📌 উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশের পরও মোহাম্মদপুরের জনতার বাজার-১-এর প্রধান ফটকে তালা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন উদ্যোক্তারা। তারা ১০ দফা দাবি তুলে ধরেছেন, যার মধ্যে রয়েছে আদালতের নির্দেশনা মেনে বাজার চালু রাখা এবং প্রশাসনের অসহযোগিতা তদন্তের দাবি
মোহাম্মদপুরের জনতার বাজার-১-এর উদ্যোক্তারা উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশ লঙ্ঘন করে বাজারের প্রধান ফটকে তালা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। এই ঘটনায় উদ্যোক্তারা ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩ সেপ্টেম্বর বাজারের প্রধান ফটকে তালা দেওয়া হয়, যা উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশের বিরুদ্ধে
- 📌 উদ্যোক্তারা ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাজারের দখল অপরিবর্তিত রাখার দাবি জানিয়েছেন
- 📌 ১০ দফা দাবি তুলে ধরেছেন, যার মধ্যে রয়েছে জড়িত ব্যক্তিদের তদন্ত ও প্রশাসনিক দায়ের আইনগত যাচাই
- 📌 উদ্যোক্তারা দাবি করেন, জেলা প্রশাসনের কর্মচারীদের বেতনসহ অতিরিক্ত আর্থিক দায় তাদের ওপর চাপানো হয়েছে
- 📌 ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে উদ্যোক্তারা বাজার পরিচালনা করছেন, কিন্তু প্রশাসনের সহযোগিতা কমেছে বলে অভিযোগ
- 📌 সানোয়ারুল হক বলেন, বাজার পরিচালনায় প্রশাসনের দায়িত্ব পালন না করে উদ্যোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত খরচ চাপানো হয়েছে
📰 বিস্তারিত
মোহাম্মদপুরের জনতার বাজার-১-এর উদ্যোক্তারা উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশের পরও বাজারের প্রধান ফটকে তালা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে উদ্যোক্তা বোরহান উদ্দিন বলেছেন, ২০২৫ সাল থেকে তাঁরা বাজার পরিচালনা করছেন। তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল কৃষক ও উৎপাদকদের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য সংগ্রহ করে সাধারণ মানুষের কাছে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো।
বোরহান উদ্দিন জানান, আদালতের আদেশ অনুযায়ী স্থিতাবস্থা বজায় রাখা এবং বাজারটি আবার চালুর দাবি জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। তবে জেলা প্রশাসনের কর্মচারীদের বেতনসহ অতিরিক্ত আর্থিক দায় উদ্যোক্তাদের ওপর চাপানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। উদ্যোক্তারা দাবি করেন, কর্মচারীদের নিয়োগ, নিয়োগ বাতিল ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ জেলা প্রশাসনের হাতেই ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে উদ্যোক্তারা ১০ দফা দাবি তুলে ধরেছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া স্থিতাবস্থা বজায় রাখা এবং ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাজারের দখল অপরিবর্তিত রাখা
- বাজারে তালা দেওয়ার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তদন্ত
- বাজারের নীতিমালা পরিবর্তনের আগে সংশ্লিষ্ট কমিটি ও অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শের বিষয় খতিয়ে দেখা
- উদ্যোক্তাদের ওপর জেলা প্রশাসনের কর্মচারীদের বেতন-ভাতার দায়ের আইনগত ও প্রশাসনিক ভিত্তি যাচাই
- জবাইখানা নির্মাণের জন্য বরাদ্দ টিআর অর্থের ব্যবহার ও বর্তমান অবস্থা তদন্ত
- জনতার বাজার-১ ও ২-এর সরকারি অর্থ ব্যয় এবং পরিচালন ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ অডিট
- উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য ও প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ
- উদ্যোক্তাদের সময়, অর্থ ও ব্যবসায়িক ক্ষতির দায় নির্ধারণ
সানোয়ারুল হক বলেন, ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল তাঁদের সঙ্গে ঢাকা জেলা প্রশাসনের একটি চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, উদ্যোক্তারা সরাসরি উৎস থেকে পণ্য সংগ্রহ করে বাজারে সরবরাহ করবেন। তবে বাজার বন্ধ করে উদ্যোক্তাদের বাদ দেওয়ার চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁরা ২ শতাংশ সার্ভিস চার্জ জমা দেননি। সানোয়ারুল হকের দাবি, এই অর্থ উদ্যোক্তাদের জমা দেওয়ার কথা নয়। পণ্য বিক্রির সময় জেলা প্রশাসনের নিয়োজিত সুপারভাইজারেরই ২ শতাংশ সার্ভিস চার্জ কেটে রাখার কথা।
তিনি আরও বলেন, বাজার পরিচালনায় প্রশাসনের সহযোগিতা পুরোপুরি পাওয়া যায়নি। বাজারে যাওয়ার রাস্তা সংস্কার করতে নিজেদের উদ্যোগে কাজ করতে হয়েছে। প্রশাসনের দেওয়ার কথা থাকলেও সফটওয়্যার ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম উদ্যোক্তাদের নিজেদের অর্থে কিনতে হয়েছে। সাবেক জেলা প্রশাসক তানভীর আহমেদ চলে যাওয়ার পর বাজার পরিচালনায় প্রশাসনের অসহযোগিতা বেড়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন সানোয়ারুল হক।
"আমলাতান্ত্রিক জটিলতায়" পড়তে হয় বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা চাইতে গেলে। বাজারসংলগ্ন এলাকায় গরুর হাট বসানোর দায়ও উদ্যোক্তাদের ওপর চাপানো হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মোহাম্মদপুর, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বোরহান উদ্দিন, সানোয়ারুল হক, ঢাকা জেলা প্রশাসক মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ দফা দাবি, ৩ সেপ্টেম্বর, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!