📌 কুমিল্লার দক্ষিণ চর্থায় অবস্থিত শচীন দেববর্মনের জন্মস্থান অবহেলায় পড়েছে। সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিন ধরে থাকলেও কার্যকর উদ্যোগ নেই। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও স্থানীয় সংগঠনরা বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের দাবি জানাচ্ছে
কুমিল্লার দক্ষিণ চর্থায় অবস্থিত শচীন দেববর্মনের জন্মস্থান অবহেলায় পড়েছে। বাংলাদেশের প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ শচীন দেববর্মনের জন্মস্থানটি বছরের বেশিরভাগ সময় অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিন ধরে থাকলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শচীন দেববর্মনের জন্মস্থান কুমিল্লার দক্ষিণ চর্থায় অবস্থিত, যা অবহেলায় পড়েছে।
- 📌 ২০১৮ সাল থেকে প্রতিবছর ‘শচীন মেলা’ আয়োজন হলেও বাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নেই।
- 📌 বাড়িটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হলেও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
- 📌 সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ঐতিহ্য কুমিল্লা’র পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, সংস্কারের পরও বাড়িতে পূর্ণাঙ্গ কমপ্লেক্স নির্মাণ হয়নি।
- 📌 শচীন দেববর্মন ১৯০৫ সালের ১ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭৫ সালের ৩১ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।
- 📌 ‘শচীন মেলা-২০২৬’ শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে, যেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ শচীন দেববর্মনের জন্মস্থান কুমিল্লার দক্ষিণ চর্থায় অবস্থিত। তিনি ১৯০৫ সালের ১ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭৫ সালের ৩১ অক্টোবর ভারতের মুম্বাইয়ে মৃত্যুবরণ করেন। শচীন দেববর্মনের জন্মস্থানটি বছরের বেশিরভাগ সময় অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ঐতিহ্য কুমিল্লা’র পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জানান, বাড়িটি সংস্কার করা হলেও পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণ হয়নি।
কুমিল্লার ইতিহাস গবেষক আহসানুল কবীর বলেন, কুমিল্লার নাগরিক সমাজ দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে। তবে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বাড়িটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, কিন্তু নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত হয়নি।
২০১৪ সালে বাড়ির একাংশ উদ্ধার করা হয় এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সোয়া এক কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়। তবে সংস্কারের পরও বাড়ির অবস্থা আবার খারাপ হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মেলা উপলক্ষে বাড়িটি পরিষ্কার করা হলেও বছরের বেশিরভাগ সময় অরক্ষিত থাকে। অনেক সময় মাদকসেবীদের আনাগোনাও দেখা যায়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আলী রাজিব মাহমুদ জানান, প্রতিবছর শচীন দেববর্মনের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘শচীন মেলা’ আয়োজন করা হয়। এছাড়া সারা বছর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীরা তাঁকে নিয়ে সংগীত পরিবেশন করেন। তবে বাড়িতে পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণের দাবি অনেক দিনের।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান বলেন, বাড়িটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি। তাঁরা বাড়ির সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধনে কাজ করবেন। এখানে শচীন দেববর্মনের সৃষ্টি নিয়ে সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ তৈরির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে।
"বাড়িটি সংস্কার করা হলেও পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণ হয়নি। ফলে বাড়িটি আবারও পরিত্যক্ত অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে।"
শচীন দেববর্মনের বাবা নবদ্বীপ চন্দ্র দেব ছিলেন ত্রিপুরার রাজপরিবারের সন্তান ও সংগীতশিল্পী। দক্ষিণ চর্থার এ বাড়িতেই শচীন দেববর্মনের শৈশব ও কৈশোর কাটে। ১৯২৪ সালে কুমিল্লা ছেড়ে কলকাতায় যান তিনি। ১৯৪৪ সালে সপরিবার মুম্বাইয়ে পাড়ি জমান।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দক্ষিণ চর্থা, কুমিল্লা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শচীন দেববর্মন, আহসানুল কবীর, জাহাঙ্গীর আলম, আলী রাজিব মাহমুদ, আফরোজা খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯০৫ (জন্মবছর), ১ অক্টোবর (জন্মতिथি), ১৯৭৫ (মৃত্যুবছর), ৩১ অক্টোবর (মৃত্যুতिथি), ২০১৪ (বাড়ির উদ্ধার), ২০১৮ (স্ক্যান্সার শেষ), ৬ (কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!