📌 মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় ১৩ কোটি টাকার নলকূপ প্রকল্পে নির্মিত ১,১৭০টি নলকূপের ৬০% পানিতে আর্সেনিক ও আয়রন দূষণ পাওয়া গেছে। ঠিকাদাররা নির্ধারিত গভীরতা মেনে কাজ করেনি এবং উপকারভোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে।
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় সরকারি অর্থায়নে নির্মিত ১৩ কোটি টাকার নলকূপ প্রকল্পের পানি দূষিত হয়ে পড়েছে আর্সেনিক ও অতিমাত্রায় আয়রনের কারণে। প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত ১,১৭০টি সাবমারসিবল নলকূপের ৬০ শতাংশ পানিতে বিষাক্ত উপাদান শনাক্ত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ পানির অভাবের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় ১৩ কোটি টাকার প্রকল্পে ১,১৭০টি সাবমারসিবল নলকূপ ও ১৮টি কমিউনিটিভিত্তিক নলকূপ নির্মিত
- 📌 নির্মিত নলকূপের ৬০ শতাংশ পানিতে আর্সেনিক ও আয়রনের উপস্থিতি পরীক্ষায় পাওয়া গেছে
- 📌 ঠিকাদাররা নির্ধারিত গভীরতা মেনে কাজ করেনি; ৩৫০ থেকে ৪০০ ফুট পাইপ বসিয়ে কাজ শেষ করা হয়েছে
- 📌 উপকারভোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ
- 📌 পানির হলুদ বর্ণ এবং দূষিত অবস্থায় স্থানীয়রা ব্যবহারযোগ্য পানি পাচ্ছেন না
📰 বিস্তারিত
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় সরকারি অর্থায়নে গভীর নলকূপ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও তা ব্যর্থতা মোকাবেলা করছে। ডিপিএইচই প্রকল্পের আওতায় ১,১৭০টি সাবমারসিবল নলকূপ এবং ১৮টি কমিউনিটিভিত্তিক নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১,১৭০টি নলকূপ এবং ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৮টি কমিউনিটিভিত্তিক নলকূপ নির্মিত হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, নির্মিত নলকূপের ৬০ শতাংশ পানিতে আর্সেনিক ও আয়রনের উপস্থিতি রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আলিনূর বকস রতন জানান, তাঁর বাড়িতে স্থাপিত নলকূপের পানি পানযোগ্য নয়। তিনি বলেন, ‘নির্ধারিত গভীরতা মেনে কাজ করা হয়নি। ৩৫০ থেকে ৪০০ ফুট পাইপ বসিয়ে কাজ শেষ করা হয়েছে।’ অন্যদিকে, সাটুরিয়া ইউনিয়নের বলতলা গ্রামের আনোয়ার হোসেন পিটু জানান, তাঁর এলাকার কমিউনিটিভিত্তিক নলকূপের পানি হলুদ বর্ণের এবং আর্সেনিক ও আয়রনযুক্ত।
বালিয়াটি ইউনিয়নের খলিলাবাদ গ্রামের রিপন হোসেনের বাড়িতে নির্মিত নলকূপের গভীরতা ৫০০ ফুট হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু ঠিকাদাররা ৪০০ ফুট পাইপ বসিয়ে কাজ শেষ করেন। নিচে পাথর থাকায় আর গভীরে যাওয়া সম্ভব হয়নি। পরে পানির রং হলুদ হওয়ায় পরীক্ষা করালে আর্সেনিক শনাক্ত হয়।
"এই নলকূপের পানি দিয়ে গোসল করলে কাপড়ে হলুদ দাগ পড়ে। সাদা কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। তাই বাইরে থেকে পানি এনে গোসল করতে হচ্ছে।"
— আবুল হোসেন, সাটুরিয়া উপজেলার বাসিন্দা
সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রোকেয়া বেগম বলেন, দীর্ঘদিন আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করলে ত্বকের নানা সমস্যা, ফুসকুড়ি ও ক্যানসারের ঝুঁকি রয়েছে। কিডনি ও লিভারের সমস্যা হতে পারে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী আজিজুল হাকিম জানান, সাটুরিয়ার অধিকাংশ ইউনিয়নের ভূগর্ভস্থ পানির মান ভালো নয়। পানির স্তরের কারণে আর্সেনিক ও আয়রনমুক্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না। তবে প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা (বলতলা গ্রাম, দরগ্রাম ইউনিয়ন, বালিয়াটি ইউনিয়ন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলিনূর বকস রতন, আনোয়ার হোসেন পিটু, রিপন হোসেন, আবুল হোসেন, ডা. রোকেয়া বেগম, আজিজুল হাকিম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ কোটি টাকা (প্রকল্প ব্যয়), ১,১৭০টি নলকূপ, ১৮টি কমিউনিটিভিত্তিক নলকূপ, ৬০ শতাংশ (দূষিত নলকূপ), ৩৫০-৪০০ ফুট (পাইপ গভীরতা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!