📌 ক্যানসার চিকিৎসায় বিপ্লব আনতে যাচ্ছে এমআরএনএ প্রযুক্তি। মার্ক ও মডার্নার যৌথ উদ্যোগে সফল হয়েছে তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল। কীভাবে কাজ করে এই ভ্যাকসিন? জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা
বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এমআরএনএ প্রযুক্তিনির্ভর ভ্যাকসিন। মার্ক ও মডার্না যৌথভাবে পরিচালিত ‘ইন্টারপাথ-০০১’ নামের তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সফল হওয়ার মধ্য দিয়ে এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে ক্যানসার পুনরায় ফিরে আসার হার বেশি থাকলেও এমআরএনএ ভ্যাকসিন এই প্রবণতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মার্ক ও মডার্নার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘ইন্টারপাথ-০০১’ ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সফল হয়েছে
- 📌 ক্যানসার পুনরায় ফিরে আসার হার কমাতে এমআরএনএ ভ্যাকসিন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে
- 📌 পেমব্রোলিজুমাব নামের ইমিউনোথেরাপি ক্যানসার কোষ ধ্বংসে সহায়তা করে
- 📌 নিওঅ্যান্টিজেন ভিত্তিক ভ্যাকসিন ৬ জন রোগীর মধ্যে ৪ জনের ক্যানসার ২৫ মাসেও ফিরে আসেনি
- 📌 বায়োএনটেকের গবেষণায় দেখা গেছে এমআরএনএ ভ্যাকসিন ক্যানসারের বিস্তার কমাতে সক্ষম
- 📌 কীনোট-৬০৩ নামের প্রথম মানব ট্রায়ালে অংশ নিয়েছিলেন ১৬ জন রোগী
📰 বিস্তারিত
ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে এমআরএনএ প্রযুক্তিনির্ভর ভ্যাকসিন। মার্ক ও মডার্না যৌথভাবে পরিচালিত ‘ইন্টারপাথ-০০১’ নামের তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সফল হওয়ার মধ্য দিয়ে এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে ক্যানসার পুনরায় ফিরে আসার হার বেশি থাকলেও এমআরএনএ ভ্যাকসিন এই প্রবণতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে পারে।
ক্যানসার চিকিৎসায় প্রচলিত পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি ও ইমিউনোথেরাপি। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর দুই বছরের মধ্যে ক্যানসার পুনরায় ফিরে আসে। এর প্রধান কারণ হলো ক্যানসার কোষের ধূর্ত প্রকৃতি। তারা নিজেদের চারদিকে এমন প্রোটিন তৈরি করে, যা শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করে দেয়। ফলে টি-সেল নামের প্রতিরোধ কোষগুলো ক্যানসার কোষকে শত্রু হিসেবে চিনতে পারে না।
এই সমস্যা সমাধানে ব্যবহৃত হয় পেমব্রোলিজুমাব নামের একটি ইমিউনোথেরাপি। এটি শরীরের টি-সেল-এর গায়ে থাকা ‘পিডি-১’ নামে একটি রিসেপ্টরকে বন্ধ করে দিয়ে টি-সেলগুলোকে সক্রিয় করে রাখে। ফলে টি-সেলগুলো ক্যানসার কোষগুলোকে চিনতে পারে এবং ধ্বংস করে দেয়। তবে সবার ক্ষেত্রে এই থেরাপি সমান কার্যকর নয়। কারণ প্রত্যেক ব্যক্তির ক্যানসারের ধরন আলাদা হয়ে থাকে।
এই সমস্যা সমাধানে বিজ্ঞানীরা উদ্ভাবন করেছেন নিওঅ্যান্টিজেন ভিত্তিক ভ্যাকসিন। এই ভ্যাকসিন ক্যানসার কোষের অস্বাভাবিক প্রোটিনকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়। ডানা-ফারবার নামে বিখ্যাত এক ক্যানসার গবেষণাকেন্দ্রের গবেষক প্যাট্রিক অট ও ক্যাথরিন উর দল ২০১৭ সালে নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখিয়েছিলেন, নিওঅ্যান্টিজেনকে লক্ষ্য করে বানানো ভ্যাকসিন দিয়ে ৬ জন রোগীর মধ্যে ৪ জনের ক্যানসার ২৫ মাসেও আর ফিরে আসেনি।
অন্যদিকে বায়োএনটেকের গবেষকেরা ১৩ জন মেলানোমা রোগীর প্রত্যেকের জন্য আলাদা করে আরএনএ ভ্যাকসিন তৈরি করেছিলেন। সেই ভ্যাকসিন দেওয়ার পর তাঁদের ক্যানসারের বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। এই দলটির গবেষণা থেকেই পরবর্তীতে কোভিড ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করা হয়েছিল। তাঁরা দেখিয়েছিলেন, শরীরে এমআরএনএ প্রবেশ করালে শরীর নিজেই সেখান থেকে প্রোটিন তৈরি করতে পারে।
তবে এমআরএনএ ভ্যাকসিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা। সাধারণ অবস্থায় শরীর যেকোনো আনমডিফায়েড আরএনএকে দ্রুত ধরে ফেলে এবং বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখায়। ফলে সাইটোকাইন স্টর্ম নামের মারাত্মক প্রদাহ দেখা দিতে পারে। এই সমস্যা সমাধানে কোভিড মহামারির সময় সিউডোইউরিডিন মডিফিকেশন ও লিপিড ন্যানোপার্টিকল প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। এর ফলে শরীরে কোনো বড় ধরনের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ছাড়াই এমআরএনএ প্রবেশ করানো সম্ভব হয়েছে।
এই প্রযুক্তির প্রথম মানব ট্রায়াল কীনোট-৬০৩ নামে পরিচিত। এই ট্রায়ালে অংশ নিয়েছিলেন মাত্র ১৬ জন রোগী। তাঁদের মধ্যে ৪ জনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গিয়েছিল। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এমআরএনএ ভ্যাকসিন ক্যানসার চিকিৎসায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।
"ক্যানসার পুনরায় ফিরে আসার হার কমাতে এমআরএনএ ভ্যাকসিন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে যেসব রোগীর ক্ষেত্রে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি কার্যকর হয় না, তাদের জন্য এটি একটি নতুন আশার আলো।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিশ্বব্যাপী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মার্ক ও মডার্না গবেষক দল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ জন, ৪ জন, ২৫ মাস, ১৩ জন, ১৬ জন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!