📌 মেহেরপুর পৌরসভার ১০ কোটি টাকার নতুন পানি শোধনাগার চার বছর পরও চালু না হওয়ায় নাগরিকরা সুপেয় পানির অভাবে ভুগছেন। পাইপলাইনের ৫৫% আয়রন জমে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে
মেহেরপুর পৌরসভায় নির্মিত ১০ কোটি টাকার নতুন ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার চার বছর পরও চালু না হওয়ায় নাগরিকেরা সুপেয় পানির অভাবে ভুগছেন। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও পৌর কর্তৃপক্ষের প্রশিক্ষিত জনবল ও অর্থের অভাবের কারণে শোধনাগারটি কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মেহেরপুর পৌরসভায় নির্মিত ১০ কোটি টাকার পানি শোধনাগার ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত চালু না হওয়ায় নাগরিকেরা সুপেয় পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন
- 📌 প্রতিদিন ১ কোটি ২০ লাখ লিটার পানির চাহিদা থাকলেও পৌর কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করছে মাত্র ৫০ লাখ লিটার
- 📌 পাইপলাইনের ১৫০ কিলোমিটার মধ্যে ৫৫% আয়রন জমে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে, অনেক এলাকায় পানি পৌঁছায় না
- 📌 জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে শোধনাগারটি চালু অবস্থায় হস্তান্তর করা হয়েছে, কিন্তু পৌরসভা দাবি করে জনবল ও অর্থের অভাবের কারণে চালু করা সম্ভব নয়
- 📌 স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে দ্রুত কারিগরি জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে শোধনাগার চালু করার নির্দেশ দেওয়া দরকার
📰 বিস্তারিত
মেহেরপুর পৌরসভার পানিসংকটের প্রকটতা নাগরিকদের ভাষ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পৌর কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করা পানিতে ময়লা, পোকা ও শেওলা থাকে, যা গোসল বা কাপড় ধোয়ার কাজে ব্যবহার করা যায়, কিন্তু পান করা যায় না। পানি সরবরাহের এই সংকটের কারণে অনেকেই সাবমার্বিসল পাম্প বসিয়ে বা পানি কিনে নিজেদের চাহিদা মেটাচ্ছেন, যা পানির অপচয় সৃষ্টি করছে এবং নাগরিকদের বাড়তি খরচে ভোগা করছে।
২০১৫ সালে নির্মাণ শুরু হওয়া এই শোধনাগারটি ২০২২ সালের এপ্রিলে নির্মাণকাজ শেষ হয় এবং ২০২৪ সালের নভেম্বরে পৌরসভার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। তবে শোধনাগারটি চালু না হওয়ায় নাগরিকদের সুপেয় পানি পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য উদ্বেগজনক। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর দাবি করে শোধনাগারটি চালু অবস্থায় হস্তান্তর করা হয়েছে, কিন্তু পৌরসভার দাবি রয়েছে যে, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষিত জনবল ও অর্থের অভাবের কারণে শোধনাগারটি চালু করা সম্ভব নয়।
প্রশ্ন উঠেছে যে, যে প্রতিষ্ঠান শোধনাগার পরিচালনা করবে, তার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও সক্ষমতা নিশ্চিত না করেই এত বড় প্রকল্প নেওয়া হলো কেন? আবার হস্তান্তরের পরও শোধনাগারটি চালু না করার দায় কে নেবে?
"নতুন পানি শোধনাগার করার পরও এ অবস্থা চলতে দেওয়া যায় না। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও পৌরসভাকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। দ্রুত প্রয়োজনীয় কারিগরি জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে নতুন শোধনাগারটি চালু করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মেহেরপুর পৌরসভা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পৌর কর্তৃপক্ষ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ কোটি টাকা (শোধনাগার নির্মাণ খরচ), ১ কোটি ২০ লাখ লিটার (দৈনিক পানির চাহিদা), ৫০ লাখ লিটার (সরবরাহ করা পানি), ১৫০ কিলোমিটার (পাইপলাইন), ৫৫% (আয়রন জমে পানি সরবরাহ বন্ধ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!