📌 কবি জসীমউদ্দীন ও শেরেবাংলা আ.কে. ফজলুল হকের প্রথম পরিচয় ঘটে ১৯২৯-৩০ সালে ফরিদপুরের সৈয়দ আবদুর রবের মাধ্যমে। সৈয়দ রব ১৯২৮ সালে খাদেমুল এনছান সমিতি প্রতিষ্ঠা করে সমাজসেবা ও ধর্মীয় কুসংস্কার দূরীকরণে কাজ শুরু করেন। কলকাতা দাঙ্গা ও স্বাধীনতার পর সমিতির কার্যক্রম ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও তিনি ১৯৬৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন
১৯২৯-৩০ সালের দিকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কবি জসীমউদ্দীন ও রাজনীতিতে নতুন দিক খুঁজছিলেন শেরেবাংলা আ.কে. ফজলুল হক — তাদের প্রথম পরিচয় ঘটে ফরিদপুরের এক অলৌকিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ আবদুর রবের মাধ্যমে। সৈয়দ রবের জীবন ও কর্মকাণ্ডের গল্প এখনও অনেকের অজানা, কিন্তু জসীমউদ্দীন তার স্মৃতিচারণায় তাঁকে ‘প্রায়বিস্মৃত মহান মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯০৩ সালে জন্মগ্রহণকারী জসীমউদ্দীন ও সৈয়দ আবদুর রবের জন্মস্থান ও বয়স একই — ফরিদপুরের তাম্বূলখানা ও গেরদা গ্রামে।
- 📌 ১৯২৮ সালে ফরিদপুরে প্রতিষ্ঠিত খাদেমুল এনছান সমিতির সভাপতি ছিলেন জমিদার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, সম্পাদক ছিলেন সৈয়দ আবদুর রব।
- 📌 সমিতির উদ্দেশ্য ছিল: সমাজসেবা, শিক্ষার প্রসার, হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতির বিকাশ ও সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণ।
- 📌 ১৯৩২ সালে সমিতির প্রধান কার্যালয় কলকাতায় স্থানান্তরিত হয় এবং নাম পরিবর্তিত হয় কেন্দ্রীয় খাদেমুল এনছান সমিতি।
- 📌 মুয়াজ্জিন (বাংলা) ও সার্ভেন্ট অব হিউম্যানিটি (ইংরেজি) নামে দুটি ত্রৈমাসিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়, যেখানে জসীমউদ্দীন, কাজী নজরুল ইসলাম ও বেগম রোকেয়ার লেখা প্রকাশিত হয়।
- 📌 ১৯৪৬ সালের আগস্টে কলকাতা দাঙ্গায় সমিতির অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং সৈয়দ রব আহত হন।
- 📌 ১৯৬৯ সালের ২১ ডিসেম্বর সৈয়দ আবদুর রব মৃত্যুবরণ করেন, তার জীবনের শেষ লক্ষ্য ছিল হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতির সংহতি।
📰 বিস্তারিত
কবি জসীমউদ্দীন ও শেরেবাংলা আ.কে. ফজলুল হকের প্রথম পরিচয় ঘটে ফরিদপুরের সৈয়দ আবদুর রবের মাধ্যমে। সৈয়দ রব ১৯২৮ সালে ফরিদপুরে খাদেমুল এনছান সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন, যার উদ্দেশ্য ছিল সমাজসেবা, শিক্ষার প্রসার ও ধর্মীয় কুসংস্কার দূরীকরণ। সমিতির সভাপতি ছিলেন স্থানীয় জমিদার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী এবং সম্পাদক ছিলেন সৈয়দ আবদুর রব নিজে। এই সমিতি তৎকালীন সমাজের সমস্যা সমূহের সমাধান খুঁজতে চেষ্টা করেছিল।
জসীমউদ্দীন তার স্মৃতিচারণায় উল্লেখ করেছেন, সৈয়দ রবের নেতৃত্বে এই সমিতি মুয়াজ্জিন ও সার্ভেন্ট অব হিউম্যানিটি নামে দুটি পত্রিকা প্রকাশ করে। এই পত্রিকায় জসীমউদ্দীন, কাজী নজরুল ইসলাম ও বেগম রোকেয়ার মতো খ্যাতনামা লেখকদের লেখা প্রকাশিত হয়েছিল। এই পত্রিকাগুলি ছিল তৎকালীন সমাজে অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মতো, কিন্তু তাদের লক্ষ্য ছিল সমাজের সমস্যা সমাধানের জন্য গভীর চিন্তা ও কাজ।
১৯৩২ সালে সমিতির প্রধান কার্যালয় কলকাতায় স্থানান্তরিত হয় এবং নাম পরিবর্তিত হয় কেন্দ্রীয় খাদেমুল এনছান সমিতি। শেরেবাংলা আ.কে. ফজলুল হক এই সমিতির কার্যক্রম সম্প্রসারণে কলকাতার নিকটস্থ জমি দান করেন। কিন্তু ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্টের কলকাতা দাঙ্গায় সমিতির অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং সৈয়দ রব আহত হন। স্বাধীনতার পর তিনি ফরিদপুরে ফিরে আসেন, কিন্তু আর কার্যক্রম শুরু করতে পারেননি।
জসীমউদ্দীন লিখেছেন, স্বাধীনতার পর মুসলমানদের মধ্যে যে স্বজাতিপ্রেম ছিল, তা ‘কর্পূরের মতো উড়িয়ে গেল’। সৈয়দ রবের জীবনের শেষ লক্ষ্য ছিল হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতির সংহতি। তিনি বলেছিলেন, ‘দেশের মন্ত্রী বাহাদুরেরা অনেক বড় বড় সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত। খাদেমুল ইনসান সমিতির কথা তারা ভাবিবেন কেন?’
"মুর্দ্দা দাফন করিবার জন্য কখনো লোকের অভাব হয় না। কিন্তু অসুস্থ লোকের সেবা করিতে আমাদের ইমানদার ভাইদের একজনকেও দেখা যায় না। সেই কাজ রব আরম্ভ করিয়াছিল। জাতি–ধর্মনির্বিশেষে তার সেবার হস্ত সর্বত্র প্রসারিত হতো।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফরিদপুর (তাম্বূলখানা, গেরদা), কলকাতা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কবি জসীমউদ্দীন, শেরেবাংলা আ.কে. ফজলুল হক, সৈয়দ আবদুর রব, মোহাম্মদ ইউসুফ আলী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯০৩ (জন্মবছর), ১৯২৮ (সমিতি প্রতিষ্ঠা), ১৯৩২ (কলকাতায় স্থানান্তর), ১৯৪৬ (কলকাতা দাঙ্গা), ২১ ডিসেম্বর ১৯৬৯ (মৃত্যু)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!