📌 নেত্রকোনার কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে রাজনৈতিক দলের পদধারী ব্যক্তিদের সভাপতি হওয়ার সুযোগ থাকবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। ইতোমধ্যে ১৯টি প্রতিষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছে
নেত্রকোনার কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে রাজনৈতিক দলের পদধারী ব্যক্তিদের সভাপতি হওয়ার সুযোগ থাকবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য কায়সার কামাল। তাঁর উদ্যোগে ইতোমধ্যে দুই উপজেলার অন্তত ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নেতৃত্বে পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলায় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হতে রাজনৈতিক দলের পদধারী ব্যক্তিদের অযোগ্য ঘোষণা করেছেন কায়সার কামাল
- 📌 দুই উপজেলার ৬টি বেসরকারি কলেজ, ৬টি কারিগরি কলেজ, ৫৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১৫টি মাদ্রাসায় পরিচালনা কমিটি গঠনের উদ্যোগ চলমান
- 📌 ইতোমধ্যে ১৯টি প্রতিষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নেতৃত্বে পরিচালনা কমিটি গঠিত হয়েছে
- 📌 পরিচালনা কমিটিতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির তাগিদ দিয়েছেন তিনি
📰 বিস্তারিত
কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে রাজনৈতিক দলের পদধারী ব্যক্তিদের সভাপতি হওয়ার সুযোগ না থাকার ঘোষণা দিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। তাঁর মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির হাতে কিছু ক্ষমতা থাকে, যা রাজনৈতিক অপব্যবহারের শিকার হতে পারে। তাই পরিচালনা কমিটিতে সক্রিয় রাজনীতিকদের পরিবর্তে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি ও সমাজের সম্মানিত নিরপেক্ষ নাগরিকদের যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
গত রোববার দুর্গাপুর উপজেলা মিলনায়তনে আয়োজিত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কায়সার কামাল তাঁর এ অবস্থানের কথা জানান। একই দিন কলমাকান্দা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভাতেও তিনি একই কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘যারা রাজনীতি করবেন, তাঁদের জন্য ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড কমিটি রয়েছে। তাই আমার নির্বাচনী এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হতে রাজনৈতিক পদধারী ব্যক্তিদের সুযোগ দেওয়া যাবে না।’
দুই উপজেলায় বর্তমানে ৬টি বেসরকারি কলেজ, ৬টি কারিগরি কলেজ, ৫৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১৫টি মাদ্রাসা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। অতীতে এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতির পদে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের নিয়োগের প্রবণতা ছিল। তবে কায়সার কামালের উদ্যোগ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী ব্যক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি হতে চাইলে তাঁকে আগে দলীয় পদ ছাড়তে হবে।
ইতোমধ্যে দুর্গাপুরের বারোমারি উচ্চবিদ্যালয়, কাকৈইগড়া উচ্চবিদ্যালয়, কৃষ্ণের চর উচ্চবিদ্যালয় ও কলমাকান্দা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়সহ অন্তত ১৯টি প্রতিষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নেত্রকোনা সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ননী গোপাল সরকার এ উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় পেশাদারত্ব বৃদ্ধি পাবে।
‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনোভাবেই রাজনৈতিক প্রভাবের জায়গা হতে পারে না। আমরা চাই শিক্ষার মান উন্নত হোক এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হোক। তাই যোগ্য, অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর, নেত্রকোনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কায়সার কামাল (ডেপুটি স্পিকার ও সংসদ সদস্য)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯টি প্রতিষ্ঠান, ৬টি কলেজ, ৫৯টি বিদ্যালয়, ১৫টি মাদ্রাসা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!