📌 অভাবের কারণে স্কুল বন্ধ থাকলে মাকে নিয়ে ভিক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নীরব মিয়া। তার অন্ধ মা শিউলি আক্তারের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা কর্মকর্তারা তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন
নান্দাইল পৌরসভার ভূঁইয়াপাড়া গ্রামের চাঁন মিয়ার মেয়ে শিউলি আক্তার জন্ম থেকেই অন্ধ। তার স্বামী লালন মিয়া দুই সন্তান জন্মের পর তাদের দেখাশোনা করেননি। ফলে শিউলি তার দুই ছেলে নীরব ও রাব্বিকে নিয়ে আশ্রয় নেন দরিদ্র বাবা চাঁন মিয়ার বাড়িতে। অভাবের কারণে নীরবকে স্কুল বন্ধ থাকা শুক্র ও শনিবারে মাকে নিয়ে ভিক্ষায় নামতে হয়। দুই দিনে প্রায় হাজারখানেক টাকা আয় হয়, যা দিয়ে তাদের সংসার ও পড়াশোনার খরচ চলে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নীরব মিয়া নান্দাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী
- 📌 তার মা শিউলি আক্তার জন্ম থেকেই অন্ধ এবং স্বামী লালন মিয়া তাদের দেখাশোনা করেন না
- 📌 অভাবের কারণে স্কুল বন্ধ থাকা দিনগুলোতে মাকে নিয়ে ভিক্ষা করতে বাধ্য হন নীরব
- 📌 দুই দিনের ভিক্ষায় প্রায় হাজারখানেক টাকা আয় হয়, যা দিয়ে সংসার ও পড়াশোনার খরচ মেটান তারা
- 📌 স্থানীয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিলি আক্তার তাদের খাতা-কলম দিয়ে সহযোগিতা করেন
📰 বিস্তারিত
নান্দাইল পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ভূঁইয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শিউলি আক্তার জন্ম থেকেই দুই চোখে দেখতে পান না। ২০১৭ সালে জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের কালিয়ান গ্রামের লালন মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দুই সন্তান জন্মের পর লালন মিয়া তাদের দেখাশোনা করেননি। ফলে শিউলি তার দুই ছেলে নীরব ও রাব্বিকে নিয়ে আশ্রয় নেন দরিদ্র বাবা চাঁন মিয়ার বাড়িতে।
নীরব মিয়া নান্দাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার ছোট ভাই রাব্বি মিয়াও একই বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণিতে পড়ে। অভাবের কারণে তাদের মা শিউলি তাদের খরচ জোগাতে পারেন না। তাই প্রতি শুক্র ও শনিবার নান্দাইল বাজারে মাকে নিয়ে ভিক্ষা করেন নীরব। দুই দিনে প্রায় হাজারখানেক টাকা আয় হয়, যা দিয়ে তাদের সংসার ও পড়াশোনার খরচ চলে।
নীরব মিয়া বলেন, ‘স্কুলে পড়তে খরচ লাগে, কেউ টাকা দেয় না। স্কুল বন্ধ থাকা দিনেই আম্মাকে নিয়ে ভিক্ষা করতে বাজারে যাই। আব্বা তো নেই, কী করব?’ শিউলি আক্তার বলেন, ‘১০ বছর আগে বিয়ে হলেও স্বামী দুই সন্তান জন্মের পর আর খোঁজ রাখেনি। তিন মাস পরপর প্রতিবন্ধী ভাতার কিছু টাকা পেলেও তা দিয়ে সংসার চলে না। দুই ছেলে স্কুলে গেলে মজা কেনার জন্য বায়না ধরে। তাই বড় ছেলেটার সঙ্গে ভিক্ষা করতে বের হই।’
নান্দাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিলি আক্তার বলেন, ‘নীরব ও তার ছোট ভাই আমাদের স্কুলেই পড়াশোনা করে। শুনেছি শুক্র ও শনিবার স্কুল বন্ধের দিন সে তার মাকে নিয়ে ভিক্ষা করে। আমাদের স্কুল থেকে তাদের খাতা ও কলম দিয়ে সহযোগিতা করার চেষ্টা করি।’
নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত বলেন, ‘এ ধরনের মানুষদের সহযোগিতা করার জন্য আমরা প্রস্তুত। তাদের নিয়মিত আয় নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
‘স্কুলে পড়তে তো খরচ লাগে, কেউ তো টেহা দেয় না। স্কুল বন্ধ যে দিন, সেই দিনেই আম্মারে হাত ধইরা ভিক্ষা করি বাজারে।’ — নীরব মিয়া
‘১০ বছর আগে বিয়ে হলেও দুই সন্তান জন্মের পর আর খোঁজ রাখেনি স্বামী। তিন মাস পরপর প্রতিবন্ধী ভাতার কিছু টাকা পেলেও তা দিয়ে সংসার চলে না।’ — শিউলি আক্তার
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নান্দাইল পৌরসভা, ভূঁইয়াপাড়া গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নীরব মিয়া, শিউলি আক্তার, মিলি আক্তার, ফাতেমা জান্নাত
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ (শ্রেণি), ১০ (বছর), ৭০ (বয়স), ৩ (মিনিট ব্যবধান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!