📌 নওগাঁর মান্দায় ড্যান্ডি নেশায় চার শিশু আসক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত সাইকেল মেকার আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে মামলা দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা
নওগাঁর মান্দা উপজেলার দেলুয়াবাড়ি বাজারের সাইকেল মেকার আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে চার শিশুকে ড্যান্ডি নেশায় আসক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। রোববার বিকেলে মান্দা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এ অভিযোগ তুলে ধরেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অভিযুক্ত আব্দুল জলিলের সংস্পর্শে এসে চার শিশু ড্যান্ডি নেশায় আসক্ত হয়েছে বলে অভিযোগ
- 📌 অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা
- 📌 অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল
- 📌 অভিযুক্ত দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
নওগাঁর মান্দা উপজেলার দেলুয়াবাড়ি বাজারের সাইকেল মেকার আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে চার শিশুকে ড্যান্ডি নেশায় আসক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। রোববার বিকেলে মান্দা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এ অভিযোগ তুলে ধরেন। অভিযুক্ত আব্দুল জলিলের সংস্পর্শে এসে অন্তত চার শিশু ড্যান্ডি নেশায় আসক্ত হয়েছে বলে জানান তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে ফয়সাল হোসেন নামে এক শিশুর বাবা সোহেল রানা অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলে ফয়সাল হোসেন সাইকেল মেরামতের কাজে আব্দুল জলিলের দোকানে যেত। সেই যাওয়া-আসার সুযোগে পলিথিনে সলিউশন আঠা দিয়ে ফয়সালকে নেশায় আসক্ত করা হয়। সোহেল রানা আরও জানান, একপর্যায়ে ফয়সালকে দিয়ে তিনি বাসা থেকে কাঁসার থালা, বাটি ও গ্লাস নিয়ে যেতেন। এর বিনিময়ে তাকে সলিউশন আঠা দেওয়া হতো।
পরিবারের দাবি, নেশায় আসক্ত হওয়ার পর ফয়সাল বাড়িতে থাকা ডেকোরেটর ব্যবসার প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের বৈদ্যুতিক তার পরিবারের অগোচরে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দেয়। সম্প্রতি সাড়ে সাত হাজার টাকা মূল্যের একটি সাইকেলও মাত্র ৯০০ টাকায় আব্দুল জলিলের কাছে বিক্রি করে।
গত বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আব্দুল জলিলের কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ওই ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিতে আব্দুল জলিল মান্দা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সোহেল রানা ও তাঁর কয়েকজন স্বজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। একই ঘটনার একটি ‘কাল্পনিক ভিডিও’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন সোহেল রানা।
স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফয়সাল ছাড়াও জিহাদ, রাসেল ও তানভির নামের আরও তিন শিশু আব্দুল জলিলের সংস্পর্শে এসে ড্যান্ডির নেশায় আসক্ত হয়েছে। নেশায় জড়িয়ে পড়ায় ওই শিশুদেরও লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণ সাপেক্ষে আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
"আমার ছেলেকে নেশায় আসক্ত করার পর তাঁর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।"
সংবাদ সম্মেলনে দেলুয়াবাড়ি বাজারের ব্যবসায়ী লালচাঁদ শেখ, আনোয়ার হোসেন ও লিটন হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তবে অভিযুক্ত সাইকেল মেকার আব্দুল জলিল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মারধর ও চাঁদাদাবির বিষয়টি ভিন্নখাতে নিতে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দেলুয়াবাড়ি বাজার, মান্দা উপজেলা, নওগাঁ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আব্দুল জলিল (সাইকেল মেকার), ফয়সাল হোসেন (শিশু), সোহেল রানা (বাবা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯০০ টাকা, চারজন শিশু
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!