📌 নাটোরের গুরুদাসপুরে নন্দকুঁজা নদীতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর পর জানাজায় মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির চেষ্টা করতে গিয়ে দুই পুলিশ সদস্য জনরোষের মুখে পড়েন। উত্তেজিত জনতা তাঁদের মারধর ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ওয়াপদা বাজারসংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে দুই শিশুর জানাজায় মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির দাবিতে উপস্থিত জনতার রোষের মুখে পড়েন দুই পুলিশ সদস্য। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ঘটনাটি ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা তাঁদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দুই শিশুর মৃত্যু ঘটে নন্দকুঁজা নদীতে গোসল করতে গিয়ে অচেতন হয়ে পড়ার পর
- 📌 জানাজায় উপস্থিত বিএনপি নেতা সামসুল হকের অভিযোগে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মরদেহ অনাবৃত করার অভিযোগ
- 📌 উত্তেজিত জনতা দুই পুলিশ সদস্য আবুল বাসার ও রাকিব হোসেনকে মারধর ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে
- 📌 ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন অন্তত ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২ শতাধিক গ্রামবাসী
- 📌 দুই পুলিশ সদস্য গ্রামবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেও মারধরের শিকার হন
📰 বিস্তারিত
গুরুদাসপুর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে লাম (৯) ও ফজলুর রহমানের ছেলে ফারহান (৯) দুজন নন্দকুঁজা নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাঁদের উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। সন্ধ্যায় দুই শিশুর মরদেহ গ্রামে নিয়ে আসা হয়।
ওয়াপদা বাজারসংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে জানাজার আয়োজন করা হয়। সেখানে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও চেয়ারম্যান প্রার্থী সামসুল হকসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সামসুল হক জানান, জানাজার প্রস্তুতির সময় দুই পুলিশ সদস্য সেখানে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির জন্য মরদেহ দুটি থানায় নেওয়ার কথা জানান। একপর্যায়ে মৃতদেহের কাফনের কাপড় খুলে অনাবৃত করার অভিযোগ করেন কয়েকজন উপস্থিত ব্যক্তি।
পুলিশের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন উপস্থিত সবাই। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুই শিশুর মরদেহ নিয়ে পুলিশের এমন তৎপরতা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। উত্তেজিত কয়েক ব্যক্তি দুই পুলিশ সদস্যের ওপর চড়াও হয়ে কিল-ঘুষি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা ওয়াপদা বাজারের একটি দোকানে আশ্রয় নেন।
"পুলিশের আচরণে গ্রামের অন্তত ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২ শতাধিক মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছিলেন। উত্তেজিত লোকজন দোকানটি ঘিরে মারমুখী অবস্থান নেন। পরে দুই পুলিশ সদস্য গ্রামবাসীর কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এরপরও তাঁদের কিল-ঘুষি ও ইটপাটকেলের শিকার হতে হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গুরুদাসপুর, নাটোর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সামসুল হক, আবুল বাসার, রাকিব হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ জন পুলিশ সদস্য, ২ জন শিশু, ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২ শতাধিক মানুষ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!