📌 খুলনা বড় বাজারের পাশে অবস্থিত শতাব্দীপ্রাচীন নীলকুঠি সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রায় হয়ে পড়েছে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই ভবনটি ১৭৮৬ সাল থেকে বড় বাজারের ইতিহাসের সাথে জড়িত ছিল। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে ভবনটি এখন মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে
খুলনা বড় বাজারের পাশে অবস্থিত শতাব্দীপ্রাচীন নীলকুঠি সম্পূর্ণ ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে। রেলওয়ে হাসপাতাল সড়কে বনজঙ্গলে ঘেরা এই জীর্ণ দালানটি দেখতে কঙ্কালের মতো — দেয়াল ভেঙে গেছে, সিঁড়ি ধসে পড়েছে, এবং ছাদের অবশিষ্টাংশ শুধু ইস্পাতের পিলারের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘ভূতের বাড়ি’ নামে পরিচিত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৭৮৬ সালে নীলকর চার্লি ভৈরব নদের তীরে ৪৩ শতাংশ জমিতে নির্মিত এই নীলকুঠি ছিল খুলনা অঞ্চলের প্রথম পাকা দালান।
- 📌 নীলকুঠির ওপরতলায় তিনটি ও নিচতলায় চারটি কামরা ছিল, যার সামনে ছিল খোলা বারান্দা।
- 📌 ১৮৮৪ সালে ব্রিটিশ সরকার রেলপথ স্থাপনের পর এটি ইন্ডিয়ান জেনারেল নেভিগেশন অ্যান্ড রেলওয়ে কোম্পানির কার্যালয়ে পরিণত হয়।
- 📌 ১৯৭১ সালের পর বিআইডব্লিউটিসি ৯৯ বছরের লিজ নিয়ে এটিকে আঞ্চলিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করে।
- 📌 ২০০১ সালে পুরোপুরি পরিত্যক্ত ঘোষিত হওয়ার পর থেকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে রয়েছে ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণ।
- 📌 নজরদারির অভাবে রাতের আঁধারে ইট, লোহা ও ছাদের টালি নিয়মিত চুরি হচ্ছে।
- 📌 স্থানটি এখন মাদকসেবী ও অপরাধীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
- 📌 বড় বাজারের শতবর্ষী মাড়োয়ারি দালানগুলিও জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
খুলনা বড় বাজারের জন্মের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই নীলকুঠি। ১৭৮৬ সালে নীলকর চার্লি ভৈরব নদের তীরে ৪৩ শতাংশ জমিতে ইট, চুন-সুরকি, লোহার খাম, কাঠের পাটাতন ও মাটির টালি দিয়ে এই দোতলা বাড়িটি নির্মাণ করেন। ওপরতলায় তিনটি ও নিচতলায় চারটি কামরা এবং সামনে ছিল খোলা বারান্দা। নদের তীরে চার্লির গড়া সেই হাটই কালক্রমে ‘সাহেবের বাজার’ হয়ে আজকের ‘বড় বাজার’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
১৮৮৪ সালে খুলনায় রেলপথ স্থাপিত হলে ব্রিটিশ সরকার এই ভবনটিকে ইন্ডিয়ান জেনারেল নেভিগেশন অ্যান্ড রেলওয়ে কোম্পানির কার্যালয়ে পরিণত করে। দেশভাগের পর এটি নেভিগেশনের প্রধান অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ১৯৭১ সালের পর বিআইডব্লিউটিসি ৯৯ বছরের লিজ নিয়ে এটিকে আঞ্চলিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। অবশেষে ২০০১ সালে ঐতিহাসিক ভবনটিকে পুরোপুরি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। তখন থেকে এর রক্ষণাবেক্ষণের সার্বিক দায়িত্ব বর্তায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ওপর।
দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটি এখন সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রায়। হঠাৎ দেখলে এটি যে একটি প্রাচীন ভবন, তা বোঝার কোনো উপায় নেই। স্থানীয় লোকজন জানান, নজরদারির অভাবে রাতের আঁধারে ভবনটি থেকে ইট, লোহা ও ছাদের টালি নিয়মিত চুরি হচ্ছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা ছাড়া আর কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। নির্জন এই স্থান এখন মাদকসেবী ও অপরাধীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
এই রুগ্ণ দশা বড় বাজারের শতবর্ষী মাড়োয়ারি দালানগুলোরও। ওয়েস্ট মেকট রোডের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এসব ভবন এখনো মাড়োয়ারি ব্যবসায়ীদের সোনালি অতীতের স্মৃতি বহন করছে। কিন্তু উপযুক্ত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এগুলোও এখন জীর্ণশীর্ণ। ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন।
"নজরদারির অভাবে রাতের আঁধারে ভবনটি থেকে ইট, লোহা ও ছাদের টালি নিয়মিত চুরি হচ্ছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা ছাড়া আর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খুলনা বড় বাজারের পাশে রেলওয়ে হাসপাতাল সড়ক, নীলকুঠি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নীলকর চার্লি, স্থানীয় লোকজন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৩ শতাংশ জমি, ৯৯ বছর লিজ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!