📌 ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের হরিপুর ইউনিয়নে জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে মন্টু কর্মকারের পরিবার গত ১৪ দিন ধরে নিজ বাড়িতেই অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী রফিক মিয়ার লোকজন বাঁশ ও টিন দিয়ে ঘর অবরোধ করে রেখেছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের কর্মকার পাড়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মন্টু কর্মকারের পরিবার গত ১৪ দিন ধরে নিজ বাড়িতেই অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। স্থানীয় প্রভাবশালী রফিক মিয়া ও তার লোকজন ঘরের সামনে ২০ ফুট লম্বা বাঁশ ও টিনের বেড়া দিয়ে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে পরিবারের সদস্যরা কার্যত বন্দি হয়ে রয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মন্টু কর্মকারের পরিবার গত ১৪ দিন ধরে নিজ বাড়িতেই অবরুদ্ধ
- 📌 রফিক মিয়া ও তার লোকজন বাঁশ ও টিন দিয়ে ঘর অবরোধ করে রেখেছেন
- 📌 পরিবারের ব্যবহারের শৌচাগার ও টিউবওয়েল অবরোধের ভেতরে পড়ে যাওয়ায় চরম সংকট
- 📌 মন্টু কর্মকারের স্ত্রী সুবর্ণা কর্মকার জানান, রোববার তাদের ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল
- 📌 স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন মন্টু কর্মকার
📰 বিস্তারিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের কর্মকার পাড়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মন্টু কর্মকারের পরিবার গত ১৪ দিন ধরে নিজ বাড়িতেই অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। স্থানীয় প্রভাবশালী রফিক মিয়া ও তার লোকজন ঘরের সামনে ২০ ফুট লম্বা বাঁশ ও টিনের বেড়া দিয়ে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে পরিবারের সদস্যরা কার্যত বন্দি হয়ে রয়েছেন। এমনকি পরিবারের ব্যবহারের শৌচাগার ও টিউবওয়েলটিও প্রভাবশালীদের দেয়া বেষ্টনীর ভেতরে পড়ে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, মন্টু কর্মকার ২০০৩ সালে তার চাচাতো ভাই উত্তম রায়ের কাছ থেকে সাবেক ১৮৯৭ দাগের ৬.৩৩ শতাংশ জমি মৌখিকভাবে কেনেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে দলিল লেখক আশিকুর রহমানের মাধ্যমে এর সাফ-কবলা দলিল সম্পাদন করেন। তবে ২০১৭ সালে একই জমি প্রতিবেশী রফিক মিয়ার কাছে পুনরায় বিক্রি করে দেন উত্তম। বিষয়টি জানতে পেরে আদালতে একটি মামলা করেন মন্টু। অভিযোগ উঠেছে, মামলার পর ক্ষুব্ধ হয়ে রফিক মিয়ার লোকজন এই অবরোধ সৃষ্টি করেন।
খবর পেয়ে নাসিরনগর উপজেলা থেকে একাধিক গণমাধ্যমকর্মী বুধবার (১৯ আগস্ট) সরেজমিনে হরিপুরে মন্টু কর্মকারের বাড়িতে যান। তারা গিয়ে দেখেন, ঘরের চৌকাঠ পেরোতেই সামনে ২০ ফুট লম্বা বাঁশ ও টিনের এক দুর্ভেদ্য বেড়া। উঠান থেকে বের হওয়ার পথটিতেও দেয়া হয়েছে ২৫ ফুট দীর্ঘ বাঁশের বেড়া। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে বাড়ির একমাত্র শৌচাগারটি। পরিবারের সদস্যদের তৃষ্ণা মেটানোর একমাত্র নলকূপটিও ঢেকে রাখা হয়েছে পরিত্যক্ত টিন আর ময়লার ভাগাড়ে।
নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ মন্টু কর্মকারের স্ত্রী সুবর্ণা কর্মকার সাংবাদিকদের জানান, রোববার (৯ আগস্ট) দিনের বেলায় তাদের ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল। পরে পুলিশের সহায়তায় ঘরে আসতে পারলেও বাঁশ আর টিনের বেড়া সরানো হয়নি। তিনি বলেন, ‘দিনের আলোয় শৌচাগার ব্যবহারের কোনো উপায় নেই আমাদের। তাই লোকলজ্জা চেপে রাতে প্রাকৃতিক কাজ সারতে ছুটতে হয় পাশের পুকুরপাড়ে। আর এক ফোঁটা খাবার পানির জন্য কলস হাতে নিয়ে প্রতিদিন যেতে হচ্ছে প্রতিবেশীদের বাড়িতে।’
‘রফিক মিয়ার লোকজন আমার বাড়িতে এসে হামলা করে। চারদিকে বাঁশ ও টিন দিয়ে বেড়া দিয়ে আমাদের ঘর থেকে বের করে দেয়।’ — মন্টু কর্মকার
মন্টু কর্মকার আরও বলেন, ‘জমি নিয়ে মামলা ও বাড়াবাড়ি করলে আমাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়া হয়। আমার পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি।’ তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হরিপুর ইউনিয়ন, নাসিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মন্টু কর্মকার, সুবর্ণা কর্মকার, রফিক মিয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ দিন, ৬.৩৩ শতাংশ, ২০ ফুট, ২৫ ফুট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!