📌 খুলনা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে নির্মাণাধীন ১৭-তলা বিশেষায়িত হাসপাতালের নির্মাণ কাজ ২০২৭ সালের জুনে শেষ হবে। প্রকল্পের মেয়াদ ৩ দফায় বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ক্যানসার চিকিৎসায় সীমাবদ্ধতা থাকায় রোগীরা ঢাকায় যেতে বাধ্য হন
খুলনা: ক্যানসার, কিডনি ও হৃদ্রোগের বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য নির্মাণাধীন খুলনা মেডিকেল কলেজের বহুতল হাসপাতালের নির্মাণ কাজ ২০২৭ সালের জুনে শেষ হবে। প্রকল্পের মেয়াদ ৩ দফায় বাড়ানো হয়েছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগের পেছনে নির্মাণাধীন এই ১৭-তলা ভবনের কাঠামোগত কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। তবে সেবা শুরু করার জন্য যন্ত্রপাতি স্থাপন ও চিকিৎসক নিয়োগের প্রস্তুতি নিতে আরও সময় লাগবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খুলনা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে নির্মাণাধীন ১৭-তলা হাসপাতালের নির্মাণ কাজ ২০২৭ সালের জুনে শেষ হবে — মোট ৪ বছর দেরি
- 📌 প্রকল্পের মেয়াদ ৩ দফায় বাড়ানো হয়েছে — ২০২৩ থেকে ২০২৭ পর্যন্ত
- 📌 বর্তমানে খুলনা মেডিকেলে ক্যানসার চিকিৎসায় শুধু বহির্বিভাগে সীমিত পরিসরে কেমোথেরাপি দেওয়া হয় — ১২টি শয্যায়
- 📌 বছরে প্রায় ১৫ হাজার রোগী ক্যানসার চিকিৎসা নেয় — রক্তের ক্যানসার ছাড়া অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসা সামর্থ্য অনুযায়ী
- 📌 নির্মাণকাজের চুক্তিমূল্য ৮২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা — ২৩ হাজার ২৫০ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে নির্মিত
📰 বিস্তারিত
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগের পেছনে নির্মাণাধীন ১৭-তলা ভবনের মূল কাঠামো ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন তলায় দরজা-জানালা, থাই গ্লাস ও টাইলস বসানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বৈদ্যুতিক কাজেরও অধিকাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বাইরের অংশে রং ও ফিনিশিংয়ের কাজ চলছে। নির্মাণকাজ শেষে অস্থায়ী কাঠামো সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
খুলনার গণপূর্ত বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান জানান, প্রকল্পের পরিকল্পনা ও জটিলতার কারণে কাজ শেষ করতে দেরি হচ্ছে। তবে ভবনের নির্মাণ কাজ ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী বছরের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তরের লক্ষ্যে কাজ চলছে।
বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যানসার বিভাগ চালু হয়েছে ২০১৪ সালের ১৮ অক্টোবর। শুরুতে শয্যা ছিল ৮টি, কিন্তু অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতির অভাবে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমানে বহির্বিভাগে দুটি পালায় ১২টি শয্যায় কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। ওষুধ সরবরাহ না থাকলে রোগীদের বাইরে থেকে কিনতে হয়। বছরে প্রায় ২ হাজার নতুন রোগী আসে, যার মধ্যে পুরোনো রোগীদের ফলোআপসহ মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫ হাজারের বেশি।
২০১৯ সালে দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে ১০০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরে এর সঙ্গে কিডনি ও হৃদ্রোগের চিকিৎসাসেবা যুক্ত করা হয়। প্রকল্পের বাস্তবায়নে নানা জটিলতা দেখা দেয়, যার মধ্যে রয়েছে পুরাতন স্থাপনা সরানোর সমস্যা, নকশা পেতে দেরি, করোনা মহামারি, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন, বিদ্যুৎ সংকট, ডেঙ্গু ও অর্থ বরাদ্দের জটিলতা। খুলনায় এই প্রকল্পের ব্যয় ২৮০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।
"প্রকল্পের পরিকল্পনাসহ নানা জটিলতার কারণে কাজ শেষ করতে দেরি হচ্ছে। তবে ভবনের নির্মাণ কাজ ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বছরের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তরের লক্ষ্যে কাজ চলছে।"
খুলনা মেডিকেলের ক্যানসার বিভাগের প্রধান চিকিৎসক মো. মুকিতুল হুদা বলেন, পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার হাসপাতালটির ভবন নির্মাণ শেষ হলেই সেবা শুরু করা যাবে না। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন, চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল নিয়োগ এবং সেবা পরিচালনার প্রস্তুতি নিতে আরও সময় লাগবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খুলনা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণ, খুলনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কামরুল হাসান (নির্বাহী প্রকৌশলী), মো. মুকিতুল হুদা (ক্যানসার বিভাগের প্রধান চিকিৎসক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ তলা, ৮০ শতাংশ, ১২ শয্যা, ১৫ হাজার রোগী, ২৮০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!