📅 ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

মানিকগঞ্জের তিন ইউনিয়নে নৌপথ নির্ভর জীবনযাত্রা: দিনে হাজারো মানুষের যাতায়াত

মানিকগঞ্জের তিন ইউনিয়নে নৌপথ নির্ভর জীবনযাত্রা: দিনে হাজারো মানুষের যাতায়াত

📷 ছবি: Sarabangla

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 Sarabangla ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার তিন ইউনিয়ন সম্পূর্ণভাবে নদীবেষ্টিত হওয়ায় সেখানকার প্রায় বিশ হাজার মানুষের জীবনযাত্রা পুরোপুরি নৌপথের ওপর নির্ভরশীল। উপজেলা সদর বা জেলা সদরে যাতায়াত, চিকিৎসা, শিক্ষা ও কৃষিপণ্য পরিবহনে নৌকার বিকল্প নেই। তবে নৌযান চলাচলের অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতা এখানকার মানুষের জীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে।

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন—আজিমনগর, লেছড়াগঞ্জ ও সুতালড়ি পুরোপুরি নদীবেষ্টিত। জেলা সদর বা উপজেলা সদরে যাতায়াতের জন্য কোনো সড়কপথ না থাকায় এখানকার প্রায় ১৯ হাজার ৫৬২ জন মানুষের জীবন পুরোপুরি নির্ভর করছে ইঞ্জিনচালিত নৌকার ওপর। জনশুমারি অনুযায়ী, হরিরামপুর উপজেলার আয়তন ২৪৫ বর্গকিলোমিটার হলেও তিন ইউনিয়নের আয়তন মাত্র ৩৩ বর্গকিলোমিটারের কাছাকাছি।

🔴 মূল পয়েন্ট

  • 📌 হরিরামপুর উপজেলার তিন ইউনিয়ন—আজিমনগর, লেছড়াগঞ্জ ও সুতালড়ি সম্পূর্ণভাবে নদীবেষ্টিত
  • 📌 তিন ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৯ হাজার ৫৬২ জন
  • 📌 উপজেলা সদরে যাতায়াতের জন্য কোনো সড়কপথ নেই, নির্ভর করতে হয় নৌকার ওপর
  • 📌 প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাজারো মানুষ নৌকায় চড়ে যাতায়াত করেন
  • 📌 নৌযান চলাচলের অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতা এখানকার মানুষের জীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে

📰 বিস্তারিত

হরিরামপুর উপজেলা পদ্মা, যমুনা ও ইছামতি নদী দ্বারা পরিবেষ্টিত। জেলার সবচেয়ে বড় এই উপজেলায় ১৩টি ইউনিয়ন রয়েছে। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, উপজেলাটির মোট জনসংখ্যা ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪৬৯ জন। তবে আজিমনগর, লেছড়াগঞ্জ ও সুতালড়ি ইউনিয়নের চারপাশে নদী থাকায় এসব এলাকার মানুষের জীবন পুরোপুরি নৌপথের ওপর নির্ভরশীল।

আজিমনগর ইউনিয়ন আয়তনে ১৫ দশমিক ২৫ বর্গকিলোমিটার। এখানে ২৬টি গ্রামে বসবাস করেন ৫ হাজার ১৭৬ জন মানুষ। লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের আয়তন ১১ দশমিক ১৭ বর্গকিলোমিটার। এ ইউনিয়নের ১৭টি গ্রামে বসবাস করেন ১২ হাজার ৮০৪ জন। সুতালড়ি ইউনিয়নের আয়তন ৬ দশমিক ৩৮ বর্গকিলোমিটার। এ ইউনিয়নের ১৪টি গ্রামে বসবাস করেন ১ হাজার ৫৮২ জন। তিন ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৯ হাজার ৫৬২ জন।

