📌 দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষ বাহিনীতে ক্যাটওয়াক প্রশিক্ষণে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সামরিক শৃঙ্খলা নষ্ট করে ফ্যাশন মডেলের মাধ্যমে সেনাদের হাঁটাচলা শেখানো নিয়ে সমালোচনা জোরালো। সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু সেনাসদস্যদের প্রয়োজন অনুযায়ী নয়
দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষ বাহিনীতে ক্যাটওয়াক প্রশিক্ষণে সামরিক শৃঙ্খলা ও দায়িত্বের বিষয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের ফ্যাশন মডেলের মাধ্যমে হাঁটাচলা ও পোজ শেখানো নিয়ে সমালোচনার মুখে সেনাবাহিনী নিজেদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দক্ষিণ কোরিয়ার স্পেশাল ওয়ারফেয়ার কমান্ডের অধীন ফার্স্ট স্পেশাল ফোর্সেস ব্রিগেডে ২৯ অক্টোবর ‘কে-ওয়াকিং পারফরম্যান্স মিলিটারি ফেস্টিভ্যাল’ আয়োজিত, যেখানে ফ্যাশন মডেলদের মাধ্যমে সেনাদের ক্যাটওয়াক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়
- 📌 ভিডিওতে দেখা যায়, ছদ্মবেশী পোশাক ও হাই হিল পরা নারী মডেলরা সেনাসদস্যদের কীভাবে এক পায়ের সামনে অন্য পা রেখে হাঁটতে হয় এবং শরীর ঘোরাতে হয়, তা প্রদর্শন করছিলেন
- 📌 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে, প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু সেনাসদস্যদের প্রয়োজন ও বাহিনীর বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না
- 📌 বিরোধী দলের আইনপ্রণেতা পার্ক চুং-কোয়ন উত্তর কোরিয়ার রকেট উৎক্ষেপণের সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী ফ্যাশন মডেল নিয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বলে সমালোচনা করেছেন
- 📌 সেনাবাহিনী প্রথমে বলেছিল, প্রশিক্ষণ ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নের অংশ, কিন্তু পরে স্বীকার করেছে বিষয়বস্তু যথাযথভাবে যাচাই না করেই আয়োজন করা হয়েছিল
📰 বিস্তারিত
দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ারফেয়ার কমান্ডের অধীন ফার্স্ট স্পেশাল ফোর্সেস ব্রিগেডের ঘাঁটি ২৯ অক্টোবর ‘কে-ওয়াকিং পারফরম্যান্স মিলিটারি ফেস্টিভ্যাল’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিল। এই অনুষ্ঠানে ফ্যাশন মডেলদের মাধ্যমে সেনাদের ক্যাটওয়াক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রশিক্ষণে ছদ্মবেশী সামরিক পোশাক ও হাই হিল পরা নারী মডেলরা সেনাসদস্যদের কীভাবে এক পায়ের সামনে অন্য পা রেখে হাঁটতে হয়, শরীর ঘোরাতে হয় এবং হাত বাঁকিয়ে বিভিন্ন ভঙ্গিতে দাঁড়াতে হয়, তা প্রদর্শন করছিলেন। পরে পুরুষ সেনাসদস্যরা তাদের অনুসরণ করে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন।
এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী। বিশেষ করে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক অভিযান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের এ ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এক্স প্ল্যাটফর্মে একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, বিশেষ অভিযান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বাহিনীর প্রশিক্ষণে এ ধরনের আয়োজনের উদ্দেশ্য বোঝা কঠিন।
বিরোধী দল পিপল পাওয়ার পার্টির আইনপ্রণেতা পার্ক চুং-কোয়নও এই ঘটনার সমালোচনা করেছেন। তিনি ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, উত্তর কোরিয়া যখন স্থলমাইন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করছে, তখন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিশেষ বাহিনীর সেনাদের হাঁটাচলা শেখাতে ফ্যাশন মডেল নিয়ে আসছে। তিনি আরও বলেছেন, সামরিক বাহিনীর এমন কর্মকাণ্ডের দায় সাধারণ সেনাসদস্যদের ওপর চাপানো উচিত নয়। বরং এ ঘটনায় অভিজাত সেনাদের যে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে, তার দায় সেনাবাহিনীকেই নিতে হবে।
প্রথমে সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, প্রতি ছয় মাসে একবার আয়োজিত ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। সেনাদের শারীরিক ভঙ্গি, হাঁটাচলা ও সামরিক শৃঙ্খলাবোধ উন্নত করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। তবে সমালোচনার মুখে সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু যথাযথভাবে যাচাই না করেই আয়োজনটি করা হয়েছিল। তিনি বলেছেন, বাহিনীর বৈশিষ্ট্য, সেনাসদস্যদের প্রয়োজন ও প্রত্যাশার সঙ্গে এই প্রশিক্ষণ সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের আগে সেনাসদস্যদের মতামত নেওয়া এবং প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু যথাযথভাবে পর্যালোচনা করার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
"উত্তর কোরিয়া যখন স্থলমাইন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করছে, তখন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিশেষ বাহিনীর সেনাদের হাঁটাচলা শেখাতে ফ্যাশন মডেল নিয়ে আসছে। সামরিক বাহিনীর এমন কর্মকাণ্ডের দায় সাধারণ সেনাসদস্যদের ওপর চাপানো উচিত নয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দক্ষিণ কোরিয়া (ফার্স্ট স্পেশাল ফোর্সেস ব্রিগেডের ঘাঁটি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পার্ক চুং-কোয়ন (পিপল পাওয়ার পার্টির আইনপ্রণেতা), সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, ফ্যাশন মডেল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ নভেম্বর (সমালোচনার তারিখ), ২৯ অক্টোবর (প্রশিক্ষণ আয়োজন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!