিকুল ইসলাম জীবিত থাকতেই নিজের চল্লিশার আয়োজন করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি মারা যাওয়ার পর হয়তো আমার স্বজনেরা সবাইকে ডেকে এভাবে খাওয়ানোর আয়োজন না–ও করতে পারেন। তাই নিজের ইচ্ছাতেই প্রায় ছয় হাজার মানুষের জন্য এমন আয়োজন করেছি।’
আয়োজনে গরু ও খাসির মাংস, ভাত, খিচুড়ি, মাছসহ বিভিন্ন পদ রাখা হয়। পালাক্রমে মানুষকে খাওয়ানো হয়। রফিকুল ইসলামের স্ত্রী বেগম আক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করেই তিনি এই আয়োজন করেন বলে জানান।
‘আমি মারা যাওয়ার পর হয়তো আমার স্বজনেরা সবাইকে ডেকে এভাবে খাওয়ানোর আয়োজন না–ও করতে পারেন। তাই নিজের ইচ্ছায় জীবিত অবস্থাতেই আয়োজনটি করেছি।’ — রফিকুল ইসলাম
তবে ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী জীবিত অবস্থায় নিজের চল্লিশার আয়োজন করার কোনো নিয়ম নেই বলে জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের মুফতি মাওলানা খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, মানুষের মৃত্যু কখন হবে তা কেউ আগে থেকে বলতে পারে না। মৃত্যুর ৪০ দিন পর চল্লিশা করাও ইসলামের বাধ্যতামূলক কোনো বিধান নয়। তবে দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে আপ্যায়ন করা বা মৃত ব্যক্তির বন্ধু-স্বজনদের খাওয়ানো যেতে পারে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বীর হাজীপুর গ্রাম, হোসেনপুর, কিশোরগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রফিকুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ হাজার মানুষ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!