📌 ২০২৬ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ‘আশির দশকের মতো দেখতে’ ট্রেন্ড। এআই দিয়ে বর্তমান ছবি রূপান্তরিত করে নস্টালজিকাল স্টাইল তৈরি করছেন নেটিজেনরা। বাংলাদেশেও আশির দশকের ফ্যাশন প্রভাব ছিল ব্যাপক, যেখানে সিনেমা, টেলিভিশন ও পপ সংস্কৃতি নতুন ধারার পোশাককে জনপ্রিয় করেছিল। জেন-জিরা এখন অ্যানিমোইয়া বা অপরিচিত যুগের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করছেন
২০২৬ সালের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি নতুন নস্টালজিকাল ট্রেন্ড ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে নেটিজেনরা এআই টুল ব্যবহার করে নিজের বর্তমান ছবিকে আশির দশকের মতো রূপান্তরিত করছেন। ‘আমি যদি আশির দশকের হতাম, তাহলে কেমন দেখাত’ এই হ্যাশট্যাগের অধীনে ছবি শেয়ার করে অনেকেই নিজের বর্তমান ছবিকে পুরোনো দশকের ফ্যাশন স্টাইল দিয়ে সাজিয়ে ফেলছেন। লম্বা চুল, কাঁধজোড়া ওভারসাইজড ব্লেজার, বড় দুল, ফিকে রঙের ছবির দানাদার ভাব — সবকিছুই আশির দশকের নস্টালজিয়া ফিরিয়ে আনে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আশির দশকের মতো দেখতে’ ট্রেন্ডে নেটিজেনরা এআই দিয়ে নিজের ছবি রূপান্তরিত করছেন — লম্বা চুল, ওভারসাইজড ব্লেজার, বড় দুল, ফিকে রঙের দানাদার ছবির ভাবসহ।
- 📌 বাংলাদেশেও আশির দশক ছিল ফ্যাশনের এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগার — পোলকা ডট, হল্টার-নেক ব্লাউজ, বড় হুপ কানের দুল, ডিজাইনার শাড়ি, টাই-ডাই নকশা জনপ্রিয় হয়েছিল।
- 📌 সিনেমা, টেলিভিশন ও পপ তারকাদের প্রভাবে তরুণরা মিঠুন চক্রবর্তীর ডিস্কো স্টাইল, শ্রীদেবী ও রেখার শাড়ি-ব্লাউজ, পারভিন ববির পশ্চিমা পোশাক, জাফর ইকবালের ঢাকাই ফ্যাশন অনুসরণ করতেন।
- 📌 জেন-জিরা ‘অ্যানিমোইয়া’ বা অপরিচিত যুগের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করছেন — ডিজিটাল যুগে রেট্রো ফ্যাশন ও অ্যানালগ মিডিয়ার প্রতি টান।
- 📌 আশির দশকের ছবির অসম্পূর্ণতা ও দানাদার ভাব আজকের অতিরিক্ত মসৃণ ডিজিটাল দুনিয়ায় নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
📰 বিস্তারিত
আশির দশকের ফ্যাশন মূলত সংযমের বদলে বাড়াবাড়ির ধারা অনুসরণ করত। চওড়া কাঁধ, বড় চুল, উজ্জ্বল রং, নাটকীয় সিলুয়েট — সবকিছুই ছিল আকর্ষণীয়। বাংলাদেশেও এই সময় নারীরা পোশাক নিয়ে আগের চেয়ে বেশি নিরীক্ষা শুরু করেন। পোলকা ডট, হল্টার-নেক ব্লাউজ, বড় হুপ কানের দুল, ডিজাইনার শাড়ি, টাই-ডাই নকশা — সবই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পুরুষদের পোশাকেও পশ্চিমা প্রভাব বাড়ছিল। ঢাকা থেকে শুরু করে সারা বাংলাদেশে শার্ট, ট্রাউজার, ডেনিমের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। তবে পাঞ্জাবি, ফতুয়া স্যান্ডো, লুঙ্গি ও গেঞ্জি নিজের জায়গা ধরে রাখে।
আশির দশকের মাঝামাঝি নিউমার্কেট, সায়েন্স ল্যাবরেটরি ও এলিফ্যান্ট রোড ফ্যাশনের কেন্দ্রে পরিণত হয়। সিনেমা, টেলিভিশন ও পপ তারকাদের প্রভাবে তরুণরা নতুন ধারার পোশাকের প্রতি আগ্রহী হন। অমিতাভ বচ্চন, শ্রীদেবী, আজম খান, রুনা লায়লা, কবরী, ববিতা, জাফর ইকবাল — সবাই তখনকার ফ্যাশনকে ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখেন। ববিতার ফোলা চুলের স্টাইল, মিঠুন চক্রবর্তীর ডিস্কো ড্যান্সার গানের প্রভাব, শ্রীদেবী ও রেখার সিনেমার গানের অনুপ্রেরণা — সবই তরুণদের পোশাকের স্টাইলকে প্রভাবিত করে। পারভিন ববির পশ্চিমা ধাঁচের পোশাক, টাইট ট্রাউজার, বড় সানগ্লাস — সবই শহুরে তরুণীদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়।
১৯৮৯ সালে ‘বেদের মেয়ে জোস্না’ মুক্তির পর অঞ্জু ঘোষের সাজগোজ, বিশেষ করে রুপার গয়না, কপালে বড় টিপ ও গ্রামীণ ঘরানার পোশাকের ফ্যাশন দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। আজকের জেন-জিরা ‘অ্যানিমোইয়া’ বা অপরিচিত যুগের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করছেন। ডিজিটাল ও এআইনির্ভর সময়ে তারা রেট্রো ফ্যাশন ও অ্যানালগ মিডিয়ার প্রতি টান অনুভব করছেন। আশির দশকের ছবির অসম্পূর্ণতা ও দানাদার ভাব আজকের অতিরিক্ত মসৃণ ডিজিটাল দুনিয়ায় নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
"আশির দশকের ফ্যাশন ছিল বাড়াবাড়ি, নাটকীয় সিলুয়েট — চওড়া কাঁধ, বড় চুল, উজ্জ্বল রং। সে সময়ের ছবির দানাদার ভাব ও অসম্পূর্ণতা আজকের ডিজিটাল যুগে নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নেটিজেন, পপ তারকা (ববিতা, জাফর ইকবাল, শ্রীদেবী), ফ্যাশন প্রভাবিত ব্যক্তি (মিঠুন চক্রবর্তী, অঞ্জু ঘোষ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯৮০-এর দশক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!