📌 ১৯৯৮ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রকাশিত প্রিয়তমা গল্প 'তাবিজ' অবলম্বনে ফুটে উঠেছে গ্রামীণ জীবনের বিশ্বাস আর অন্ধবিশ্বাসের দ্বন্দ্ব। কুদরত আলীর মাধ্যমে তাবিজ ব্যবসার গল্পে মিশে আছে স্বপ্ন, পাথর আর দরগার খাদেমদের দ্বন্দ্ব
১৯৯৮ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রথম আলোর সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছিল কুদরত আলীর জীবনের গল্প। ছেলের অসুস্থতার সময় তার হাতের স্পন্দন থরথর করে কাঁপে। কপালে হাত রাখতেই মনে হয় যেন জীবনের শেষ আলো নিভে যাচ্ছে। কুদরত আলী তখনই ছেলের গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া তাবিজটির দিকে মনোযোগ দেন। দোচালা ঘরের অন্ধকারে তাবিজটির শক্তি নিয়ে সন্দেহ জাগে তার মনে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কুদরত আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলীর অসুস্থতার সময় তার হাতের স্পন্দন থরথর করে কাঁপে
- 📌 বাবা খানজাহানের দেওয়া তাবিজটিই ছিল তার একমাত্র ভরসা
- 📌 তাবিজ ব্যবসা চালাতে গিয়ে কুদরত আলী পাথরের গুঁড়া ব্যবহার শুরু করে
- 📌 দরগার খাদেমরা তাবিজের জন্য ব্যবহৃত পাথর দিতে অস্বীকৃতি জানায়
- 📌 কুদরত আলী একাই নয়, আরও কয়েকজন মিলে পুকুর থেকে কুমির ডাকার অভিনয় করে
📰 বিস্তারিত
কুদরত আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলীর অসুস্থতার সময় তার হাতের স্পন্দন থরথর করে কাঁপত। কপালে হাত রাখতেই মনে হতো যেন জীবনের শেষ আলো নিভে যাচ্ছে। কুদরত আলী তখনই ছেলের গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া তাবিজটির দিকে মনোযোগ দেন। দোচালা ঘরের অন্ধকারে তাবিজটির শক্তি নিয়ে সন্দেহ জাগে তার মনে। চব্বিশ বছর ধরে তিনি এই তাবিজ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। মানুষের হাতে তাবিজ তুলে দিয়ে তিনি সামান্য অর্থ গ্রহণ করেন। তবে এই ব্যবসা চালাতে গিয়ে তিনি নিজেও অনেক গোঁজামিল দিয়ে সংসার চালান।
বাবা খানজাহানের দেওয়া তাবিজটির প্রতি তার ছিল অগাধ বিশ্বাস। একরাতে স্বপ্নে দেখা সেই দৃশ্য তার মনে গেঁথে ছিল। ইয়া লম্বা-চওড়া ফরসা ধবধবে পুরুষের স্বপ্ন তাকে বারবার তাড়া করত। তবে এই বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে তিনি নিজেই তাবিজ ব্যবসা শুরু করেন। দরগার দক্ষিণে ঝোপের মধ্যে পাওয়া পাথর গুঁড়া করে তাবিজে ভরে মানুষদের মধ্যে বিলি করতে শুরু করেন। কিন্তু খাদেমরা এই পাথর দিতে অস্বীকৃতি জানায়। তারা মনে করে পাথরটি তাদের সম্পত্তি।
কুদরত আলী একা নয়, আরও কয়েকজন মিলে পুকুর থেকে কুমির ডাকার অভিনয় করে মানতকারীদের মনোরঞ্জন করেন। পুকুরের পানিতে সবুজ হারানো পদ্ম-শাপলার ভেতর কালা বা ধলা নামে দুটি কুমিরের উপস্থিতির গল্প ফাঁদেন। মানতকারীরা তাদের স্বপ্নভঙ্গের আশঙ্কায় পুকুরের পানি তছনছ করে ফেলে। খাদেমরা চারপাশে ঘুরঘুর করে চোখ ইশারা পাঠিয়ে দেয়। তাদের মুখে নেমে আসে পাথুরে গাম্ভীর্য। মানতকারীরা হতাশ হয়ে নিজ নিজ পথে ফিরে যায়।
"দূর দূর মুলুক থেকে মুরগি টেনে আনা বাজে ভোগান্তি, টাকা দিলে মাজারেই মেলে শুনে যারা মানতের দান খোঁজাখুঁজি করে, তাদের সামনে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাবা খানজাহানের দরগা এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কুদরত আলী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ (ডিসেম্বর মাস)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!