📌 গ্রহ যখন তার নক্ষত্রজগৎ থেকে ছিটকে মহাকাশে হারিয়ে যায়, তখন তার উপগ্রহ বা চাঁদের ভাগ্য নির্ধারণ করে ‘হিল ব্যাসার্ধ’ নামক অদৃশ্য সীমানা। নেদারল্যান্ডসের গবেষকদের সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই চমকপ্রদ তথ্য
মহাকাশের অসীম বিস্তৃতিতে লাখ লাখ ভবঘুরে গ্রহ ঘুরে বেড়াচ্ছে, যারা কোনো নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় না। বিজ্ঞানের পরিভাষায় এদের বলা হয় ‘রোগ প্ল্যানেট’ বা ভবঘুরে গ্রহ। এসব গ্রহের মধ্যে অন্যতম হলো মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে অবস্থিত অসংখ্য মহাজাগতিক বস্তু। সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসের লিডেন অবজারভেটরির দুই গবেষক ইয়ানিক বাদু এবং সাইমন পোর্টেগিস জওয়ার্ট একটি যুগান্তকারী গবেষণা পরিচালনা করেছেন। তাদের গবেষণায় উঠে এসেছে, যখন কোনো গ্রহ তার নক্ষত্রজগৎ থেকে ছিটকে মহাকাশের অন্ধকারে হারিয়ে যায়, তখন তার সঙ্গী চাঁদের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় একটি অদৃশ্য সীমানা—‘হিল ব্যাসার্ধ’।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মহাকাশে ভবঘুরে গ্রহের সংখ্যা অসংখ্য, যারা কোনো নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘোরে না
- 📌 গ্রহ যখন তার নক্ষত্রজগৎ থেকে ছিটকে যায়, তখন তার উপগ্রহের ভাগ্য নির্ধারণ করে ‘হিল ব্যাসার্ধ’ নামক সীমানা
- 📌 চাঁদ যদি গ্রহের হিল ব্যাসার্ধের ৪০ শতাংশের ভেতর থাকে, তবে গ্রহের সঙ্গে সেও নিরাপদে মহাকাশে পাড়ি জমায়
- 📌 হিল ব্যাসার্ধের অর্ধেক দূরত্ব পার হয়ে গেলে গ্রহ ও চাঁদ একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়
- 📌 বৃহস্পতির উপগ্রহ আইও, ইউরোপা, গ্যানিমিড ও ক্যালিস্টোর মতো চাঁদগুলো বৃহস্পতির সঙ্গেই নিরাপদে মহাকাশে যাত্রা করবে, যদি বৃহস্পতি কোনো কারণে সৌরজগৎ থেকে ছিটকে যায়
- 📌 ছিটকে পড়া গ্রহ ও চাঁদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই দূরত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয় না
- 📌 বিজ্ঞানীরা মাইক্রোলেন্সিং পদ্ধতিতে শনাক্ত হওয়া MOA-2011-BLG-262L নামক মহাজাগতিক বস্তুকে ভবঘুরে গ্রহ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যার নিজস্ব চাঁদ থাকতে পারে
📰 বিস্তারিত
মহাকাশের অসীম বিস্তৃতিতে অসংখ্য গ্রহ রয়েছে, যারা কোনো নির্দিষ্ট নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘোরে না। বিজ্ঞানের ভাষায় এদের বলা হয় ‘রোগ প্ল্যানেট’ বা ভবঘুরে গ্রহ। এসব গ্রহের মধ্যে অন্যতম হলো মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে অবস্থিত অসংখ্য মহাজাগতিক বস্তু। সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসের লিডেন অবজারভেটরির দুই গবেষক ইয়ানিক বাদু এবং সাইমন পোর্টেগিস জওয়ার্ট একটি যুগান্তকারী গবেষণা পরিচালনা করেছেন। তাদের গবেষণায় উঠে এসেছে, যখন কোনো গ্রহ তার নক্ষত্রজগৎ থেকে ছিটকে মহাকাশের অন্ধকারে হারিয়ে যায়, তখন তার সঙ্গী চাঁদের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় একটি অদৃশ্য সীমানা—‘হিল ব্যাসার্ধ’।