এই তিন ইউনিয়নের মানুষের জীবনের প্রতিটি প্রয়োজনে নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয়। ভোর হতেই শুরু হয় ব্যস্ততা। কেউ যান উপজেলা সদরে, কেউ বাজারে, কেউ চিকিৎসকের কাছে। শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যেতে হয় নৌকায় চড়ে। কৃষকরা মাঠের ফসল নিয়ে যান হাটে। সবার গন্তব্য আলাদা হলেও ভরসা একটাই—নৌকা।

হরিরামপুরের আন্ধারমানিক ঘাট থেকে হরিণাঘাট হয়ে সবচেয়ে বেশি যাতায়াত করেন এই তিন ইউনিয়নের মানুষ। অন্যান্য ঘাট দিয়েও যাতায়াতের সুযোগ আছে। তবে আন্ধারমানিক ঘাটটি বেশি ব্যবহৃত হয়। ঘাট থেকে হরিণাঘাট যেতে সময় লাগে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ মিনিট। জনপ্রতি ভাড়া ৬০ টাকা। সকাল সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত প্রতিদিন হাজারো মানুষ নদী পার হন।

এই তিন ইউনিয়নের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত কয়েকজন শিক্ষক জানান, তাঁদের সকাল সাতটার ট্রলার ধরতে হয়। সবকিছু ঠিক থাকলে আটটার দিকে হরিণাঘাট গিয়ে পৌঁছান। তারপর সেখান থেকে মোটরসাইকেল বা সাইকেলে করে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। বিকেল সাড়ে পাঁচটার পর আর কোনো ট্রলার পাওয়া যায় না। সবচেয়ে কষ্ট হয় বর্ষা মৌসুমে। অসুস্থতা দেখা দিলে পরিবারের সদস্যরা চিন্তিত হয়ে পড়েন কীভাবে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া হবে।

সূতালড়ী ইউনিয়নের চরডুবাইল গ্রামের বাসিন্দা সোহেল মিয়া বলেন, ‘দিনে নৌকা পাওয়া গেলেও বিকেল সাড়ে পাঁচটার পর ট্রলার চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাতে কেউ অসুস্থ হলে দুই থেকে তিন হাজার টাকা দিয়ে নৌকা রিজার্ভ করতে হয়, যা দরিদ্র পরিবারের জন্য কঠিন। আর যদি ট্রলার পাওয়া না যায় তখন জেলেদের মাছ ধরার নৌকাই ভরসা। এতে নদী পার হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।’

কৃষক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমাদের উৎপাদিত শস্যগুলো ঝিটকা হাটে নিতে হলেও এই নদীপথে যেতে হয়। আবহাওয়া খারাপ থাকলে তখন ঘরে বসে থাকতে হয়। তাই এই রুটে যদি সরকার আমাদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন নৌপথে যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দিতেন তাহলে আমাদের হাজারো মানুষের উপকার হতো।’

আন্ধারমানিক ঘাটের ট্রলার চালক মো. ফরিদ জানান, যাত্রী ও মালামাল পরিবহণের জন্য এই ঘাটে ১২টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা রয়েছে। প্রতিদিন ছয়টি করে নৌকা চলাচল করে। মাস শেষে আয় থেকে নৌকার জ্বালানি ও অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ ১২ জন ট্রলার মালিকের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে নেওয়া হয়। প্রতিদিন এই নৌপথ দিয়ে প্রায় হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন।

‘এই নৌপথটি সম্পূর্ণ অনিরাপদ। উত্তাল নদীতে চলাচল করা কোনো নৌকাতেই যাত্রীদের জন্য জীবন রক্ষাকারী লাইফ জ্যাকেট বা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম নেই। উপজেলা প্রশাসন কিংবা জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে যাত্রীদের নিরাপত্তায় এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’ — পদ্মাপাড়ের আন্ধারমানিক ঘাটের বাসিন্দা আবিদ হাসান

📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ

  • 📍 স্থান: মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলা
  • 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সোহেল মিয়া, আলমগীর হোসেন, আবিদ হাসান, মো. ফরিদ
  • 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯ হাজার ৫৬২ জন, ২৪৫ বর্গকিলোমিটার, ১৩টি ইউনিয়ন

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