📌 ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা আল-মোখা বন্দর নিয়ন্ত্রণ করে বাব-আল মানদেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হয়েছে। ইরানের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে ইরান। হরমুজ প্রণালির মতো এই প্রণালি অবরুদ্ধ হলে বৈশ্বিক তেল বাজারে সংকট সৃষ্টি হতে পারে
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী গতকাল বৃহস্পতিবার আল-মোখা বন্দর নিয়ন্ত্রণ করে লোহিত সাগরের উপকূল ধরে বাব-আল মানদেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হয়েছে। সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই কৌশলগত প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিলে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বড় ধরনের কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই অগ্রসরতা মার্কিন সরকারের জন্য নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা আল-মোখা বন্দর নিয়ন্ত্রণ করে বাব-আল মানদেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হয়েছে।
- 📌 বাব-আল মানদেব প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নিলে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কৌশলগত সুবিধা পাবে।
- 📌 হরমুজ প্রণালির মতো এই প্রণালি অবরুদ্ধ হলে বৈশ্বিক তেল বাজারে সংকট সৃষ্টি হতে পারে।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচন আগে হুতির অগ্রসরতা মার্কিন সরকারের জন্য নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।
- 📌 ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দক্ষিণে ধুবাব ও পেরিম দ্বীপের দিকে সরে যাচ্ছে।
- 📌 হুতিরা বাব-আল মানদেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে সেখানে অবাধে নৌ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
- 📌 ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে, কিন্তু ইয়েমেনে তাদের ভূমিকা সম্পর্কে কিছু বলেনি।
- 📌 তেলের দাম বেড়েছে বাব-আল মানদেব প্রণালি দিয়ে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়।
📰 বিস্তারিত
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী গতকাল বৃহস্পতিবার আল-মোখা বন্দর নিয়ন্ত্রণ করে লোহিত সাগরের উপকূল ধরে বাব-আল মানদেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হয়েছে। সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই অগ্রসরতার ফলে হুতিরা বাব আল-মানদেব প্রণালির ওপর আরও বেশি প্রভাব বিস্তার করেছে। লোহিত সাগরের দক্ষিণে অবস্থিত এই প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। হুতিরা বাব-আল মানদেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে তাদের পৃষ্ঠপোষক ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বড় ধরনের কৌশলগত সুবিধা পাবে।
ইরান ইতিমধ্যে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে যুদ্ধে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাব-আল মানদেব প্রণালি একই পরিস্থিতির মুখে পড়লে যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈশ্বিক জ্বালানির বাজার বড় সংকটে পড়বে। হুতিদের অগ্রসর হওয়ার এ ঘটনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য খারাপ খবর। ইরান যুদ্ধের কারণে নিজ দেশে ইতিমধ্যেই চাপের মুখে আছেন তিনি।
ইয়েমেন সরকারের সামরিক সূত্রগুলো বলেছে, হুতিরা বাব আল-মানদেব প্রণালির প্রবেশপথে পৌঁছে গেছে। এতে সেখানে অবাধে নৌ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি জেনিফার নাইডহার্ট ডি অর্টিজ হুতিদের ‘ইরানের এজেন্ট ও হাতিয়ার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘এ উত্তেজনা অগ্রহণযোগ্য। যাদের কারণে এটি সম্ভব হয়েছে, তাদের এর পরিণতির দায় নিতে হবে।’
ইয়েমেনের মানবিক কার্যক্রম সমন্বয় কেন্দ্র এক বিবৃতিতে বলেছে, সৌদি আরবের জাহাজ ছাড়া সব নৌপরিবহন প্রতিষ্ঠানের জন্য লোহিত সাগরে চলাচল নিরাপদ রয়েছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। জলপথটি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৌদি আরব জ্বালানি তেল রপ্তানিতে লোহিত সাগরের জলপথগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
"বাব–আল মানদেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে তাদের পৃষ্ঠপোষক ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বড় ধরনের কৌশলগত সুবিধা পাবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইয়েমেন (আল-মোখা বন্দর, বাব-আল মানদেব প্রণালি, লোহিত সাগর, হরমুজ প্রণালি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী, ডোনাল্ড ট্রাম্প, জেনিফার নাইডহার্ট ডি অর্টিজ, হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ শতাংশ (তেলের দাম বৃদ্ধি), ১০৫ ডলার (ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!