গবেষকরা সুপার কম্পিউটারের মাধ্যমে প্রায় ৩৪ হাজার নাক্ষত্রিক সংঘর্ষের সিমুলেশন তৈরি করেন। তারা দেখেছেন, চাঁদ যদি গ্রহের হিল ব্যাসার্ধের ৪০ শতাংশের ভেতর থাকে, তবে গ্রহটি ছিটকে যাওয়ার সময় চাঁদটিও নিরাপদে তার সঙ্গে মহাকাশে পাড়ি জমায়। এই ‘হিল ব্যাসার্ধ’ হলো এমন একটি সীমানা, যেখানে গ্রহটির নিজস্ব মহাকর্ষ বল তার নক্ষত্রের মহাকর্ষ বলের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়। সহজ ভাষায়, এটি একটি অদৃশ্য শিকলের মতো কাজ করে, যা চাঁদকে গ্রহের সঙ্গে বেঁধে রাখে।
তবে যদি চাঁদটি এই সীমানার অর্ধেক দূরত্ব পার হয়ে যায়, অর্থাৎ ৫০ শতাংশের বেশি দূরত্বে অবস্থান করে, তখন গ্রহ ও চাঁদ একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, ছিটকে পড়ার ঘটনাগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই গ্রহ ও চাঁদের মধ্যে দূরত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয় না। এর অর্থ হলো, চাঁদের বর্তমান কক্ষপথ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা অতীতের মহাজাগতিক ঘটনাগুলো সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন।
গবেষকদের মতে, আমাদের সৌরজগতের উপগ্রহগুলোর জন্য এই গবেষণা দারুণ সুখবর। যেমন, বৃহস্পতির উপগ্রহ আইও বৃহস্পতির হিল ব্যাসার্ধের এক-শতাংশের চেয়েও কম দূরত্বে ঘুরছে। তাই যদি কোনো কারণে বৃহস্পতি সৌরজগৎ থেকে ছিটকে যায়, তবুও আইও, ইউরোপা, গ্যানিমিড এবং ক্যালিস্টোর মতো চাঁদগুলো বৃহস্পতির সঙ্গেই নিরাপদে মহাকাশে যাত্রা করবে।
এছাড়া গবেষকরা মাইক্রোলেন্সিং পদ্ধতিতে শনাক্ত হওয়া MOA-2011-BLG-262L নামক মহাজাগতিক বস্তুকে ভবঘুরে গ্রহ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, এই গ্রহটি তার নক্ষত্র থেকে জন্মের সময় ৫.২ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট দূরত্বে ছিল। উল্লেখ্য, সূর্য থেকে বৃহস্পতির দূরত্বও প্রায় ৫.২ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট। যদিও এই মহাজাগতিক বস্তুটি সম্পর্কে আরও গবেষণা প্রয়োজন, তবে এটি ভবঘুরে গ্রহ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
"একটি গ্রহ যখন তার নক্ষত্রজগৎ থেকে ছিটকে যায়, তখন তার উপগ্রহের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় ‘হিল ব্যাসার্ধ’ নামক অদৃশ্য সীমানা। চাঁদ যদি এই সীমানার ৪০ শতাংশের ভেতর থাকে, তবে সেও নিরাপদে গ্রহের সঙ্গে মহাকাশে যাত্রা করে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র, লিডেন অবজারভেটরি, নেদারল্যান্ডস
- 👥 গবেষক দল: ইয়ানিক বাদু, সাইমন পোর্টেগিস জওয়ার্ট
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৪ হাজার সিমুলেশন, ৪০ শতাংশ হিল ব্যাসার্ধ, ৫০ শতাংশ বিচ্ছিন্ন হওয়ার দূরত্ব, ৯০ শতাংশ অপরিবর্তিত দূরত্ব, ৫.২ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!