📌 সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের আহ্বান জানান। লালন বিশ্বসংঘের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কবীর-লালনের মানবতাবাদী চিন্তা ও দর্শনকে ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সবার ভূমিকা প্রয়োজন
মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে তরুণ প্রজন্মের আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বর্তমানে নানা সংকটের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে কবীর ও লালনের মানবতাবাদী চিন্তা ও দর্শনকে পুনর্জাগরণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সবার একত্রিত হতে হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি মাঠে ‘কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
- 📌 তিনি বলেন, পদ্মা-মেঘনা-যমুনাসহ নদীসমূহের তীরে গড়ে উঠা বাংলার সমৃদ্ধ সংস্কৃতি বর্তমানে হুমকির মুখে। এই সংকটে কবীর-লালনের ভাবসংগীত উৎসব আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করছে।
- 📌 ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও রংপুর বিভাগে পর্যায়ক্রমে উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
- 📌 সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
- 📌 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আহসানুল হাদী লালনের গানের বিকৃত ব্যাখ্যা ও সুফি সংস্কৃতিচর্চায় বাধা সৃষ্টির প্রতিবাদ জানান।
- 📌 ১৮ সেপ্টেম্বর বরিশাল, ১৯ সেপ্টেম্বর খুলনা, ২৫ সেপ্টেম্বর রাজশাহীসহ আট বিভাগে উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
📰 বিস্তারিত
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নের কথা বলেছেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, বাংলার সংস্কৃতি আজ নানা সংকটে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে কবীর ও লালনের মানবতাবাদী চিন্তা ও দর্শনকে ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে হবে। তিনি তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকে বৃথা না যেতে দেওয়ার আহ্বান জানান।
ফজলুর রহমান বলেন, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা, সুরমা-কুশিয়ারাসহ অসংখ্য নদীর তীরে হাজার বছর ধরে গড়ে উঠা বাংলার সমৃদ্ধ সংস্কৃতি বর্তমানে হুমকির মুখে। এই বাস্তবতায় কবীর-লালনের ভাবসংগীত উৎসব একটি আলোকবর্তিকার মতো কাজ করছে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন ছিল সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে নিয়ে একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক দেশ প্রতিষ্ঠা করা। তরুণ প্রজন্মকে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. আহসানুল হাদী বলেন, কবীর ও লালনের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের সুফি-সাধকরা সংগীত ও কবিতার মাধ্যমে মানবতা ও স্রষ্টার প্রেমের কথা বলেছেন। তিনি লালন সাঁইয়ের গানের বিকৃত ব্যাখ্যা ও সুফি সংস্কৃতিচর্চায় বাধা সৃষ্টির প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, কবীর ও লালন উভয়েই একেশ্বরবাদী চিন্তায় বিশ্বাসী ছিলেন এবং মানুষের পাশাপাশি সব জীবের প্রতি ভালোবাসা ও মহান স্রষ্টার প্রেমের সাধনার কথা বলেছেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য ও লালন বিশ্বসংঘের চেয়ারম্যান দর্শনাচার্য প্রফেসর ইমেরিটাস ড. আনিসুজ্জামান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কবীর-লালনের দর্শন ও সংগীত নিয়ে আলোচনা করেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্বের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, অধ্যাপক ড. প্রিয়াঙ্কা গোপ, লালনপন্থী সাধক ফকির আবুল হোসেন শাহ, কবীরপন্থী সাধক নিঝুম পাইনকা এবং গবেষক সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবুসহ অনেকে।
"মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন ছিল সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে নিয়ে একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক দেশ প্রতিষ্ঠা করা। তরুণ প্রজন্মকে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সেগুনবাগিচা, রাজধানী ঢাকা (উদ্বোধনী অনুষ্ঠান); ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও রংপুর বিভাগ (উৎসব অনুষ্ঠান)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান, ড. আহসানুল হাদী, দীনেশ ত্রিবেদী, মিজানুর রহমান মো., ড. আনিসুজ্জামান, ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, ড. প্রিয়াঙ্কা গোপ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ সেপ্টেম্বর (উদ্বোধনী অনুষ্ঠান), ৩০ অক্টোবর (উৎসব শেষ), ১৮ সেপ্টেম্বর (বরিশাল), ১৯ সেপ্টেম্বর (খুলনা), ২৫ সেপ্টেম্বর (রাজশাহী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!