📌 ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আইজিপির 'সরকারের অনুমতি পেলে ক্রসফায়ার' বক্তব্য প্রত্যাহার ও জবাবদিহি দাবি করেছে। সংস্থাটি আইজিপিকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের আহ্বান জানিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিচারবহির্ভূত হত্যার কথা বলাকে সংবিধান ও আইনের শাসনের বিরুদ্ধ বলে উল্লেখ করেছে
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সরকারের অনুমতি পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ক্রসফায়ার করবে বলে আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাহার ও জবাবদিহি দাবি করেছে। সংস্থাটি আইজিপিকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের আহ্বান জানিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতার বিকল্প হিসেবে বিচারবহির্ভূত হত্যার কথা বলাকে সংবিধান ও আইনের শাসনের বিরুদ্ধ বলে উল্লেখ করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 টিআইবি আইজিপির 'সরকারের অনুমতি পেলে ক্রসফায়ার' বক্তব্য প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছে
- 📌 আইজিপিকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের আহ্বান জানানো হয়েছে জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত
- 📌 আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ক্রসফায়ারের কথা বলা সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের বিরুদ্ধ
- 📌 পুলিশের বলপ্রয়োগ আইনসম্মত, প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক হতে হবে
- 📌 আগ্নেয়াস্ত্রের প্রাণঘাতী ব্যবহার কেবল জীবন রক্ষায় কঠোরভাবে অনিবার্য পরিস্থিতিতেই গ্রহণযোগ্য
📰 বিস্তারিত
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, পুলিশের দায়িত্ব পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে অপরাধী শনাক্ত করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করা। ক্রসফায়ারের কথা বলা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার সমাধান নয়, বরং পেশাগত ব্যর্থতার প্রকাশ। তিনি উল্লেখ করেছেন, আইজিপি একদিকে আইন ও সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের কথা বলেছেন, অন্যদিকে সরকারের অনুমতি পেলে ক্রসফায়ারের কথা বলেছেন। এ দুই অবস্থান পরস্পরবিরোধী।
ড. ইফতেখারুজ্জামান অতীতের ঘটনাগুলির উল্লেখ করে বলেছেন, সিনহা হত্যা মামলা, টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হকের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনা এবং নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্ষমতার অপব্যবহারের ভয়াবহতা স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, পুলিশ কী শিক্ষা নিয়েছে সেই প্রশ্নের উত্তর আইজিপিকেই দিতে হবে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর আইনমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সরকার সন্ত্রাস দমনে ক্রসফায়ারের পথে যাবে না; বিদ্যমান আইন দিয়েই তা সম্ভব। এরপরও আইজিপি কেন সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে ক্রসফায়ারের সম্ভাবনার কথা বলছেন, তার ব্যাখ্যা সরকারকে দিতে হবে। টিআইবি বলেছে, পুলিশের বলপ্রয়োগ হতে হবে আইনসম্মত, প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক। আগ্নেয়াস্ত্রের প্রাণঘাতী ব্যবহার কেবল জীবন রক্ষায় কঠোরভাবে অনিবার্য পরিস্থিতিতেই গ্রহণযোগ্য।
টিআইবি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অর্থ না পেয়ে পুলিশের সমালোচনা করার অভিযোগ প্রসঙ্গটিও উল্লেখ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ থাকলে প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। ঢালাও অভিযোগ মুক্ত গণমাধ্যমের নজরদারি ও জবাবদিহির ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে না।
"পুলিশের দায়িত্ব পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে অপরাধী শনাক্ত করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করা। ক্রসফায়ারের কথা বলা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার সমাধান নয়, বরং পেশাগত ব্যর্থতার প্রকাশ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. ইফতেখারুজ্জামান (টিআইবি নির্বাহী পরিচালক), আইজিপি (পুলিশের মহাপরিদর্শক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩১ ও ৩২ (সংবিধানের অনুচ্ছেদ), ১৪ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!