📌 নারায়ণগঞ্জ সদর ভূমি অফিসে হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি ও হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষরের জালিয়াতি আবিষ্কার করেন। তিনি বিষয়টিকে সরকারি দায়িত্বে অবহেলা হিসেবে উল্লেখ করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন
নারায়ণগঞ্জ সদর ভূমি অফিসে হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে নির্ধারিত সময়ে কর্মকর্তাদের উপস্থিত না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল। সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে অফিসে উপস্থিত হয়ে তিনি সকাল ৯টা পর্যন্ত বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনুপস্থিত পান। দুটি রাজস্ব সার্কেল অফিসের কর্মকর্তারা কার্যালয়ে উপস্থিত না থাকলেও হাজিরা খাতায় তাঁদের স্বাক্ষর দেখতে পান প্রতিমন্ত্রী।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল নারায়ণগঞ্জ সদর ভূমি অফিসে হঠাৎ পরিদর্শনে যান সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে
- 📌 সকাল ৯টা পর্যন্ত বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত না থাকলেও হাজিরা খাতায় তাঁদের স্বাক্ষর ছিল
- 📌 প্রতিমন্ত্রী বিষয়টিকে ‘জালিয়াতি’ উল্লেখ করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন
- 📌 ভূমি ব্যবস্থাপনার জটিলতা ও জনবলসংকটের বিষয়েও আলোচনা হয় পরিদর্শনকালে
- 📌 ভূমি প্রতিমন্ত্রী কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধির উপর জোর দেন
📰 বিস্তারিত
সোমবার সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ সদর ভূমি অফিসে হঠাৎ পরিদর্শনে যান ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল। তাঁর পরিদর্শনের সময় নারায়ণগঞ্জ সদর রাজস্ব সার্কেল, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কার্যালয়ে অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন না। পরে তিনি কার্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি হাজিরা খাতায় কর্মকর্তাদের আগাম স্বাক্ষর দেখতে পান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের সময়মতো উপস্থিত না হওয়া এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়ে তাঁর কাছে অনেক অভিযোগ আসছে। তিনি উল্লেখ করেন, ৩১ আগস্টের হাজিরা খাতায় সব কর্মকর্তার স্বাক্ষর থাকলেও তাঁরা কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না।
মীর হেলাল বলেন, ‘হাজিরা বইয়ে স্বাক্ষর আছে, কিন্তু তাঁরা হাজির ছিলেন না। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব হলো সময়মতো অফিসে এসে জনগণকে সেবা দেওয়া। মানুষ প্রাপ্য সেবা পাওয়ার জন্য সরকারি দপ্তরে আসেন।’
পরিদর্শনকালে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া ভূমি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন জটিলতার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, সিএস জরিপে নদী হিসেবে চিহ্নিত জায়গাগুলো পরবর্তী আরএস জরিপে ব্যক্তিমালিকানাধীন হয়ে পড়েছে, যার ফলে নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি আরও জানান, শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গা নদী ঘিরে এ ধরনের জটিলতা রয়েছে এবং নদী রক্ষা কমিশনের কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা রয়েছে।
রিনাত ফৌজিয়া জানান, এসব জটিলতার স্থায়ী সমাধানের জন্য উচ্চতর আদালতের নির্দেশনা প্রয়োজন। তিনি ভূমি অফিসগুলোতে জনবলসংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন। জবাবে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে এ বিষয়ে একটি কর্মশালা আয়োজনের আশ্বাস দেন।
‘জনগণকে সেবা দেওয়াই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব। রাষ্ট্র তাঁদের জনগণের সেবা করার জন্য দায়িত্ব দিয়েছে। তাই দায়িত্ব পালনে গাফিলতি বা অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নারায়ণগঞ্জ সদর ভূমি অফিস, নারায়ণগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: সকাল ৮টা ২৫ মিনিট, সকাল ৯টা, ৩১ আগস্ট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!