📌 বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দেশের ৬২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র অচল হয়ে পড়েছে। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় ঢাকাসহ সারাদেশে তীব্র লোডশেডিং চলছে। গ্যাস ও কয়লার সংকটের পাশাপাশি কারিগরি ত্রুটির কারণে পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। গ্যাস, কয়লা ও তরল জ্বালানির সরবরাহ স্বল্পতা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশের ৬২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে ঢাকাসহ সারাদেশে তীব্র লোডশেডিং চলছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ১৩৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ৬২টি কেন্দ্রে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর মধ্যে ২০টি কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ ছিল এবং বাকি ৪২টি কেন্দ্র সীমিত সক্ষমতায় চলেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও গত বৃহস্পতিবার উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১৩ হাজার ২৮২ মেগাওয়াট
- 📌 বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৯৪৬ মেগাওয়াট, ফলে সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াট
- 📌 গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি নয়
- 📌 কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে পায়রা ও বড়পুকুরিয়া কেন্দ্র কারিগরি ত্রুটির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
বিদ্যুৎ উৎপাদনে চলমান সংকটের কারণে সাধারণ মানুষকে দিন-রাত সমানতালে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও গত বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ চাহিদার সময় উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১৩ হাজার ২৮২ মেগাওয়াট। বিপরীতে চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৯৪৬ মেগাওয়াট। অর্থাৎ সক্ষমতার অর্ধেকেরও বেশি অব্যবহৃত পড়ে ছিল কেবল জ্বালানি সংকটের কারণে। গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে ৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ কমিয়ে গ্যাসের বড় অংশ এখন শিল্পকারখানায় দেওয়া হচ্ছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই গ্যাস-সংকটের কারণে ঢাকার বাইরে পল্লী অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র লোডশেডিংয়ের শিকার হচ্ছিলেন। তবে গত ১২ আগস্ট থেকে সরকারি নির্দেশনায় রাজধানী ঢাকাতেও লোডশেডিং শুরু হয়েছে। ডিপিডিসি ও ডেসকো প্রতিদিন প্রতিটি এলাকায় এক ঘণ্টা করে লোডশেডিংয়ের পরিকল্পনা নিলেও মাঠপর্যায়ে তার চেয়েও বেশি লোডশেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও গত বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ চাহিদার সময় উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১৩ হাজার ২৮২ মেগাওয়াট। বিপরীতে চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৯৪৬ মেগাওয়াট। ফলে দিনের বেলাতেই সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াটে পৌঁছায়। এর আগে গত ১০ আগস্ট চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়েছিল।
"বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আমূল কাঠামোগত সংস্কার, বিশৃঙ্খলা রোধ এবং দুর্নীতি বন্ধ না করলে এ ভোগান্তি থেকে সাধারণ মানুষের মুক্তি পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা ও সারাদেশ
- 👥 ব্যক্তি: গ্রাহকরা, সাধারণ মানুষ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬২, ১৩৭, ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!