📌 ৪ বছরের বিরতির পর কুষ্টিয়ার গড়াই নদীতে আবার শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচের তিনদিনব্যাপী উৎসব। নদীর তীরে সারি সারি নৌকা, মাঝিদের ছন্দময় বৈঠা এবং দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভরে উঠেছে উৎসবের আমেজ। আয়োজনে অংশ নেয়া রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয়দের উদ্যোগের পিছনে রয়েছে গ্রামীণ ঐতিহ্য সংরক্ষণের লক্ষ্য
৪ বছরের বিরতির পর কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর তীরে আবার ফিরে এল ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচের উৎসবমুখর দৃশ্য। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এই তিনদিনব্যাপী প্রতিযোগিতায় নদীর দুই পাড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবের আমেজ। ঘোড়াই ঘাট থেকে হরিপুর ব্রিজ এলাকার মধ্যে বিস্তৃত এই আয়োজনে নৌকার ছন্দময় বৈঠা, দর্শকদের করতালি এবং গ্রামীণ মেলার দৃশ্য সবকিছু মিলে উৎসবের মেজাজকে আরও গভীর করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪ বছরের বিরতির পর কুষ্টিয়ার গড়াই নদীতে আবার শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচের তিনদিনব্যাপী উৎসব (১৮-২০ সেপ্টেম্বর)।
- 📌 ৩ দিনব্যাপী প্রতিযোগিতায় নদীর তীরে সারি সারি নৌকা, মাঝিদের ছন্দময় বৈঠা এবং দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভরে উঠেছে উৎসবের আমেজ।
- 📌 অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহবার উদ্দিন। প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা।
- 📌 আয়োজক কমিটির আহবায়ক ইমরান হোসেন ইউনুস বলেন, এই আয়োজন গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ এবং যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
- 📌 গ্রামীণ মেলায় দেশীয় খাবার, খেলনা ও সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেছে দোকানীরা। শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেলায় ঘুরতে দেখা যায়।
📰 বিস্তারিত
১৮ সেপ্টেম্বর দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় নদীর তীরে জড়ো হয়েছে লাখো দর্শক। পরিবার নিয়ে, বন্ধুদের সঙ্গে বা একাকী — সবাই এ আয়োজন উপভোগ করতে এসেছেন। বিকেল ৪ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। নৌকা নদীর বুকে ছুটে চলার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। প্রিয় দলের নৌকা এগিয়ে গেলে তীর থেকে করতালি ও স্লোগানে মাঝিদের উৎসাহ দেন দর্শকরা। মাঝিদের বৈঠার ছন্দ এবং নৌকার গতির সঙ্গে দর্শকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে গড়াই নদীর পাড়।
নৌকাবাইচের আয়োজনে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়ন বাসীর উদ্যোগ ছিল। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএনপির সভাপতি ইমরান হোসেন ইউনুসের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহবার উদ্দিন। প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা। প্রধান বক্তা ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে ছিলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মোজাক্কির রহমান রাব্বি এবং দৈনিক মুক্তমঞ্চ পত্রিকার সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফ।
ইমরান হোসেন ইউনুস বলেন, গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে ধরে রাখতেই এই নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের আয়োজন না থাকায় আমাদের যুবসমাজের একটি অংশ মাদকসহ নানা অপসংস্কৃতির দিকে ঝুঁকে পড়ছে। তাই যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখা এবং তাদের সুস্থ বিনোদনের সুযোগ তৈরি করা এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হবে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার আয়োজন করা হবে।
"দেশনায়ক ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর থেকেই গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও লোকজ সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এই আয়োজন তার নির্দেশনা অনুযায়ী করা হয়েছে।"
কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, প্রতিবছর এই নৌকাবাইচের আয়োজন অব্যাহত থাকতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলাগুলো নিয়মিত আয়োজনের উদ্যোগ নিতে হবে। এসব আয়োজন আমাদের লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখার পাশাপাশি যুবসমাজকে মাদকসহ নানা সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুষ্টিয়া জেলা, গড়াই নদী (ঘোড়াই ঘাট থেকে হরিপুর ব্রিজ এলাকা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইমরান হোসেন ইউনুস (আয়োজক কমিটির আহবায়ক), অধ্যক্ষ সোহবার উদ্দিন (কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক), রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা (কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ বছর (বিরতি), ৩ দিন (আয়োজন), ১৮ সেপ্টেম্বর (শুরুর তারিখ), ৪ টা (প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!